বিশেষ প্রতিবেদক · ২১ অক্টোবর, ২০২৬ ১০:০০ অপরাহ্ন
চা-বাগানের জন্য পরিচিত মৌলভীবাজারে নতুন করে সম্ভাবনা তৈরি করছে কফি চাষ। একসময় এ অঞ্চলে চায়ের পাশাপাশি কফি উৎপাদন ও প্রক্রিয়াজাতকরণের কার্যক্রম থাকলেও পরে তা অনেকটা হারিয়ে যায়। দীর্ঘ বিরতির পর সরকারি উদ্যোগ, কৃষকদের আগ্রহ এবং পতিত জমি ব্যবহারের সুযোগকে কাজে লাগিয়ে আবারও কফি চাষে ঝুঁকছেন অনেকে।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উদ্যোগে জেলার বিভিন্ন এলাকায় কফি চাষ সম্প্রসারণের কার্যক্রম চলছে। কৃষকদের বিনা মূল্যে অ্যারাবিকা ও রোবাস্তা জাতের চারা বিতরণের পাশাপাশি দেওয়া হচ্ছে কারিগরি সহায়তা। জেলার সদর, শ্রীমঙ্গল, রাজনগর ও আকবরপুর এলাকায় কফি চাষের বিস্তার ঘটছে বলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানিয়েছেন।
মৌলভীবাজার কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত উপপরিচালক নীলুফার ইয়াসমিন মোনালিসা সুইটি দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, জেলায় কফি চাষের পরিধি বাড়ছে। কৃষকেরা পতিত জমি ও মিশ্র ফলের বাগানে কফি চাষ করছেন। এ খাতের সম্প্রসারণে উচ্চপর্যায়ে প্রস্তাবও পাঠানো হয়েছে।
কৃষকদের অভিজ্ঞতাও এ চাষে আগ্রহ বাড়াচ্ছে। আকবরপুরের কৃষক আব্দুল মান্নান প্রায় ১ হাজার ৮০০ কফিগাছ চাষ করছেন। তিনি দ্য ডেইলি স্টারকে জানিয়েছেন, কফি বিক্রি করে ইতিমধ্যে লক্ষাধিক টাকা আয় করেছেন।
শ্রীমঙ্গলের ডলুছড়া গ্রামের তরুণ উদ্যোক্তা আতর আলী তিন বছর আগে ৩০০ কফিগাছ লাগিয়েছিলেন। তিনি জানান, ওই গাছের উৎপাদিত কফি থেকে ২৫ হাজার টাকা আয় হয়েছে।
শুধু ব্যক্তিগত উদ্যোগে নয়, চা-বাগানেও কফি চাষের আগ্রহ দেখা যাচ্ছে। রাজনগরের উত্তরবাগ চা-বাগানে ইতিমধ্যে ৩ হাজার কফির চারা রোপণ করা হয়েছে। বাগানটির জ্যেষ্ঠ ব্যবস্থাপক মো. লোকমান চৌধুরী দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, কফি চাষে তারা বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট ও কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের সহযোগিতা পাচ্ছেন।
কৃষিবিদ সুকল্প দাসের বলেন, মৌলভীবাজারে কফি চাষের ইতিহাস নতুন নয়। ব্রিটিশ শাসনামলে ফিনলে কোম্পানি জেলার জগছড়া ও সোনাছড়া চা-বাগানে কফির বাগান এবং প্রক্রিয়াজাতকরণ কেন্দ্র পরিচালনা করত। তবে ১৯৮০-এর দশকের মাঝামাঝি সময় থেকে চায়ের চাহিদা ও বাণিজ্যিক সম্প্রসারণের কারণে কফি চাষ ধীরে ধীরে বন্ধ হয়ে যায়।
সুকল্প দাস মনে করেন, এ অঞ্চলের জলবায়ু ও ভূপ্রকৃতি কফি চাষের জন্য উপযোগী। পরিকল্পিতভাবে চাষ, যথাযথ ব্যবস্থাপনা এবং কৃষকদের প্রয়োজনীয় সহায়তা নিশ্চিত করা গেলে মৌলভীবাজার দেশের অন্যতম কফি উৎপাদনকারী অঞ্চলে পরিণত হতে পারে।
গুগলে আমাদের খবর পেতে
