চীনের সীমান্তবর্তী শহর দানডংয়ে এক দিনের সফর শেষে শনিবার (২৪ অক্টোবর) দেশে ফিরেছেন উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উন। চীনের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম এ তথ্য জানিয়েছে। তবে আকস্মিক এ সফরের উদ্দেশ্য স্পষ্ট করা হয়নি। চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে কিমের কোনো বৈঠক হয়েছে কি না, সে বিষয়েও কিছু জানানো হয়নি।
ধারণা করা হচ্ছে, গত সপ্তাহে আনুষ্ঠানিকভাবে চালু হওয়া একটি গুরুত্বপূর্ণ সীমান্ত সেতু দিয়ে চীনে প্রবেশ করেন কিম। সেতুটি ২০১৪ সালে নির্মিত হলেও সংযোগ সড়ক ও শুল্কসুবিধার অভাবে এত দিন চালু করা যায়নি। সেতুটি চালুর মধ্য দিয়ে কূটনৈতিকভাবে বিচ্ছিন্ন উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে চীনের অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও গভীর হওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে।
কিমের এই সফরের বিষয়ে আগে থেকে কিছু জানায়নি উত্তর কোরিয়া বা চীন। দক্ষিণ কোরিয়ার আইনপ্রণেতা ইউন কুন-ইয়ং জানিয়েছেন, শনিবার কিমের সঙ্গে চীনের প্রধানমন্ত্রী লি ছিয়াংয়ের বৈঠক হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
তবে চীনের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম সিনহুয়ার প্রতিবেদনে শি জিনপিং বা লি ছিয়াংয়ের সঙ্গে কিমের বৈঠকের কথা উল্লেখ করা হয়নি। বরং এতে বলা হয়েছে, চীনের শীর্ষ রাজনৈতিক উপদেষ্টা ওয়াং হুনিং দানডংয়ে কিমের সঙ্গে ছিলেন এবং সফর শেষে সেতুতে তাকে বিদায় জানান।
সফরের উদ্দেশ্য ও ফলাফল স্পষ্ট না হলেও উত্তর কোরিয়ার সবচেয়ে বড় বাণিজ্যিক অংশীদার চীন। দেশটি উত্তর কোরিয়াকে গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক, অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক সহায়তাও দিয়ে থাকে।
সিনহুয়ার বরাতে জানা গেছে, ওয়াং হুনিং বলেছেন, দুই দেশের বন্ধুত্বের প্রতি জনগণের সমর্থন সুসংহত করা, রাজনৈতিক পারস্পরিক আস্থা বাড়ানো এবং যৌথভাবে সহযোগিতা ও উন্নয়ন এগিয়ে নেয়ার ক্ষেত্রে এই সফর গুরুত্বপূর্ণ। দুই দেশের সার্বভৌমত্ব, নিরাপত্তা ও উন্নয়নের স্বার্থ রক্ষায় শান্তিপূর্ণ ও স্থিতিশীল পরিবেশ তৈরির জন্য জনসম্পর্ক, অর্থনৈতিক সহযোগিতা ও কৌশলগত সমন্বয় বাড়ানোর কথাও বলেন তিনি।
এ সময় ওয়াং হুনিং কিমের কাছে শি জিনপিংয়ের আন্তরিক শুভেচ্ছা ও শুভকামনা পৌঁছে দেন।
চীন ও উত্তর কোরিয়া যে তারিখে কোরীয় যুদ্ধে চীনা সেনাদের অংশগ্রহণ স্মরণ করে, সফরটি তার কাছাকাছি সময়ে হয়েছে। সিনহুয়ার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কিম যুদ্ধে নিহত সেনাদের স্মরণে আয়োজিত অনুষ্ঠানে অংশ নেন এবং একটি গাড়ি কারখানা পরিদর্শন করেন। এসব কর্মসূচিতে চীনের শীর্ষ কূটনীতিক ওয়াং ইও অংশ নেন।
দক্ষিণ কোরিয়ার আইনপ্রণেতা ইউন জানান, শুক্রবার তাকে কিমের সম্ভাব্য সফর সম্পর্কে অবহিত করা হয়েছিল। তার মতে, এই সফর যুক্তরাষ্ট্র ও উত্তর কোরিয়ার সম্ভাব্য শীর্ষ বৈঠকের বিষয়ে ইতিবাচক বার্তা দিতে পারে।
