কালবেলা · রাজনীতি
‘কী খবর মাসুদ, ভালো’- চট্টগ্রামের এসপিকে প্রধানমন্ত্রী
২১/১০/২০২৬

‘কী খবর মাসুদ, ভালো?’- প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের এমন আন্তরিক প্রশ্ন ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনা তৈরি হয়েছে। শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার (এসপি) মো. মাসুদ আলমের সঙ্গে করমর্দনের সময় এ কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী।
জবাবে এসপি বলেন, ‘স্যার, স্যার।’ সংক্ষিপ্ত এই কথোপকথনের ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর আলোচনায় এসেছে মাসুদ আলমের দায়িত্ব পালনকালের সাফল্যও। শীর্ষ সন্ত্রাসী গ্রেপ্তার, অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার ও অপরাধী চক্রের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনার ঘটনাগুলোর সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর এই কথোপকথন মিলিয়ে দেখছেন অনেকে।
শারদীয় দুর্গোৎসব উপলক্ষে পূজামণ্ডপ পরিদর্শন ও সাংগঠনিক সভায় যোগ দিতে মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) চট্টগ্রামে যান প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। রাত ৭টা ৪০ মিনিটে তাকে বহনকারী সামরিক বিমানটি শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে।
প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানাতে উপস্থিত ছিলেন- অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি, চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র শাহাদাত হোসেন, স্থানীয় সংসদ সদস্যসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও বিভিন্ন সরকারি সংস্থার কর্মকর্তারা।
বিমান থেকে নেমে সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে থাকা ব্যক্তিদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন প্রধানমন্ত্রী। এ সময় জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য শাহজাহান চৌধুরীর সঙ্গেও করমর্দন করেন তিনি। একপর্যায়ে এসপি মাসুদ আলমের দিকে তাকিয়ে তার খোঁজখবর নেন। প্রধানমন্ত্রীর মুখে ‘কী খবর মাসুদ, ভালো?’ প্রশ্ন এবং জবাবে এসপির ‘স্যার, স্যার’ বলার মুহূর্তটি ভিডিওতে ছড়িয়ে পড়লে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়। বিমানবন্দর থেকে পরে সরাসরি নগরের জে এম সেন হলের পূজামণ্ডপে যান প্রধানমন্ত্রী।
প্রধানমন্ত্রীর প্রশ্ন ঘিরে আলোচনায় উঠে আসা মাসুদ আলমের সাফল্যের অন্যতম ঘটনা শীর্ষ সন্ত্রাসী হিসেবে পরিচিত ডেভিড ইমনকে গ্রেপ্তার। গত ২৯ জুলাই যশোরে ভারতগামী পথে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টাকালে ইমন ও তাঁর তিন সহযোগীকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। চট্টগ্রাম ও যশোর পুলিশের সমন্বিত অভিযানে তাঁদের গ্রেপ্তারের পর ইমনের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ফটিকছড়িতে অভিযান চালিয়ে একটি বিদেশি পিস্তল, দুটি দেশীয় এলজি ও অন্যান্য অস্ত্র উদ্ধার করা হয়। এ ছাড়া অপরাধী চক্রের বিরুদ্ধে একাধিক অভিযান পরিচালনা করে চট্টগ্রামজুড়ে আলোচনায় আসে জেলা পুলিশ।
অপরাধ দমনে আরেকটি বড় চ্যালেঞ্জ দুর্গম পাহাড়ি এলাকা সীতাকুণ্ডের জঙ্গল সলিমপুর। একসময় এলাকাটিকে সন্ত্রাসী ও অপরাধীদের অভয়ারণ্য হিসেবে বিবেচনা করা হতো। সেখানে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অভিযান পরিচালনা করাও ছিল কঠিন। ঈদের ছুটি কাটিয়ে জঙ্গল সলিমপুরে গিয়ে সাধারণ মানুষের সঙ্গে মিশে তাদের সমস্যা জানার উদ্যোগ নেন মাসুদ আলম। স্থানীয়দের সঙ্গে যোগাযোগ তৈরি এবং অপরাধ দমনে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার মাধ্যমে এলাকাটিতে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়নে কাজ শুরু করেন তিনি। দুর্গম এ এলাকায় অপরাধীদের শনাক্ত করা, অস্ত্র উদ্ধার এবং অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড নিয়ন্ত্রণে ধারাবাহিক তৎপরতা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
এসব অভিযানকে অপরাধ দমনে ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন নগরবাসীর কেউ কেউ। চট্টগ্রাম নগরের বাসিন্দা মারুফ হোসেন কালবেলাকে বলেন, ‘মাসুদ আলম চট্টগ্রামে দায়িত্ব নেওয়ার পর সন্ত্রাসী দমনে যেভাবে কাজ করছেন, তা উল্লেখযোগ্য। ডেভিড ইমনের মতো শীর্ষ সন্ত্রাসী দেশত্যাগের চেষ্টার সময় গ্রেপ্তার করা সহজ কাজ নয়। এ ধরনের অভিযান অপরাধীদের বিরুদ্ধে পুলিশের তৎপরতা তুলে ধরেছে। চট্টগ্রামে অপরাধ দমনে এসব কার্যক্রম অব্যাহত থাকা প্রয়োজন।’
তবে অপরাধপ্রবণ এলাকায় সাফল্য ধরে রাখতে ধারাবাহিক অভিযান জরুরি বলে মনে করেন সাবেক এক প্রশাসনিক কর্মকর্তা। নাম প্রকাশ না করার শর্তে তিনি বলেন, ‘জঙ্গল সলিমপুরের মতো এলাকায় কাজ করা বড় চ্যালেঞ্জ। সেখানকার মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ তৈরি করা, অপরাধীদের শনাক্ত করা এবং ধারাবাহিক অভিযান চালানো জরুরি। মাসুদ আলম দায়িত্ব নেওয়ার পর অপরাধীদের আইনের আওতায় আনার ক্ষেত্রে বেশ কিছু পদক্ষেপ দেখা গেছে। তবে অপরাধ দমনে এ ধরনের তৎপরতা অব্যাহত রাখা প্রয়োজন।’
মাসুদ আলম চট্টগ্রাম জেলায় দায়িত্ব নেওয়ার পর আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় তৎপরতা বাড়িয়েছেন। বিশেষ অভিযান চালিয়ে আসামি গ্রেপ্তার, অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার ও অপরাধী চক্রের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি সাধারণ মানুষের সঙ্গে পুলিশের যোগাযোগ বাড়ানোর উদ্যোগও নিয়েছেন তিনি। এসব কার্যক্রম প্রধানমন্ত্রীর নজর কেড়েছে বলে মনে করছেন অনেকে। তাই আন্তরিকভাবে তাকে ‘মাসুদ’ বলে ডেকেছেন প্রধানমন্ত্রী।
রাজধানীতেও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার অভিজ্ঞতা রয়েছে মাসুদ আলমের। চট্টগ্রামে দায়িত্ব নেওয়ার আগে তিনি ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) রমনা বিভাগের উপপুলিশ কমিশনার (ডিসি) হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের সময় রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় বিভিন্ন আন্দোলন ও কর্মসূচি ঘিরে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার দায়িত্বেও ছিলেন তিনি। ২৮তম বিসিএস (পুলিশ) ব্যাচের এই কর্মকর্তা ২০২৬ সালের মে মাসে চট্টগ্রাম জেলার পুলিশ সুপার হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন।
মূল প্রতিবেদনে যান ↗