গাজীপুরের টঙ্গীর চেরাগ আলী এলাকায় ড্রাগ ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেডের ওষুধ উৎপাদন কারখানায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সময় লাগে চার ঘণ্টারও বেশি। দীর্ঘ সময় ধরে চলা এই আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে কারখানার বিভিন্ন স্থাপনা ও সম্পদ।
দেশে এমন অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা নতুন নয়। ফায়ার সার্ভিসের তথ্য অনুযায়ী, প্রতিবছর দেশে ২০ হাজারের বেশি অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। এর বড় একটি অংশ ঘটে শুষ্ক মৌসুমে। পর্যাপ্ত অগ্নিনিরাপত্তাব্যবস্থা ও কার্যকর তদারকির অভাবে বারবার ঘটছে এমন দুর্ঘটনা। প্রশ্ন উঠছে, এত ঘটনার পরও কেন নিশ্চিত করা যাচ্ছে না কারখানার নিরাপত্তা?
বিশেষজ্ঞদের মতে, কলকারখানা অধিদপ্তর, ফায়ার সার্ভিস, বিজিএমইএ, বিকেএমইএ ও বায়ার অ্যাসোসিয়েশনের মতো সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে সমন্বয়হীনতা অগ্নিকাণ্ডের ঝুঁকি বাড়াচ্ছে। নজরদারি ও জবাবদিহি না থাকায় অগ্নিনিরাপত্তার ব্যবস্থা নেয় না অনেক প্রতিষ্ঠান।
এ বিষয়ে ফায়ার সার্ভিসের সাবেক মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ইঞ্জিনিয়ার আলী আহমেদ খান জানান, নিয়মিত দায়িত্ব পালনকারী সংস্থাগুলোরও একধরনের অক্ষমতা রয়েছে। তারা আইন প্রয়োগের ক্ষেত্রে নিজেদের সমস্যাগুলোও সমাধান করতে পারছে না। একদিকে সরকারি পর্যায়ে আইন প্রয়োগের দুর্বলতা রয়েছে, অন্যদিকে আমাদের দেশের ভবনমালিকেরাও সঠিকভাবে নিয়মকানুন ও বাধ্যবাধকতা মেনে চলেন না। যেহেতু এসব নিয়ম মেনে চলতে বিনিয়োগের প্রয়োজন হয়, তাই তারা সেই বিনিয়োগ করতে চান না।
ফায়ার সার্ভিসের সাবেক এই মহাপরিচালক বলছেন, অগ্নিকাণ্ডের ঝুঁকি কমাতে প্রয়োজন স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা। পাশাপাশি, জনবসতিপূর্ণ এলাকা থেকে রাসায়নিক কারখানাগুলো নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেয়ার তাগিদ দিয়েছেন তিনি।
আলী আহমেদ খান আরও জানান, যেসব স্থানে রাসায়নিক পদার্থের কারণে ঝুঁকি রয়েছে, সেখান থেকে এসব স্থাপনা জনবহুল এলাকা থেকে দূরে সরিয়ে নিতে হবে। যেগুলো অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ, সেগুলো অন্যত্র সরিয়ে নেয়ার ব্যবস্থা করতে হবে। এটি দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার অংশ হতে পারে। পাশাপাশি, মধ্যমেয়াদি পরিকল্পনার আওতায় এসব স্থাপনায় কীভাবে নিরাপত্তাব্যবস্থা নিশ্চিত করে নিয়মকানুন মেনে চলা সম্ভব, তা বিবেচনা করতে হবে। কোনো দুর্ঘটনা ঘটলেও যাতে মানুষের ক্ষতি না হয়, সে ধরনের ব্যবস্থা নেয়া সম্ভব কি না, সেটিও খতিয়ে দেখতে হবে।
অগ্নিকাণ্ডে শুধু কারখানার সম্পদই পড়ে না, ঝুঁকিতে পড়ে মানুষের জীবন ও জীবিকা। তাই বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দুর্ঘটনার পর তদন্ত আর ক্ষয়ক্ষতির হিসাবের চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রতিরোধের ব্যবস্থা।
