ইন্দোনেশিয়ায় দাবানলের ধোঁয়া ও ধোঁয়াশা ছড়িয়ে পড়ায় সিঙ্গাপুরে বায়ুদূষণ চলতি বছরের সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় পূর্ব তিমুরে তিন দিনের জন্য সরাসরি শ্রেণিকক্ষে পাঠদান বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।
বুধবার সিঙ্গাপুরের পশ্চিমাঞ্চলে বাতাসে অতিসূক্ষ্ম ধূলিকণা পিএম ২ দশমিক ৫-এর ঘনত্ব প্রতি ঘনমিটারে ২৮৪ মাইক্রোগ্রামে পৌঁছায়। চলমান ধোঁয়াশার মধ্যে প্রথমবারের মতো দূষণের মাত্রা দেশটির পরিবেশ সংস্থার ‘অতি উচ্চ’ পর্যায়ে ওঠে।
পূর্ব তিমুর সরকার জানিয়েছে, প্রতিবেশী অঞ্চল বা দেশ থেকে দাবানলের দূষিত কণা ছড়িয়ে পড়ায় ১৫ অক্টোবর থেকে তিন দিন সরাসরি শ্রেণিকক্ষে পাঠদান বন্ধ থাকবে। তবে বিবৃতিতে ইন্দোনেশিয়ার নাম উল্লেখ করা হয়নি। পূর্ব তিমুরের সঙ্গে ইন্দোনেশিয়ার পূর্ব নুসা তেঙ্গারা প্রদেশের একটি অংশ একই দ্বীপে অবস্থিত। ওই এলাকায় বেশ কয়েকটি স্থানে আগুনের উপস্থিতি শনাক্ত হয়েছে।
এদিকে, গত ১১ বছরের মধ্যে সবচেয়ে তীব্র দাবানলের মৌসুম মোকাবিলা করছে ইন্দোনেশিয়া। এল নিনোর প্রভাবে শুষ্ক আবহাওয়ায় আগুনের বিস্তার বাড়ছে। এর ফলে দেশটিতে শ্বাসতন্ত্রের রোগীর সংখ্যা বেড়েছে এবং দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বিভিন্ন এলাকায় বায়ুর মানের অবনতি ঘটেছে। ধোঁয়াশার কারণে মালয়েশিয়ার কয়েকটি রাজ্যেও স্কুল বন্ধ করতে হয়েছে।
২০১৫ সালের অক্টোবরে ইন্দোনেশিয়ার দাবানলের কারণে সিঙ্গাপুরের পশ্চিমাঞ্চলে পিএম ২ দশমিক ৫-এর ঘনত্ব প্রতি ঘনমিটারে ৪৭১ মাইক্রোগ্রামে উঠেছিল, যা দেশটির জাতীয় রেকর্ড।
দাবানল নিয়ন্ত্রণে ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্ট প্রবোও সুবিয়ান্তো অতিরিক্ত জনবল ও সরঞ্জাম মোতায়েনের নির্দেশ দিয়েছেন। দেশটির রাজনৈতিক ও নিরাপত্তাবিষয়ক সমন্বয় মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা হোনি হাভানা বুধবার এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, আগুন নেভাতে সব ধরনের সম্পদ ও সক্ষমতা কাজে লাগানো হচ্ছে।
তিনি জানান, দাবানল মোকাবিলায় নিয়োজিত কর্মীর সংখ্যা বাড়িয়ে ৬৯ হাজারের বেশি করা হয়েছে। সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি এ সংখ্যা ছিল প্রায় ৪৪ হাজার। আগুন নেভাতে বিশেষ রাসায়নিক ব্যবহারসহ নতুন পদ্ধতিও পরীক্ষা করা হচ্ছে।
ইন্দোনেশিয়ার দুর্যোগ প্রশমন সংস্থার মুখপাত্র বার্টন পানজাইতান বলেন, পিটভূমির আগুন নিয়ন্ত্রণে রাখা কঠিন। এ ধরনের আগুন মাটির নিচে ধীরে ধীরে জ্বলতে থাকে এবং যেকোনো সময় আবার ছড়িয়ে পড়তে পারে।
তিনি বলেন, টানা বৃষ্টিই এ সমস্যা সমাধানের একমাত্র উপায়।
আগামী মাসে আসিয়ানের এক বৈঠকে সীমান্ত পেরিয়ে ছড়িয়ে পড়া ধোঁয়াশা মোকাবিলার বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করবেন দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা। এর মধ্যেই দাবানল নিয়ন্ত্রণে যথেষ্ট পদক্ষেপ না নেওয়ায় ইন্দোনেশিয়ার বিরুদ্ধে সমালোচনা বাড়ছে।
মঙ্গলবার মালয়েশিয়ার আইনপ্রণেতা সাইয়েদ সাদ্দিক সাইয়েদ আবদুল রহমান দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোকে ইন্দোনেশিয়ার বিরুদ্ধে কূটনৈতিক প্রতিবাদ জানানোর আহ্বান জানান। তিনি বলেন, মালয়েশিয়ার পাশাপাশি সিঙ্গাপুরসহ ক্ষতিগ্রস্ত অন্য দেশগুলোরও এ প্রতিবাদে অংশ নেওয়া উচিত।
এ ছাড়া, জমি পোড়ানোর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে অর্থায়ন বন্ধ করতে মালয়েশিয়া ও সিঙ্গাপুরের ব্যাংকগুলোর প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
ছবি: রয়টার্স
