Published on
:
2 min read
এই সময়, হাওড়া: মানুষের জীবনে মানত শুধু ধর্মীয় আচার নয়, অনেক সময়ে তা হয়ে ওঠে আশা, অপেক্ষা আর মনের গভীরে জমে থাকা প্রার্থনার প্রতীক। কেউ প্রিয়জনের সুস্থতা কামনা করেন, কেউ জীবনের বাধা কাটিয়ে ওঠার আশায় ঈশ্বরের কাছে প্রার্থনা জানান, আবার কেউ কোনও মনস্কামনা পুরণ হলে মন্দিরে পুজো দেওয়ার সঙ্কল্প করেন। সেই বিশ্বাস, ভক্তি ও আবেগকেই এ বার দুর্গাপুজোর মণ্ডপে তুলে ধরতে চলেছে হাওড়ার বালিটিকুরি সজীব সঙ্ঘ। ৭২তম বর্ষের দুর্গোৎসবে তাদের ভাবনা 'মানতপুরী।'
পুরীর জগন্নাথ মন্দিরকে কেন্দ্র করে মানুষের দীর্ঘদিনের ধর্মীয় বিশ্বাস এবং মানতের নানা অনুভূতিকে অবলম্বন করে তৈরি হচ্ছে এ বারের মণ্ডপ। উদ্যোক্তাদের ভাবনায়, মানত আসলে মানুষের সঙ্গে ঈশ্বরের এক গভীর আত্মিক সম্পর্কের প্রকাশ। জীবনের কঠিন সময়ে যখন মানুষ আশার আলো খোঁজেন, তখন বিশ্বাসই তাঁকে এগিয়ে চলার শক্তি জোগায়। সেই বিশ্বাসেরই প্রতীক হয়ে উঠবে সজীব সঙ্ঘের এ বারের পুজো। মণ্ডপসজ্জায় থাকছে এক হাজার বাঁশের হাঁড়ি এবং এক হাজার মাটির হাঁড়ি। এই উপকরণগুলিকে কেন্দ্র করেই ফুটিয়ে তোলা হবে 'মানতপুরী'র ভাবনা। পশ্চিম মেদিনীপুরের মা বাসন্তী ডেকরেটার্স মণ্ডপ তৈরির কাজ করছে।
কুমোরটুলির প্রতিমাশিল্পী বাবলু পালের হাতে তৈরি হচ্ছে দুর্গাপ্রতিমা। ধর্মীয় আবেগের সঙ্গে শিল্পের মেলবন্ধনে দর্শনার্থীরা এক অন্য অভিজ্ঞতার সাক্ষী হবেন বলে আশা উদ্যোক্তাদের। এখানে পুজো শুধু দেবী দর্শনের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। এর সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে এলাকার মানুষের আবেগ, পারস্পরিক সম্পর্ক এবং দীর্ঘদিনের ঐতিহ্য। ৭১ বছর ধরে যে নিষ্ঠা ও ঐক্যের সঙ্গে দুর্গোৎসব পালিত হয়ে এসেছে, তার পিছনে রয়েছে সঙ্ঘের সদস্য এবং পল্লিবাসীদের সম্মিলিত প্রচেষ্টা। প্রতিমার বায়না থেকে বিসর্জন, প্রতিটি মুহূর্তেই জড়িয়ে থাকে অসংখ্য মানুষের শ্রম, আনন্দ ও প্রত্যাশা।
পুজো ঘিরে সামাজিক বন্ধন আরও মজবুত করতেও উদ্যোগী সঙ্ঘ। ১৫ বছরের কম বয়সি শিশু ও কিশোরীদের হাতে তুলে দেওয়া হবে উপহার। পাশাপাশি নাচ, আবৃত্তি, অঙ্কন ও ক্যুইজ প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়েছে।
এ বারের পুজোর প্রধান পৃষ্ঠপোষক বিভাস হাজরা এবং সভাপতি সঞ্জয় বাহেতি। বর্ষার বাধা সত্ত্বেও প্রস্তুতি চলছে জোরকদমে। উদ্যোক্তাদের আশা, 'মানতপুরী' দর্শনার্থীদের শুধু মণ্ডপের শিল্পসৌন্দর্য দেখাবে না, মনে করিয়ে দেবে মানুষের জীবনে বিশ্বাস ও প্রার্থনার গুরুত্বও। কারণ, মানতের পিছনে লুকিয়ে থাকে এক-একটি ব্যক্তিগত গল্প, এক-একটি না-বলা কথা এবং পূরণের অপেক্ষায় থাকা অসংখ্য স্বপ্ন। সেই অনুভূতিকেই সর্বজনীন করে তোলাই এ বারের সজীব সঙ্ঘের দুর্গোৎসবের বিশেষত্ব।