Published on
:
2 min read
এই সময়: অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি অনিন্দিতা রায় সরস্বতীর নেতৃত্বাধীন সিটের সুপারিশ অনুযায়ী ২০২৭–এ রাজ্যের সমস্ত দুর্গাপুজো হোক––এটাই লক্ষ্য মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর। তাঁর কথায়, ‘চোরবাগান ছাড়া বাকি পুজো কমিটিগুলি শৃঙ্খলার সঙ্গে পুজো করেছে। ওঁদের (অন্য পুজো কমিটি) বলব এই ঘটনা (চোরবাগান) থেকে শিক্ষা নিয়ে এবং সিটের রিপোর্টে যে সুপারিশ করবে তা দেখেই ২৭–এর পুজোর প্রস্তুতি নিতে। পুজোর প্যান্ডেল, থিম, মণ্ডপের একজিট–এন্ট্রান্স, দর্শনার্থীদের সেফটি সিকিউরিটি–– সবই যেন মানা হয়। পরে যেন না বলে দেরি করে বলেছেন।’
চোরবাগানে পদপিষ্ট হয়ে মৃত মানিকতলার শুভম সোনকার এবং শ্যামপুকুরের মিঠু মণ্ডলের বাড়িতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুক্রবার পরিজনদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। রাজ্য এবং কেন্দ্রের আর্থিক সহায়তা পরিবারগুলির হাতে তুলে দেন। মৃতের পরিবারের সঙ্গে সাক্ষাৎ শেষে সংবাদমাধ্যমের কাছে আগামী ২৬ তারিখ কলকাতা ও হাওড়ার পুজো কমিটিগুলির সঙ্গে সরকারের বৈঠকের মূল ফোকাসও ব্যাখ্যা করেন তিনি। ওই সভায় অন্তত আট হাজার দুর্গাপুজোর উদ্যোক্তা উপস্থিত থাকবেন। সেখানে বিজয়ার শুভেচ্ছা বিনিময়ের পাশাপাশি চোরবাগানের ঘটনার প্রেক্ষাপটে আগামী বছরের পুজো নিয়ে নির্দিষ্ট বার্তা দিতে চাইছেন শুভেন্দু। তিনি আশাবাদী, আদালতের নির্দেশে গঠিত সিট আগামী তিন মাসের মধ্যে রিপোর্ট জমা দেবে। ওই রিপোর্ট সরকার প্রকাশও করবে।
অতীতে অনেক ঘটনা নিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কমিশন অথবা সিট গঠন করলেও তার রিপোর্ট সরাসরি পাবলিক করা হয়নি বলে অভিযোগ। সেই রাস্তায় হাঁটতে চান না শুভেন্দু। মুখ্যমন্ত্রীর কথায়, ‘ম্যাডাম তদন্ত করবেন। পুলিশ সহযোগিতা করবে। সাক্ষীরা সাক্ষ্য দেবেন। তিন মাসের মধ্যে আশা করি রিপোর্ট দিয়ে দেবেন। সেখানে যা সুপারিশ করা হবে সরকার তা কার্যকর করবে। ওই রিপোর্ট বিধানসভা এবং পাবলিক ডোমেনে দেবো। আমাদের লুকোনোর কিছু নেই। আগের সরকারের সঙ্গে আমাদের অনেক তফাৎ আছে।’ ওই রিপোর্টে ঠিক কী কী কারণে দুর্ঘটনা ঘটল, তা নিয়ে সিটের পর্যবেক্ষণের পাশাপাশি ভবিষ্যতে এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঠেকাতে প্রয়োজনীয় আশু পদক্ষেপের সুপারিশ থাকার সম্ভাবনা রয়েছে বলে সরকার মনে করছে। সেই সম্ভাব্য সুপারিশ যাতে পুজোর উদ্যোক্তারা সামনের বছর থেকে অনুসরণ করেন সেই বার্তা আগামী ২৬ তারিখের বৈঠক থেকে দিতে চান শুভেন্দু।
রাজ্যে এ বছর ৬৬ হাজার দুর্গাপুজো হয়েছে। ইতিমধ্যে ৯০–৯৫ শতাংশ প্রতিমার বিসর্জন হয়েছে। চোরবাগান ছাড়া অন্য কোথাও বড় কোনও অপ্রীতিকর ঘটনার খবর আসেনি নবান্নে। মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য, ‘ওই ঘটনায় ‘হিউম্যান এরর’ রয়েছে। ভিতরে কিছু হয়নি। প্যান্ডেল ভেঙে পড়েনি। যা হওয়ার বাইরে হয়েছে।...কলকাতা পুলিশ এবং কেএমসিকে সিটে রাখা হয়নি। ওদের ত্রুটি থাকলে তারও তদন্ত হওয়া প্রয়োজন।’
