স্থানীয় সরকার নির্বাচন পরিচালনায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এখনও পুরোপুরি প্রস্তুত নয় বলে মনে করেন এ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি একেএম সেলিম রেজা হাবিব। এ কারণে তিনি অনুরোধ করেছেন, বাহিনীকে প্রস্তুতির সময় দিয়ে যেন নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হয়। তবে সেই প্রস্তুতির সময় নিলেও আগামী বছরের শুরুর দিকেই স্থানীয় সরকার নির্বাচন করা যাবে বলে আশাবাদী তিনি।
গতকাল রবিবার জাতীয় সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির প্রথম বৈঠকে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়েছে। এ ছাড়া বৈঠকে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন সরকারের সময়কার দেশি-বিদেশি অর্থায়নে নেওয়া ‘অপ্রয়োজনীয়’ প্রকল্পগুলোর অনিয়ম-দুর্নীতি তদন্তের সুপারিশ করা হয়। একই সঙ্গে ‘অপ্রয়োজনীয় প্রকল্প’ বাদ দিয়ে জনস্বার্থে প্রকল্প বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।
বৈঠক শেষে কমিটির সভাপতি সেলিম রেজা হাবিব সাংবাদিকদের বলেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচন অন্য নির্বাচনের তুলনায় বেশি জটিল ও ঝুঁকিপূর্ণ। এ ধরনের নির্বাচন পরিচালনার জন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর যে প্রস্তুতি প্রয়োজন, তা এখনও পুরোপুরি নেই। আমরা আশা করছি, আগামী বছরের প্রথম দিকেই এই নির্বাচন হবে।
স্থানীয় সরকার নির্বাচনে ঝুঁকির কারণ ব্যাখ্যা করে কমিটির সভাপতি বলেন, জাতীয় নির্বাচনের তুলনায় স্থানীয় নির্বাচনে প্রার্থীদের ব্যক্তিগত স্বার্থ ও প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা বেশি থাকে। স্থানীয় নির্বাচনে নয়টি ওয়ার্ডের সদস্য, তিনটি সংরক্ষিত নারী আসনের সদস্য এবং চেয়ারম্যান পদে প্রার্থীরা প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। প্রতিটি কেন্দ্রে প্রার্থীদের কর্মী-সমর্থকদের উপস্থিতি থাকে। ফলে
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বেশি তৎপরতা প্রয়োজন পড়ে। কমিটির সভাপতি জানান, বৈঠকে সরকারি ও বিরোধী দলের সদস্যরা যত দ্রুত সম্ভব স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজনের বিষয়ে আলোচনা করেছেন।
বৈঠকে মন্ত্রণালয় এবং এর আওতাধীন দপ্তর ও সংস্থাসমূহের কার্যক্রম সম্পর্কে একটি প্রেজেন্টেশন উপস্থাপন করা হয়। একই সঙ্গে সরকারের বিগত একশত আশি দিনের স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয় কর্তৃক গৃহীত বিভিন্ন কার্যক্রম সম্পর্কে কমিটিকে অবহিত করা হয়। বৈঠকে দেশের বিভিন্ন স্থানে আর্সেনিকযুক্ত এলাকা চিহ্নিত করে নিরাপদ ও সুপেয় পানির ব্যবস্থা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে প্রকল্প গ্রহণ এবং কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার সুপারিশ করা হয়। এ ছাড়া প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী, গ্রামীণ সড়ক ও রাস্তাঘাট নির্মাণকাজের গুণগত মান, স্থায়িত্ব, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে ঠিকাদারদের কাছ থেকে তিন বছরের ওয়ারেন্টি হিসেবে জামানত গ্রহণের সুপারিশ করা হয়। পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নিজ নিজ দায়িত্ব যথাযথভাবে পালনের মাধ্যমে নির্মাণকাজের তদারকি জোরদার করার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। বৈঠকে এডিস মশা নিধন ও ডেঙ্গু প্রতিরোধে নিজ নিজ এলাকায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের মাধ্যমে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা অভিযান তদারকি এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের সুপারিশ করা হয়। বৈঠকে কর্মকর্তাদের সততা, নিষ্ঠা, স্বজনপ্রীতিমুক্ত আচরণ ও জবাবদিহির সঙ্গে দায়িত্ব পালনের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। একই সঙ্গে উপজেলা পর্যায়ে অনলাইনভিত্তিক হাজিরা নিশ্চিত করার সুপারিশ করা হয়।
বৈঠকে কমিটির সদস্য ও মন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খান, প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম, মোহাম্মদ আক্তারুজ্জামান, আলহাজ জসীম উদ্দীন আহমেদ, শেখ ফরিদ আহমেদ, সেলিনা সুলতানা, এটিএম আজহারুল ইসলাম এবং মো. রফিকুল ইসলাম খান অংশগ্রহণ করেন। এ ছাড়া স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের সচিবদ্বয়, অতিরিক্ত সচিব ও যুগ্ম সচিবগণ, বিভিন্ন সংস্থা ও অধিদপ্তরের প্রধানগণ এবং বাংলাদেশ জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
