নেত্রকোণার মদনে ধর্ষণের অভিযোগের পর শোভা আক্তার (১৩) নামে এক কিশোরীর আত্মহত্যার ঘটনা ঘটেছে।
মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) দুপুরে উপজেলার নায়েকপুর পশ্চিমপাড়া গ্রামে নিজ বাড়ি থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। কিশোরীর পরিবারের অভিযোগ, প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তুলে বিয়ের প্রলোভনে তাকে নিয়ে গিয়ে ধর্ষণ করেন একই গ্রামের এক যুবক। পরে বিয়ের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান ও নানা অপমানের শিকার হয়ে মানসিকভাবে ভেঙে পড়ে সে।
নিহত শোভা আক্তার ওই গ্রামের আব্দুল খালেকের মেয়ে। অভিযুক্ত যুবক হাসান (২০) একই গ্রামের আলীম উদ্দিনের ছেলে।
পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, হাসানের সঙ্গে শোভার প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। এরই ধারাবাহিকতায় গত রোববার (১১ অক্টোবর) পাশের উপজেলা কেন্দুয়ার তাম্বুলীপাড়ার একটি মিনি পার্কে ঘুরতে যায় তারা। পরিবারের অভিযোগ, সেখানে শোভাকে ধর্ষণ করেন হাসান। পরে বিয়ের কথা বললে তিনি তা প্রত্যাখ্যান করেন। এ সময় শোভাকে গালমন্দ করার পাশাপাশি তার কাছে ২০ হাজার টাকা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ রয়েছে।
নিহতের বাবা আব্দুল খালেক জানান, সোমবার রাতে তাঁর মেয়ে তাঁকে পুরো ঘটনা জানায়। এ সময় মেয়েটির কাছে ঘটনার বিষয়ে রেকর্ডও ছিল বলে দাবি করেন তিনি। মঙ্গলবার সকালে মেয়েকে বাড়িতে রেখে ঘটনার বিচার চাইতে গ্রামের কয়েকজনের সঙ্গে কথা বলতে বের হন তিনি। পরে বাড়িতে ফিরে মেয়েকে ঘরের ধর্নার সঙ্গে গলায় ফাঁস দেওয়া অবস্থায় দেখতে পান।
আব্দুল খালেক বলেন, ‘আমার মেয়েকে ভুল বুঝিয়ে ঘুরতে নিয়ে যায় হাসান। সেখানে তার সর্বনাশ করেছে। পরে বিয়ে করতে অস্বীকৃতি জানায়। আমি এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।’
এদিকে, ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত হাসান ও তাঁর পরিবারের অন্য সদস্যরা বাড়িতে নেই বলে জানা গেছে।
অভিযুক্তের বড় ভাবি তানিয়া আক্তার জানান, সোমবার রাতে শোভাকে নিয়ে তাঁর দেবরের ঘুরতে যাওয়ার বিষয়টি তাঁরা জানতে পারেন। পরদিন সকালে কিশোরীর মৃত্যুর খবর পান। এরপর থেকে তাঁর দেবর ও পরিবারের অন্য সদস্যরা কোথায় আছেন, তা তিনি জানেন না।
মদন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সালাউদ্দিন করিম জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করে সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করেছে। পরে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ নেত্রকোনা আধুনিক সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
ওসি আরও জানান, নিহতের পরিবার মৌখিকভাবে অভিযোগ করেছে। তবে এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত থানায় কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন ও অভিযোগের ভিত্তিতে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
