জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগে করা মামলায় সরকারি কর্ম কমিশনের (পিএসসি) প্রশ্নফাঁসকাণ্ডের আলোচিত অবসরপ্রাপ্ত গাড়িচালক সৈয়দ আবেদ আলী জীবনের ছেলে সৈয়দ সোহানুর রহমান সিয়ামকে ৪ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত।
আজ বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) ঢাকার বিভাগীয় স্পেশাল জজ বি.এম. তারিকুল কবীর এ রায় ঘোষণা করেন।
বিষয়টি নিশ্চিত করে দুদকের প্রসিকিউটর দেলোয়ার জাহান রুমী জানান, কারাদণ্ডের আসামিকে ২০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড করা হয়েছে। অর্থদণ্ড অনাদায়ে তাকে ৬ মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। এছাড়া সিয়ামের অবৈধভাবে অর্জিত ৩১ লাখ ৮১ হাজার টাকা রাষ্ট্রের অনুকূলে বাজেয়াপ্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি। এদিন রায় ঘোষণা থাকায় কারাগার থেকে তাকে আদালতে হাজির করা হয়। রায় ঘোষণার পর সাজা পরোয়ানাসহ তাকে পুনরায় কারাগারে পাঠানো হয়। এর আগে সিয়ামের পক্ষে তার আইনজীবী রেজাউল করিম যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করেন
উল্লেখ্য, গত বছরের ৫ জানুয়ারি আবেদ আলী, তার স্ত্রী শাহরিন আক্তার শিল্পী ও ছেলে সৈয়দ সোহানুর রহমান সিয়ামের বিরুদ্ধে পৃথক তিনটা মামলা করে দুদক। তিনটি মামলার এজাহার থেকে জানা যায়, সৈয়দ আবেদ আলী জীবনের ১২টি ব্যাংক অ্যাকাউন্টে ২০ কোটি ৮৮ লাখ ১৬ হাজার ৯৭১ টাকা জমা ও ২০ কোটি ৪১ লাখ ৩ হাজার ৭৪১ কোটি টাকা উত্তোলনের মাধ্যমে মোট ৪১ কোটি ২৯ কোটি টাকার সন্দেহজনক লেনদেনের অভিযোগ আনা হয়েছে। এছাড়া আবেদ আলীর বিরুদ্ধে ৩ কোটি ৭২ লাখ ৯৯ হাজার ৯৯৭ টাকার জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগ আনা হয়।
অন্যদিকে ১ কোটি ২৬ লাখ ৬৩ হাজার জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগে আবেদ আলীর স্ত্রী শাহরিন আক্তার শিল্পীর বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছে। তার দুটি ব্যাংক অ্যাকাউন্টে ১ কোটি ৭৮ লাখ ৭৬ হাজার ৬৩৬ টাকা জমা ও ১ কোটি ৭৭ লাখ ৬৪ হাজার ৯৫ টাকা উত্তোলনসহ মোট ৩ কোটি ৫৬ লাখ ৪০ হাজার ৭৩১ টাকার সন্দেহজনক লেনদেনের অভিযোগ আনা হয়।
অন্যদিকে আবেদ আলীর ছেলে ও ছাত্রলীগ নেতা সৈয়দ সোহানুর রহমান সিয়ামের বিরুদ্ধে ৩ কোটি ৩০ লাখ টাকার জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগ আনা হয়। মামলার তদন্ত শেষে একই বছরের ৩০ ডিসেম্বর সিয়ামকে অভিযুক্ত করে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন দুদকের উপ-সহকারি পরিচালক জাকির হোসেন। তদন্তে সিয়ামের জ্ঞাত আয় উৎসের সঙ্গে অসঙ্গতিপূর্ণ ৩১ লাখ ৮১ হাজার টাকার স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদের তথ্য পান এই কর্মকর্তা। গত ১৭ জুন সিয়ামের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন আদালত। মামলাটিতে ১১ জন সাক্ষীর মধ্যে ১১ জনের সাক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।
