ছবির ক্যাপশন: .
এনামুল হক আরিফ, বিশেষ প্রতিনিধি, ব্রাহ্মণবাড়িয়া
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া উপজেলার বাণিজ্য মেলা, কুটির শিল্প ও পণ্য মেলায় ইভটিজিংকে কেন্দ্র করে ভয়াবহ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। সংঘর্ষের একপর্যায়ে ধারালো অস্ত্রের আঘাতে তালাত নামে এক যুবক গুরুতর আহত হন। একই ঘটনায় আহত হয়েছেন পৌর যুবদলের আহ্বায়ক জাবেদ আহমেদ ভূঁইয়া। গুরুতর আহত তালাতের শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় তাকে প্রথমে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর হাসপাতাল এবং পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। চিকিৎসকদের ভাষ্য অনুযায়ী, তার অবস্থা অত্যন্ত সংকটাপন্ন।
শুক্রবার (২৬ জুন) সন্ধ্যা আনুমানিক ৭টার দিকে আখাউড়া উপজেলার বাণিজ্য মেলা প্রাঙ্গণে এ ঘটনা ঘটে। প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মেলায় ঘুরতে আসা কয়েকজন তরুণের ইভটিজিংয়ের ঘটনাকে কেন্দ্র করে প্রথমে কথাকাটাকাটি শুরু হয়। পরিস্থিতি দ্রুত উত্তপ্ত হয়ে উঠলে উভয় পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া এবং সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ে। একপর্যায়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়া কয়েকজন ধারালো অস্ত্র নিয়ে হামলা চালালে মেলা প্রাঙ্গণে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
সংঘর্ষ চলাকালে তালাত নামে এক যুবককে এলোপাতাড়ি ছুরিকাঘাত করা হয়। হামলায় গুরুতর আহত হন পৌর যুবদলের আহ্বায়ক জাবেদ আহমেদ ভূঁইয়াও। স্থানীয় লোকজন, স্বজন ও মেলায় উপস্থিত দর্শনার্থীরা দ্রুত আহতদের উদ্ধার করে আখাউড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান।
সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তালাতের শারীরিক অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে তাকে দ্রুত ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর হাসপাতালে রেফার করেন। সদর হাসপাতালে নেওয়ার পরও অবস্থার উন্নতি না হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য জরুরি ভিত্তিতে ঢাকার একটি বিশেষায়িত হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। পারিবারিক সূত্র জানিয়েছে, তালাত বর্তমানে জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।জানা গেছে, গুরুতর আহত তালাত পৌর যুবদলের আহ্বায়ক জাবেদ আহমেদ ভূঁইয়ার ভাতিজা। অপরদিকে জাবেদ আহমেদ ভূঁইয়াও আহত অবস্থায় চিকিৎসা গ্রহণ করেছেন। তবে তার আঘাত গুরুতর নয় বলে পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে।
ঘটনার পরপরই পুরো মেলা প্রাঙ্গণে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। হুড়োহুড়ি করে অনেক দর্শনার্থী মেলা ছেড়ে নিরাপদ স্থানে চলে যান। নারী ও শিশুদের মধ্যে চরম ভীতি দেখা দেয়। কয়েক মিনিটের মধ্যে উৎসবমুখর পরিবেশ রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। ব্যবসায়ীরা নিরাপত্তাহীনতার আশঙ্কায় দোকানপাট বন্ধ করে দিতে শুরু করেন।খবর পেয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। তবে হামলাকারীরা এর আগেই ঘটনাস্থল ত্যাগ করেছে বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, হাজারো মানুষের সমাগমস্থল হওয়া সত্ত্বেও মেলা প্রাঙ্গণে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা ছিল না। প্রবেশপথে তল্লাশি, সিসিটিভি নজরদারি এবং প্রয়োজনীয় সংখ্যক পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হলে এমন ভয়াবহ ঘটনা এড়ানো সম্ভব হতো বলে তাদের দাবি। তারা ভবিষ্যতে মেলায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার, ধারালো অস্ত্র বহনকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা এবং পর্যাপ্ত আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মোতায়েনের দাবি জানান।
এলাকাবাসীর ভাষ্য, সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন সামাজিক অনুষ্ঠান, মেলা ও জনসমাগমস্থলে ইভটিজিংকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষের ঘটনা বাড়ছে। এ ধরনের ঘটনা শুধু আইনশৃঙ্খলার অবনতির ইঙ্গিতই নয়, বরং সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিয়েও বড় ধরনের উদ্বেগ তৈরি করছে। তারা অবিলম্বে হামলাকারীদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তার এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।ঘটনার পর থেকে আখাউড়া এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। সম্ভাব্য অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সতর্ক অবস্থানে রয়েছে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।
তবে এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত ঘটনায় জড়িতদের গ্রেপ্তার কিংবা কোনো মামলা দায়েরের বিষয়ে পুলিশের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে বিস্তারিত তথ্য জানানো হয়নি। একই সঙ্গে সংঘর্ষের প্রকৃত কারণ ও হামলাকারীদের পরিচয় উদঘাটনে তদন্ত চলছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, একটি পারিবারিক বিনোদন ও বাণিজ্য মেলায় এ ধরনের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ অত্যন্ত উদ্বেগজনক। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় আনা এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে কার্যকর নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করা এখন সময়ের দাবি।
