ঝিনাইদহ কালীগঞ্জ ফুলবাড়িতে দুটি রেলক্রসিংয়ে নেই গেটম্যান, নেই সিগন্যাল ব্যবস্থা। ফলে প্রতিনিয়তই সাধারণ মানুষ দুর্ঘটনার ঝুঁকি নিয়ে এই সড়কে চলাচল করছে।
ঢাকা-খুলনা মহাসড়কের পাশে ফুলবাড়ি রেলক্রসিংয়ে দেখা যায়, ট্রেন পার হওয়ার জন্য অপেক্ষায় দাঁড়িয়ে থাকে যানবাহন, সাধারণ মানুষ, মোটরসাইকেল। অরক্ষিত এ রেলক্রসিংয়ে কোনো গেটম্যান বা নিরাপত্তাব্যবস্থা না থাকায় প্রতিনিয়ত ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে। রেললাইন স্থাপনের পর থেকে আজ পর্যন্ত এখানে কোনো গেটম্যান নিয়োগ করা হয়নি। কোনো সুরক্ষা বেষ্টনী বা গেট না থাকায় প্রতিদিন প্রাণের ঝুঁকি নিয়ে এই অরক্ষিত পথ পারাপার করছে যানবাহন, পথচারী ও কোমলমতি শিক্ষার্থীরা।
বিশেষ করে ফুলবাড়ি গ্রামের মধ্য দিয়ে তিনটি স্থানে রয়েছে সাধারণ মানুষের চলাচলের রাস্তা। রেলক্রসিং মাত্র একটিতে রয়েছে গেটম্যান। কিন্তু অপর দুটিতে নেই কোন সুরক্ষা ব্যবস্থা। ট্রেনের হুইসেল বাজলে একটিতে গেট বন্ধ হয়। অপর দুটিতে সতর্কীকরণ সিগন্যাল গাছের লতাপাতায় ঢেকে গেছে। ঢাকা খুলনা মহাসড়ক দিয়ে মানুষ অবাধে চলাচল করে। এছাড়া বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা ও চলাচল করে প্রতিনিয়িত। পথচারী ও যানবাহন চালকদের জীবন নির্ভর করছে শুধুমাত্র তাদের নিজস্ব সচেতনতার ওপর। অপেক্ষারতরা ট্রেনের আসার হুইসেলে বুঝতে পারে ট্রেন আসতেছে। তাই নিজ দায়িত্বে ট্রেন যাওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হয়। দুটিতে কোন গেটম্যান, সিগন্যাল ব্যবস্থা নেই। ট্রেন কখন আসে বোঝার উপায় নেই।
ফুলবাড়ি গ্রামের সবুজ হোসেন বলেন, প্রতিদিন আমরা ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করি। এখানে ট্রেনের গতিবেগ অনেক বেশি, কিন্তু কোনো নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেই। গেটম্যান না থাকায় ছোটখাটো দুর্ঘটনা ঘটে থাকে। কালীগঞ্জ উপজেলার ফুলবাড়ি গ্রামের মধ্য দিয়ে ঝনঝনিয়া, মাশলিয়া, কাষ্টভাঙ্গা, বেলেঘাট,বারবাজারসহ বিভিন্ন গ্রামের মানুষের চলাচলের একমাত্র ভরসা। বিশেষ করে এ রেল লাইন দিয়ে ব্যালাট ফাজিল মাদ্রাসার শিক্ষার্থী, বারবাজার কলেজ, মাধ্যমিক বিদ্যালয়, বালিকা বিদ্যালয়, প্রাথমিক বিদ্যালয়,কাষ্টভাঙ্গা কলেজের শিক্ষার্থীরা প্রতিনিয়িত চলাচল করে। ফুলবাড়ি রেলগেট দুটি বারবাজার ইউনিয়নের অন্তভুক্ত। এই ব্যস্ত রেললাইন দিয়ে প্রতিদিন দক্ষিন ও উত্তরবঙ্গের প্রতিটি ট্রেন চলাচল করে থাকে। আবার লোকাল, মালবাহি, জ্বালানি তেলবাহী চলাচলের একমাত্র ভরসা। বছরের পর বছর দ্রুতগতির ট্রেন চলাচল করলে ফুলবাড়ির ২টি স্থানে ক্রসিংটিকে নিরাপদ করতে কোনো কার্যকর উদ্যোগ নেয়নি রেলওয়ে। মুশফিকুর রহমান এক পথচারি বলেন, পাশে ঢাকা খুলনা মহাসড়ক ও এই ট্রেন লাইন দিয়ে অন্তত ৬ গ্রামের মানুষ চলাচল করে থাকে।
অধ্যক্ষ মাওলানা ওলিয়ার রহমান বলেন, ফুলবাড়ি গ্রামটি অনেক বড় ও এ গ্রামের মধ্যদিয়ে অন্তত ৬ গ্রামের অন্তত ১১ হাজার মানষ চলাচল করে থাকে। এ গ্রামের প্রবেশ স্থানটি রয়েছে একটি গেটম্যান, অপর ২টিতে কোন গেটম্যান নেই। এ কারণে বিভিন্ন ধরনের যানবাহন, কৃষকরা বিভিন্ন ফসলি ক্ষেত ও মাঠে আনা নেওয়া, শিক্ষার্থী, সাধারণ মানুষের চলাচল করতে হয় মারাত্নক ঝুকিতে। আশপাশের স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসার হাজারো শিক্ষার্থীকে এই ঝুঁকিপূর্ণ পথ ব্যবহার করতে হচ্ছে। এত ব্যস্ত সড়কে গেটম্যান না থাকায় যেকোনো মুহূর্তে বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কায় থাকেন এলাকাবাসী। মানুষের জীবনের নিরাপত্তার জন্য দ্রুত এখানে স্থায়ী গেট নির্মাণ ও গেটম্যান নিয়োগ দেওয়া জরুরি বলে এলাকাবাসি মনে করেন। অবশ্য রেলরাস্তার দু’পাশে সতর্ককরনের বোর্ড দেওয়া রয়েছে কিন্তু বনজঙ্গলে তা ঢেকে যাওয়ার কারণে বুঝা যায়না।
এ বিষয়ে মোবারকগঞ্জ রেলস্টেশন মাস্টার শাহাজান আলী বলেন, গেট না থাকার কারণে এখানে কোনো গেট কিপার নেই। বিকল্প হিসেবে ক্রসিংয়ের দুপাশে সিগন্যাল বোর্ড দেওয়া রয়েছে। সবাইকে সতর্কভাবে চলতে হবে।
আমাদের ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন
