‘কমিশনের স্বার্থের পরিপন্থী কর্মকাণ্ডে সহকর্মী ও বহিরাগত ব্যক্তিদের সঙ্গে সম্পৃক্ত’ থাকার অভিযোগে চার কর্মকর্তাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়েছে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি)। গতকাল রোববার পৃথক চারটি চিঠিতে এই নোটিশ দেয় কমিশন। এতে সাত দিনের মধ্যে ওই কর্মকর্তাদের জবাব দিতে বলা হয়েছে।
তবে অভিযুক্ত কর্মকর্তাদের দাবি, কমিশনের অনিয়মের বিরুদ্ধে আদালতে রিট করার কারণে তাঁদের বিরুদ্ধে এই হয়রানিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
বিষয়টি নিয়ে জানতে বিটিআরসির চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব) এমদাদ উল বারীর হোয়াটসঅ্যাপ নম্বরে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করলেও তিনি ফোন ধরেননি। খুদে বার্তা পাঠানো হলেও সাড়া দেননি।
পরে বিটিআরসির জনসংযোগ উপপরিচালক আবদুস শাহীদ চৌধুরীকে লিখিত প্রশ্ন পাঠালে তিনি প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমাকে প্রথমে স্যারের (চেয়ারম্যানের) পিএস এর কাছ থেকে অ্যাপয়েন্টমেন্ট দেওয়া হয়। অ্যাপয়েন্টমেন্ট পেলে তখন স্যারের সঙ্গে শেয়ার করতে পারি। আমার তো দেখা করার স্কোপ নেই।…আপনি তারপরও পাঠিয়ে রাখতে পারেন।’ পরে বিকেল বেলা তিনটা পর্যন্ত অপেক্ষা করেও বিটিআরসির পক্ষ থেকে কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
নোটিশে সাত কার্যদিবসের মধ্যে লিখিত বক্তব্য দাখিল করতে বলা হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বক্তব্য পাওয়া না গেলে এ বিষয়ে তাঁদের কোনো বক্তব্য নেই বলে গণ্য করে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলা হয়েছে।
চলতি বছরের শুরুতে অডিট আপত্তি রয়েছে, এমন কয়েকজন কর্মকর্তাকে পদোন্নতি দেওয়ার উদ্যোগ নেয় বিটিআরসি। এর বিরুদ্ধে মার্চ মাসে কমিশনের ছয় কর্মকর্তা উচ্চ আদালতে রিট করেন। এরপর রিটকারীর মধ্যে দুজন বিটিআরসির উপপরিচালক সনজিব কুমার সিংহ ও এস এম আফজাল রেজাকে ঢাকার বাইরে বদলি করা হয়। বাকি চারজনকে বর্তমান দায়িত্ব থেকে সরিয়ে বিটিআরসির বিভিন্ন দপ্তরে বদলি করা হয়।
পরে ঢাকার বাইরে বদলি আদেশের বিরুদ্ধে সনজিব কুমার সিংহ ও এস এম আফজাল রেজা পুনরায় উচ্চ আদালতে রিট আবেদন করেন। এই রিটের পরিপ্রেক্ষিতে আদালত গত ২৩ এপ্রিল প্রথমে দুই মাসের জন্য এবং পরে ৯ জুন ছয় মাসের জন্য বদলি আদেশের ওপর স্থগিতাদেশ দেন।
বিটিআরসি কর্মকর্তারা জানান, গত ২৮ সেপ্টেম্বর দুপুরে কমিশন কার্যালয়ে উপপরিচালক সনজিব কুমার সিংহের কক্ষে যান বিটিআরসি চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব.) এমদাদ উল বারী। এ সময় তাঁর সঙ্গে কমিশনের ভাইস চেয়ারম্যান ও কমিশন সচিব উপস্থিত ছিলেন। কক্ষে আগে থেকেই বিটিআরসির উপপরিচালক এস এম আফজাল রেজা, জাকির হোসেন খান ও আহসানুল হাবীব উপস্থিত ছিলেন।
উপস্থিত কর্মকর্তাদের একজন নাম প্রকাশ না করার শর্তে প্রথম আলোকে বলেন, ‘লাঞ্চে যাওয়ার জন্য আমরা একসঙ্গে হয়েছিলাম। স্যার আচমকা রুমে প্রবেশ করেন। কক্ষে আমরা কী করছি, কী নিয়ে কথাবার্তা হচ্ছে, তা জানতে চান। এরপর বলেন আমরা ষড়যন্ত্র করছি। তাৎক্ষণিক রুম সিলগালা করারও আদেশ দিয়ে যান।’
বিটিআরসির নথিপত্র বলছে, ওই দিন বিকেলেই সনজিব কুমার সিংহকে বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওএসডি) করা হয়। সূত্র বলছে, এর পরদিন তাঁর কক্ষ সিলগালা করা হয় এবং অন্য তিন কর্মকর্তাকে বিভিন্ন দপ্তরে বদলি করা হয়।
সর্বশেষ গতকাল এই চার কর্মকর্তাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে। নোটিশে বলা হয়েছে, তাঁরা অফিস চলাকালে এবং অফিস সময়ের পর কমিশনের স্বাভাবিক কার্যক্রম ও শৃঙ্খলাপরিপন্থী এবং কমিশনের স্বার্থের পরিপন্থী কর্মকাণ্ডে অফিসের সহকর্মী ও বহিরাগত ব্যক্তিদের সঙ্গে সম্পৃক্ত হয়েছেন বলে বিভিন্ন সূত্র থেকে তথ্য পাওয়া গেছে। এ ধরনের কর্মকাণ্ড বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (কর্মচারী) চাকরি প্রবিধানমালা, ২০২২ এবং সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮-এর সংশ্লিষ্ট বিধানের আওতাভুক্ত বলে নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে।
নোটিশে সাত কার্যদিবসের মধ্যে লিখিত বক্তব্য দাখিল করতে বলা হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বক্তব্য পাওয়া না গেলে এ বিষয়ে তাঁদের কোনো বক্তব্য নেই বলে গণ্য করে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলা হয়েছে।
জানতে চাইলে সনজিব কুমার সিংহ প্রথম আলোকে বলেন, নোটিশে যেসব কর্মকাণ্ডের কথা বলা হয়েছে, সেগুলোর কোনো কিছুর সঙ্গেই তিনি যুক্ত নন। তাঁর অভিযোগ, পদোন্নতি নিয়ে অনিয়মের বিরুদ্ধে রিট করার পর থেকেই তাঁদের সঙ্গে অন্যায্য আচরণ করা হচ্ছে।
