আজকাল ওয়েবডেস্ক: পুজোর কাউন্টডাউন শুরু হয়ে গিয়েছে। দেবীপক্ষ চলছে। দুর্গাপুজোর তৃতীয়ার দিন এএফসি চ্যাম্পিয়নস লিগ টুয়ের ম্যাচে নামবে ইস্টবেঙ্গল। পুজো এবং জয় গুপ্তর সঙ্গে লাল হলুদের একটি তাৎপর্য রয়েছে। আগের বছর পুজোর সময় ইস্টবেঙ্গলে সই করেন। যুবভারতীতে জীবনের বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচ খেলেছেন জয়। সুনীল ছেত্রীর বিদায়ী ম্যাচে ভারতের জার্সিতে অভিষেক হয় তাঁর। তারপর গতবছর তাঁর পেনাল্টি মিসে হাতছাড়া হয় আইএফএ শিল্ড। এবছর তার প্রায়শ্চিত্ত করেন। জয় গুপ্তর করা একমাত্র গোলে এবার ডুরান্ড কাপ জেতে ইস্টবেঙ্গল। এবার লাল হলুদ জার্সিতে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে নামতে চলেছেন। তার আগে দেবীপক্ষে মা দুর্গার শরণাপন্ন ইস্টবেঙ্গলের ফুটবলার। জয় বলেন, 'আমার ফুটবল জীবনের অনেক স্মরণীয় মুহূর্তই এই মাঠে এসেছে। গত বছর ঠিক এই সময়ে, দুর্গাপুজোর সময়ই আমি ইস্টবেঙ্গলে সই করেছিলাম। এখানেই আমার অভিষেক গোল করার সৌভাগ্য হয়েছিল। আশা করি, এবারও ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি হবে। দুর্গা মায়ের আশীর্বাদে আমরা এই ম্যাচে তিন পয়েন্ট অর্জন করতে পারব।'
সদ্য জাতীয় দল থেকে ফিরেছেন। পানামা, ব্রাজিল, উরুগুয়ের মতো শক্তিশালী প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে খেলার সুযোগ পেয়েছেন। লাল হলুদ জার্সিতে নামার আগে সেই অভিজ্ঞতা নিশ্চয়ই সাহায্য করবে? জয় বলেন, 'জাতীয় দলে সুযোগ পাওয়াটা আমার কাছে খুবই গুরুত্বপূর্ণ ছিল। ব্রাজিল, উরুগুয়ে এবং পানামার মতো দলের বিরুদ্ধে এই ধরনের বড় ম্যাচ খেলার অভিজ্ঞতা আমাকে ভীষণভাবে সাহায্য করেছে। আমার মনে হয়, এই ধরনের বড় ম্যাচ তরুণ ফুটবলারদের নিজেদের স্নায়ুচাপ নিয়ন্ত্রণ করতে শেখায়। পাশাপাশি, পুরো ম্যাচজুড়ে কীভাবে আত্মবিশ্বাস ধরে রাখতে হয়, সেটাও আমি বুঝতে পেরেছি।' জাতীয় দলে যে পজিশনে খেলেছিলেন, ইস্টবেঙ্গল হয়ত সেই জায়গায় খেলবেন না। ডুরান্ড থেকে জয়কে উইং হাফে খেলাচ্ছেন হাবাস। সদ্য জাতীয় দল থেকে ফিরেই নতুন পজিশনে মানিয়ে নেওয়া কতটা কঠিন?
জয় বলেন, 'প্রথমেই নিজের পজিশন নিয়ে বলতে চাই। একজন ফুটবলারের কাছে কোচের কাছ থেকে এই ধরনের আস্থা পাওয়া অত্যন্ত সম্মানের বিষয়। কোচ আমার ওপর যে বিশ্বাস রেখেছেন, তার ফলে আমি বিভিন্ন পজিশনে খেলার সুযোগ পাচ্ছি এবং নিজের খেলার ধরনকে আরও ভালভাবে মেলে ধরতে পারছি। আমার মনে হয়, কোচের এই আস্থা প্রত্যেক ম্যাচে আমাকে আরও আত্মবিশ্বাসী হতে সাহায্য করে।' অনেকেই মনে করছেন, ইস্টবেঙ্গলের গ্রুপে ইরাকের দলই সবচেয়ে শক্তিশালী। তেমন মনে করছেন না জয়। বরং চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিলেন বিপক্ষকে। জয় বলেন, 'অনেকে ভাবছেন এই মুহূর্তে লিগে বা গ্রুপে আল শোর্তা সবচেয়ে শক্তিশালী দল। তবে আমি একমত নই। আবার আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে নিজেদেরও সবচেয়ে শক্তিশালী দল বলে দাবি করতে চাই না। ওরা গ্রুপ পর্বের প্রথম ম্যাচ জিতে এখানে এসেছে। ওরা কী নিয়ে মাঠে নামে, সেটা দেখার জন্য আমরা অবশ্যই উত্তেজিত। আর আমাদের সামনে যেকোনও পরিস্থিতি আসুক না কেন, তার মোকাবিলা করার জন্য আমরা সম্পূর্ণ প্রস্তুত।'
ডার্বি হারের চারদিন পরই নামতে হবে আন্তর্জাতিক মঞ্চে। কতটা কঠিন এবং চ্যালেঞ্জিং? এদিন সাংবাদিক সম্মেলনে আত্মবিশ্বাস যেন ঝরে পড়ছিল জয়ের শরীরীভাষায়। ব্রাজিল, উরুগুয়ের বিরুদ্ধে ম্যাচ নিঃসন্দেহে মনোবল বাড়িয়ে দিয়েছে। জয় বলেন, 'একটা ভাল দল সবসময়ই জানে কীভাবে কঠিন পরিস্থিতি থেকে ঘুরে দাঁড়াতে হয়। তাই আমরা সেভাবেই এগোতে চাই। আমাদের লক্ষ্য ঘুরে দাঁড়ানো। আল হোসেইনের বিরুদ্ধে প্রথম ম্যাচে যে আত্মবিশ্বাস আমরা পেয়েছিলাম, সেটাকেই পরের ম্যাচেও কাজে লাগাতে চাই। আশা করছি, তিন পয়েন্ট অর্জন করতে পারব।'
একের পর এক টুর্নামেন্ট চলছে। কোনও বিরাম নেই ফুটবলারদের। দেশের জার্সিতে খেলার একদিন পরই শিল্ড ডার্বিতে নামতে হয়েছে। তাতে কোনও অভিযোগ নেই লাল হলুদের উইং ব্যাকের। বরং, তিনি মনে করেন, সেরাটা ধরে রাখতে বেশি ম্যাচ খেলা প্রয়োজন। জয় বলেন, 'আমার মতে, নিজেদের সেরাটা ধরে রাখতে হলে আমাদের আরও বেশি ম্যাচ খেলতে হবে। পুরো মরশুম জুড়ে কাঙ্ক্ষিত মানের পারফরম্যান্স বজায় রাখতে এবং মরশুমের শেষে আরও আত্মবিশ্বাস এবং অভিজ্ঞতা অর্জন করতে বেশি ম্যাচ খেলা অত্যন্ত জরুরি। আমি চাই, আমরা আরও বেশি ম্যাচ খেলার সুযোগ পাই।' মঙ্গল রাতে আরও একবার হাবাসের অন্যতম সেরা অস্ত্র হয়ে উঠতে পারবেন জয়? সেই আশায় থাকবেন লাল হলুদের সমর্থকরা।
