সাতকানিয়ায় সড়ক দুর্ঘটনায় বাবা–মেয়ের মৃত্যুকে কেন্দ্র করে পুলিশের গাড়িতে হামলা, ভাঙচুর ও অস্ত্র ছিনিয়ে নেওয়ার ঘটনায় মামলা হয়েছে। মামলায় ১৩ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা ৫০০ থেকে ৬০০ জনকে আসামি করা হয়েছে। এ ঘটনায় চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
সাতকানিয়া থানার উপপরিদর্শক জায়েদ হোসেন বাদী হয়ে বিশেষ ক্ষমতা আইনে মামলাটি করেন। গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন মো. হাসিবুল ইসলাম (২২), মো. হোসাইন (৩০), লিয়াকত সিকদার (২৪) ও মো. আজাহার সিকদার (১৯)। পুলিশ জানায়, কালিয়াইশ ইউনিয়নের মীরনগর ও রসুলাবাদ এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। এর আগে গত শুক্রবার রাতে চট্টগ্রাম–কক্সবাজার মহাসড়কের সাতকানিয়া অংশের পাঠানিপুলের উত্তর পাশে ডিবিএম ইটভাটা এলাকায় মিনিবাস ও সিএনজি টেঙির মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে কালিয়াইশের মো. দেলোয়ার হোসেন ও তার মেয়ে ওয়াসিফা জান্নাত নিহত হন। দেলোয়ারের স্ত্রী ও ছেলেসহ আহত হন চারজন। দুর্ঘটনার পর স্থানীয় লোকজন মিনিবাসটিতে আগুন ধরিয়ে দেন। তারা সড়কে ব্যারিকেড দিয়ে যান চলাচল বন্ধ করে দেন। এতে মহাসড়কে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়।
খবর পেয়ে সাতকানিয়া থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গেলে উত্তেজিত লোকজন পুলিশের গাড়িতে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর করেন। এ সময় পুলিশের কাছ থেকে অস্ত্র ছিনিয়ে নেওয়ার ঘটনা ঘটে। এতে সাতজন পুলিশ সদস্য আহত হন। এছাড়া সাতকানিয়া ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি ভাঙচুর এবং কর্মীদের ওপর হামলার অভিযোগ রয়েছে। দোহাজারী হাইওয়ে পুলিশের সদস্যদেরও ধাওয়া করা হয় এবং দায়িত্ব পালনে বাধা দেওয়া হয়।
পরে সাতকানিয়া সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. আরিফুল ইসলাম সিদ্দিকীর নেতৃত্বে অতিরিক্ত পুলিশ সদস্যরা ঘটনাস্থলে যান। তারা বিক্ষুব্ধ লোকজনকে ছত্রভঙ্গ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। এ সময় পুলিশের কাছ থেকে ছিনিয়ে নেওয়া অস্ত্রটি উদ্ধার করা হয়। পরে মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।
সাতকানিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আবদুল আলীম বলেন, পুলিশের গাড়িতে হামলা, ভাঙচুর, অস্ত্র লুট ও সরকারি কাজে বাধা দেওয়ার ঘটনায় থানায় মামলা হয়েছে। মামলায় ১৩ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা ৫০০ থেকে ৬০০ জনকে আসামি করা হয়েছে। ওসি আরও জানান, গ্রেপ্তার চারজনকে শনিবার আদালতে হাজির করা হলে আদালত তাদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। এ ঘটনায় জড়িত অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।
