শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা, শিক্ষকের নীতি-নৈতিকতা এবং অন্যায়ের নিরপেক্ষ বিচার প্রসঙ্গে কঠোর বার্তা দিয়েছেন বিশিষ্ট ইসলামিক স্কলার ও খতিব মাওলানা আব্দুল হাই মোহাম্মদ সাইফুল্লাহ। তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, নিজ সন্তানের নিরাপত্তার প্রশ্নে কোনো ধরনের আপস বা ছাড় দেওয়ার সুযোগ নেই।
শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীর সম্পর্কের সীমারেখা টেনে এসব মন্তব্য করেন তিনি।
মাওলানা আব্দুল হাই সাইফুল্লাহ বলেন, শিক্ষার্থীর প্রতি শাসন, স্নেহ ও যত্নের একটি সুনির্দিষ্ট সীমারেখা রয়েছে। বিশেষ করে ধর্মীয় শিক্ষকদের ক্ষেত্রে এই নীতি-নৈতিকতার মানদণ্ড আরও কঠোর হওয়া উচিত। ‘পিতার মতো’ কিংবা ‘বড় ভাইয়ের মতো’ আবেগীয় পরিচয় দিয়ে সীমা লঙ্ঘনের ঘটনাকে কোনোভাবেই বৈধতা দেওয়া যায় না। যিনি স্নেহ ও শাসনের মৌলিক সীমা বোঝেন না, শিক্ষকতার দায়িত্ব পালনের যোগ্যতা নিয়েই প্রশ্ন তোলা উচিত।
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অনৈতিক কর্মকাণ্ড ধামাচাপা দেওয়ার প্রবণতার কঠোর সমালোচনা করে তিনি উল্লেখ করেন, অভিযোগ উঠলে নিরপেক্ষ তদন্ত সাপেক্ষে অপরাধ প্রমাণিত হলে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে। নিরপেক্ষ বিচার নিশ্চিত না করে অন্যায় চেপে রাখা দ্বিগুণ ক্ষতিকর, যা একদিকে অপরাধের বিচারকে বাধাগ্রস্ত করে, অন্যদিকে প্রতিষ্ঠানের বিশ্বাসযোগ্যতা নষ্ট করে।
তিনি আরও বলেন, নিজেদের মধ্যকার অন্যায় আড়াল করে অপরের অন্যায়ের বিরুদ্ধে সরব হওয়া কোনো ধর্মীয় বা নৈতিক শিক্ষা হতে পারে না। নিজেদের ভুল সংশোধন না করে অন্যকে নসিহত করার নৈতিক অধিকার থাকে না।
ন্যায়বিচারের মানদণ্ড কোনো ব্যক্তি, পদবি বা প্রতিষ্ঠানভেদে বদলাতে পারে না উল্লেখ করে এই বিশিষ্ট আলেম জানান, অন্যায়ের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে সন্তানের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করাই অভিভাবক ও সমাজের প্রধান অগ্রাধিকার হওয়া উচিত।
জেএইচআর
