আজকাল ওয়েবডেস্ক: চোরবাগান সর্বজনীনের পদপিষ্টের ঘটনায় ১৯ জনের মৃত্যুর পর আগামী বছরের দুর্গাপুজোর আয়োজন ও নিরাপত্তা নিয়ে আগাম পরিকল্পনার পথে হাঁটতে চাইছে রাজ্য সরকার। মণ্ডপের আকার ছোট করা থেকে শুরু করে নিরাপত্তার খুঁটিনাটি পর্যালোচনা, সব বিষয়েই পুজো কমিটিগুলির সঙ্গে আলোচনায় বসতে চলেছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।
আগামী ২৬ অক্টোবর কলকাতা, হাওড়া ও বিধাননগরের প্রায় ৮ হাজার পুজো কমিটিকে নিয়ে বিশেষ বৈঠক ডাকা হয়েছে। চোরবাগান-কাণ্ডের পুনরাবৃত্তি ঠেকাতে আগামী বছরের পুজোর প্রস্তুতি এখন থেকেই শুরু করার কথা জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।
চলতি বছরে রাজ্যে প্রায় ৬৬ হাজার দুর্গাপুজো অনুষ্ঠিত হলেও চোরবাগানের ঘটনা ছাড়া অন্য কোথাও বড় ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি বলে দাবি করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। তবে চোরবাগানের দুর্ঘটনাকে অত্যন্ত দুঃখজনক বলে উল্লেখ করে তিনি জানিয়েছেন, মাত্র দেড় থেকে দু’মিনিটের মধ্যে ঘটে যাওয়া এই বিপর্যয়ের পিছনে মানবিক ভুলের সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। যদিও দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ এখনও তদন্তসাপেক্ষ।
মুখ্যমন্ত্রী আরও জানিয়েছেন, বিশেষ তদন্তকারী দল (সিট)-এর রিপোর্টে যে সমস্ত সুপারিশ করা হবে, তা খতিয়ে দেখেই আগামী দিনের পুজোর আয়োজন ও নিরাপত্তার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। তদন্তের রিপোর্ট বিধানসভা এবং সাংবাদিকদের সামনে প্রকাশ করা হবে বলেও জানিয়েছেন তিনি। তাঁর বক্তব্য, ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তের জন্য স্বাধীন তদন্তকারী দল গঠন করা হয়েছে।
গত ১৭ অক্টোবর সপ্তমীর দিন চোরবাগান সর্বজনীন দুর্গাপুজো মণ্ডপে পদপিষ্ট হয়ে ১৯ জনের মৃত্যু হয়। ওই ঘটনার তদন্তে রাজ্য সরকার একটি ছ’সদস্যের বিশেষ তদন্তকারী দল গঠন করেছে। অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি অনিন্দিতা রায় সরস্বতীর নেতৃত্বে গঠিত এই দলের সদস্যদের মধ্যে রয়েছেন বিপর্যয় মোকাবিলা ও নাগরিক সুরক্ষা দফতরের প্রিন্সিপাল সেক্রেটারি রাজেশ সিনহা এবং রাজ্য এসটিএফের ডিজিপি জাভেদ শামিম। এই ঘটনায় এখনও পর্যন্ত মোট ৯ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
চোরবাগান-কাণ্ডের তদন্ত শেষ হওয়ার পর সিটের সুপারিশ কতটা কার্যকর করা হয় এবং আগামী বছরের পুজোয় নিরাপত্তার ব্যবস্থায় কী পরিবর্তন আসে, এখন সেদিকেই নজর থাকবে।
