পূর্ব বর্ধমানের ক্ষীরগ্রামের এই মহাপীঠের মাহাত্ম্য কেবল গল্পকথায় আটকে নেই। মিশে রয়েছে মানুষের রক্তে-ঘামে। বলা হয়, এখানে সতীর ডান পায়ের অঙ্গুষ্ঠ পতিত হয়েছিল। দেবী এখানে মোক্ষদায়িনী, নিখিল বিশ্বের জননী।
ক্ষীরগ্রামের মা যোগাদ্যার বাৎসরিক পুজোর মাহাত্ম্য সতীর বাহান্ন পীঠের অন্যতম ঐতিহ্য বয়ে নিয়ে চলেছে। এখানে দেবীর মূর্তি স্থায়ী ভাবে গর্ভগৃহে থাকে না। বছরের অধিকাংশ সময় তিনি বিরাজ করেন ক্ষীরদিঘির অতল গর্ভে। বছরে মাত্র ছ’দিন জল ভেঙে ডাঙায় ওঠেন মা। তবে ভক্তরা দেবীর চাক্ষুষ দর্শন পান মাত্র দুই তিথিতে—বৈশাখ সংক্রান্তির পূর্বাহ্ণে এবং জ্যৈষ্ঠের চার তারিখে। বৈশাখী মহাপুজোর আগে তিন দিন ধরে রামায়ণ পাঠ ও মহীরাবণ বধ পালার অনুষ্ঠানে গ্রামজুড়ে ভক্তির আবহ তৈরি হয়।
শাস্ত্রমতে, দেবীর এই বিশেষ তিথিতে অন্নকূট বা মহামায়ার প্রসাদ নিবেদনই পুজোর প্রধান অঙ্গ। মহিষ বলির পর দেবী একমাত্র বিশুদ্ধ অন্নভোগ গ্রহণ করেন। এই অন্নকূট নিবেদনে নৈবেদ্যের প্রতিটি কণা হতে হয় পরম পবিত্র ও নিখুঁত। ক্ষীরগ্রামের সনাতন রীতি অনুযায়ী, মায়ের ভোগ তৈরিতে লাগে শ্রেষ্ঠ ধান থেকে প্রস্তুত ধবধবে শুভ্র চাল। আর এই পরম শুদ্ধাচারের একমাত্র নির্ভরযোগ্য ভরসা—লালবাবা রাইস।
শাস্ত্রমতে, দেবীর এই বিশেষ তিথিতে অন্নকূট বা মহামায়ার প্রসাদ নিবেদনই পুজোর প্রধান অঙ্গ। মহিষ বলির পর দেবী একমাত্র বিশুদ্ধ অন্নভোগ গ্রহণ করেন। এই অন্নকূট নিবেদনে নৈবেদ্যের প্রতিটি কণা হতে হয় পরম পবিত্র ও নিখুঁত। ক্ষীরগ্রামের সনাতন রীতি অনুযায়ী, মায়ের ভোগ তৈরিতে লাগে শ্রেষ্ঠ ধান থেকে প্রস্তুত ধবধবে শুভ্র চাল। আর এই পরম শুদ্ধাচারের একমাত্র নির্ভরযোগ্য ভরসা— লালবাবা রাইস।
যে চালে তৈরি হয় মহামায়ার নৈবেদ্য, তার গুণমান ও শুভ্রতা হতে হয় সর্বাঙ্গীন শুদ্ধ। দেবীর অন্নভোগে লালবাবা চালের প্রতিটি দানা থাকে প্রস্ফুটিত, শুভ্র এবং সুগন্ধী। চালের অখণ্ডতা যেন ভক্তের একনিষ্ঠ ভক্তিরই প্রতীক। লালবাবা রাইসের ঐতিহ্য ও আধুনিক প্রক্রিয়াকরণ নিশ্চিত করে যে, নৈবেদ্যে কোনও অপবিত্রতা প্রবেশ করতে পারবে না। ক্ষীরগ্রামের চিরাচরিত রেওয়াজ বজায় রেখে দেবীর পাত পাড়তে লালবাবা চালের জুরি মেলা ভার!
ত্রেতা যুগে মহীরাবণ বধের পর রামচন্দ্র স্বয়ং যাঁর প্রতিষ্ঠা করেছিলেন, সেই শক্তির আরাধনায় নৈবেদ্য সাজাতে লালবাবা রাইস আজও ভক্তের প্রথম পছন্দ। ভক্ত হৃদয় ও শাস্ত্রীয় শুদ্ধতার মেলবন্ধনে লালবাবা চাল নিয়ে এসেছে নিষ্ঠা ও পূর্ণতার ছোঁয়া। মা যোগাদ্যার মহামায়া রূপে ভোগ নিবেদনে লালবাবা চালই হয়ে উঠেছে আস্থার অপর এক নাম!
