রূপপুর প্রথম ইউনিটের পারমাণবিক বিক্রিয়া শুরু হয়েছে। এর মাধ্যমে বিদ্যুৎ উৎপাদনের চূড়ান্ত ধাপের আরও কাছাকাছি পৌঁছে গেলো বিদ্যুৎ কেন্দ্রটি।
রোববার (১১ অক্টোবর) বেলা ৩টা ৩৪ মিনিটে পারমাণবিক বিক্রিয়া শুরু হয়েছে বলে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। কয়েক দফায় পিছিয়ে ডিসেম্বরে জাতীয় গ্রিডে ৩০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহের পরিকল্পনার কথা জানা গেছে।
রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র সূত্র বলছে, পারমাণবিক বিকিরণের মাধ্যমে শক্তি উৎপাদনপ্রক্রিয়া সেপ্টেম্বরে শুরুর পরিকল্পনা ছিল। নিরাপত্তা ভালভের পরীক্ষায় ত্রুটি ধরা পড়লে এটি পিছিয়ে যায়। গত সপ্তাহে উচ্চ চাপে দুই দফায় ভালভের পরীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে। এই পরীক্ষার ফলাফল যাচাই শেষে ৮ অক্টোবর বিক্রিয়ার অনুমোদন দিয়েছে বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের (বায়েরা)। বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরুর আগে বিক্রিয়াকে বলা হয় ‘ফার্স্ট ক্রিটিক্যালিটি’। জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ করার পূর্বে আরও দুটি অনুমোদনের প্রয়োজন হবে।
প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছে, রূপপুরের সামনে বড় চ্যালেঞ্জ ছিল ফার্স্ট ক্রিটিক্যালিটি। ফার্স্ট ক্রিটিক্যালিটিসহ পুরো ফিজিক্যাল স্টার্ট-আপ প্রক্রিয়ায় প্রায় ৩০ থেকে ৪০ দিন সময় লাগতে পারে। পরীক্ষার ফলাফল সন্তোষজনক হলে ধাপে ধাপে রিঅ্যাক্টরের ক্ষমতা বাড়ানো হবে।
ফিজিক্যাল স্টার্ট-আপ শেষ হওয়ার পর প্রকল্পটি ‘পাওয়ার স্টার্ট-আপ’ পর্যায়ে প্রবেশ করবে। এ পর্যায়ে ধীরে ধীরে রিঅ্যাক্টরের ক্ষমতা বাড়ানো, টারবাইন সিনক্রোনাইজেশন এবং শেষ পর্যন্ত জেনারেটরকে জাতীয় গ্রিডের সঙ্গে সংযুক্ত করার কার্যক্রম পরিচালিত হবে। এজন্য অপারেটিং অর্গানাইজেশনকে বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের (বায়রা) কাছ থেকে ট্রায়াল অপারেশনাল লাইসেন্স নিতে হবে।
রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে ব্যয়বহুল প্রকল্প। এতে সিংহভাগ অর্থায়ন দিয়েছে রাশিয়া। পরিকল্পনা অনুযায়ী ২০২৩ এ প্রথম ইউনিট থেকে উৎপাদন শুরু হওয়ার কথা ছিল। রাশিয়ার উপর পশ্চিমাদের নিষেধাজ্ঞার কারণে জার্মান প্রতিষ্ঠান সিমেন্স কাজকে জটিল করে তোলে।
সিমেন্স ২৩৩/৪০০ কেভি জিআইএস সাব স্টেশন সরবরাহ করার কথা ছিল। শেষ সময়ে সাব স্টেশন সরবরাহ করতে অস্বীকৃতি জানালে নতুন ঠিকাদার নিযুক্ত করা হয় চীনা কোম্পানিকে। নানা কারণে বাণিজ্যিক উৎপাদনের তারিখ পিছিয়ে দেওয়া হয়।
গত ২৮ এপ্রিল প্রথম ইউনিটে আনুষ্ঠানিকভাবে পারমাণবিক জ্বালানি (ইউরেনিয়াম) লোডিং বা 'ফিজিক্যাল স্টার্টআপ' কার্যক্রমের শুভ উদ্বোধন করা হয়।
