ছবি: সংগৃহীত
যশোরে চুরির অভিযোগে স্বাধীন (২২) নামের এক যুবককে মারধরের পর হত্যার অভিযোগ উঠেছে। গুরুতর আহত অবস্থায় তাঁকে প্রথমে যশোরে চিকিৎসা দেওয়া হয়। পরে শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) বিকেলে তাঁর মৃত্যু হয়।
নিহত স্বাধীন যশোর শহরের বারান্দীপাড়া মোল্লাপাড়া এলাকার বাসিন্দা টিপু হোসেনের ছেলে। তাঁর মৃত্যুর ঘটনায় পরিবারের সদস্যরা কয়েকজনের বিরুদ্ধে পরিকল্পিতভাবে মারধর করে হত্যার অভিযোগ তুলেছেন। তবে এ বিষয়ে এখনো থানায় কোনো লিখিত অভিযোগ জমা পড়েনি বলে জানিয়েছে পুলিশ।
প্রাসঙ্গিক সংবাদ
পরিবারের বরাতে জানা যায়, গত শনিবার রাতে যশোর শহরের মালোপাড়া মন্দিরে পূজা দেখতে গিয়েছিলেন স্বাধীন। সেখানে তাঁকে চুরির অপবাদ দেওয়া হয়। একপর্যায়ে তাঁকে মারধর করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এতে তিনি গুরুতর আহত হন। পরে আহত অবস্থায় তাঁকে উদ্ধার করে যশোরের ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালে নেওয়া হয়।
সেখানে চিকিৎসা চলাকালে তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটে। পরে তাঁকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় স্থানান্তর করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়। মৃত্যুর পর মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য যশোর জেনারেল হাসপাতালে রাখা হয়েছে বলে জানা গেছে।
স্বাধীনের দাদি সেলিনা বেগম অভিযোগ করেন, মালোপাড়ার ওলি নামের এক নারী প্রথমে তাঁর নাতিকে আঘাত করেন। পরে সেখানে আরও লোকজন জড়ো হয়ে তাঁকে মারধর করেন। এ ঘটনায় স্বাধীন গুরুতর আহত হন বলে তাঁর দাবি।
নিহতের বাবা টিপু হোসেনের অভিযোগ, ছোট কসাই, শহিদুল ও উজ্জ্বলসহ কয়েকজন তাঁর ছেলেকে পরিকল্পিতভাবে মারধর করে হত্যা করেছেন। তিনি ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার পাশাপাশি দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
এদিকে যশোর কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা কবির হোসেন জানান, এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত থানায় কেউ অভিযোগ করেননি। অভিযোগ পেলে বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
চুরির অভিযোগকে কেন্দ্র করে এক যুবকের মৃত্যুর ঘটনায় এলাকায় উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। তবে স্বাধীনকে মারধরের ঘটনা, এতে কারা জড়িত এবং মৃত্যুর সঙ্গে এর যোগসূত্র—এসব বিষয় তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন। পরিবারের অভিযোগের পাশাপাশি ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন ও অন্যান্য তথ্য ঘটনার প্রকৃত চিত্র নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ হবে।
মাতৃভূমির খবর

