Published on
:
3 min read
নিউ জ়িল্যান্ডের (New Zealand) বিরুদ্ধে দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টিতে ৭০ রানে ৫ উইকেট হারিয়ে যখন হারের মুখে ভারত (India), তখনই ব্যাট হাতে ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেন তিলক বর্মা (Tilak Varma)। তাঁর সঙ্গে নীতীশ কুমার রেড্ডির (Nitish Kumar Reddy) দুরন্ত জুটিতে ভর করে চার উইকেটে রুদ্ধশ্বাস জয় তুলে নেয় টিম ইন্ডিয়া। ২৬ বলে অপরাজিত ৫১ রান করে ম্যাচের সেরা হন তিলক। শুধু ব্যাট হাতেই নয়, ফিল্ডিংয়েও নজর কাড়েন তিনি। নিউ জ়িল্যান্ডের ইনিংসে দু’টি ক্যাচ ধরে এক বছরে আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে সবচেয়ে বেশি ক্যাচ নেওয়ার বিশ্বরেকর্ড গড়েন ভারতীয় ব্যাটার। ক্রাইস্টচার্চে এই জয়ের সুবাদে পাঁচ ম্যাচের সিরিজ়ে ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে গেল ভারত।
৭০ রানে ৫ উইকেট হারিয়ে বিপর্যয়, তিলকের লড়াইয়ে ঘুরে দাঁড়াল ভারত
১৮১ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে একের পর এক উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে যায় ভারত। ১১তম ওভারে দলের রান ছিল ৭০, উইকেট পড়ে গিয়েছিল পাঁচটি। কিউয়িদের স্পিনে ভারতীয় ব্যাটারদের নাজেহাল করে দেন নিউ জ়িল্যান্ডের অধিনায়ক মিচেল স্যান্টনার। মাত্র ২১ রান দিয়ে চারটি উইকেট নেন তিনি। সেই পরিস্থিতিতে নমন ধীরের সঙ্গে জুটি বেঁধে ভারতকে লড়াইয়ে ফেরানোর চেষ্টা করেন তিলক। দু’জনের জুটিতে ওঠে ৪২ রান। নমন ৩১ রান করে আউট হওয়ার পর আবার ধাক্কা খায় ভারত। ১৫তম ওভারে ১১২ রানে ৬ উইকেট পড়ে যায়।
সেখান থেকে নীতীশ কুমার রেড্ডিকে সঙ্গে নিয়ে পাল্টা আক্রমণ শুরু করেন তিলক। নীতীশ ১৩ বলে অপরাজিত ২৬ রান করেন। অন্য দিকে, তিলক ২৬ বলে ৫১ রান করে অপরাজিত থাকেন। দু’জনে মাত্র ৩০ বলে ৬৯ রানের অপরাজিত জুটি গড়ে ভারতের জয় নিশ্চিত করেন। শেষ ওভারের আগেই ম্যাচের রাশ নিজেদের হাতে নিয়ে নেন তাঁরা। শেষ পর্যন্ত ১৯.৫ ওভারে জয়ের রান তুলে নেয় ভারত।
কোচের বার্তাই আত্মবিশ্বাস জুগিয়েছিল তিলককে
ম্যাচের সেরা হওয়ার পর তিলক জানান, পাঁচ উইকেট পড়ে যাওয়ার পর তাঁর লক্ষ্য ছিল শেষ পর্যন্ত ক্রিজ়ে থাকা। ম্যাচের পর পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, ‘পাঁচ উইকেট পড়ে যাওয়ার পর আমি শুধু ভাবছিলাম, শেষ পর্যন্ত ক্রিজ়ে থাকতে হবে। আজকের ম্যাচের আগে কোচ গৌতম গম্ভীর স্যর এবং সিতাংশু কোটক স্যরের সঙ্গে কথা হয়েছিল। ওঁরা দু’জনেই একটা কথা বলেছিলেন, যেটা আমরা সবাই বিশ্বাস করি, গোটা ভারতও বিশ্বাস করে— তোমার উপর আমাদের আস্থা রয়েছে।’
তিলক আরও বলেন, ‘ওঁরা বলেছিলেন, তুমি যদি শেষ পর্যন্ত ক্রিজ়ে থাকতে পারো, তা হলে আমাদের ম্যাচ জিতিয়ে দেবে। সেই কথাটাই আমার মাথায় ঘুরছিল। আমি চেয়েছিলাম, ম্যাচটাকে যতটা সম্ভব শেষ পর্যন্ত টেনে নিয়ে যেতে। শেষ পর্যন্ত সেটাই করতে পেরেছি।’ চাপের মুখে এই আত্মবিশ্বাসই তাঁকে সাহায্য করেছে বলে জানান তিলক। দ্রুত রান তোলার তাড়াহুড়ো না করে ম্যাচের পরিস্থিতি বুঝে খেলতে চেয়েছিলেন তিনি। উইকেট ধরে রেখে শেষ দিকে আক্রমণ করার পরিকল্পনাই কাজে দিয়েছে।
নমন আউট না হলে আরও আগেই জিতত ভারত
ক্রাইস্টচার্চের পিচ কিছুটা মন্থর ছিল বলে জানিয়েছেন তিলক। সেই কারণে স্পিনারদের বিরুদ্ধে বড় শট খেলা সহজ হচ্ছিল না। তাঁর মতে, নমন ধীর ক্রিজ়ে থাকলে ভারত আরও আগেই ম্যাচ শেষ করতে পারত। তিলকের দাবি, ‘পিচটা একটু মন্থর ছিল। দুর্ভাগ্যজনক ভাবে নমন আউট হয়ে গেল। ও যদি ক্রিজ়ে থাকত, তা হলে আমরা ১৯তম ওভারেই ম্যাচ শেষ করে দিতে পারতাম।’
নীতীশের সঙ্গে ব্যাটিংয়ের পরিকল্পনা নিয়েও মুখ খুলেছেন তিলক। দু’জনেই হায়দরাবাদের ক্রিকেটার। তাঁদের পরিকল্পনা ছিল, ইতিবাচক মানসিকতা নিয়ে ব্যাট করা, ফাঁকা জায়গায় শট খেলা এবং দ্রুত দৌড়ে রান নেওয়া। তিলক বলেন, ‘আমরা দু’জনেই হায়দরাবাদের। আমাদের পরিকল্পনা ছিল ইতিবাচক মানসিকতা নিয়ে খেলব, ফাঁকা জায়গায় বল পাঠাব এবং দৌড়ে রান নেব। আমার মনে হয়, আমরা সেটা করতে পেরেছি। কয়েকটা গুরুত্বপূর্ণ ৮-১০ রান পেয়েছি। আমরা জানতাম, জোরে বল করা বোলারদের বিরুদ্ধে বাউন্ডারি মারতে পারব। ফাঁকা জায়গা খুঁজে রান নেওয়ার ক্ষমতাও আমাদের ছিল।’