Published on
:
2 min read
দুর্গাপুজো মানে বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডা, রাত জেগে ঠাকুর দেখা, পছন্দের খাবার আর জমিয়ে আনন্দ। আবার রাতে বন্ধুদের সঙ্গে পানীয়ের পরিকল্পনাও থাকে অনেকের। সপ্তমীর রাতে কি আপনারও তেমন প্ল্যান আছে? কিন্তু সমস্যা হলো, পরদিন অষ্টমীর সকালে অঞ্জলি দেওয়ার তাড়া! এবারে আবার অষ্টমীর পুজো, সন্ধিপুজো সবই ভোর ভোর। এদিকে রাতে পান করে মাথা ভার, গা গুলিয়ে ওঠা, অতিরিক্ত তৃষ্ণা, ক্লান্তি কিংবা মাথাব্যথা নিয়ে পুজো দিতে যাওয়ার মোটেই সুখকর অভিজ্ঞতা নয়। মদ্যপানের পর এমন উপসর্গকে সাধারণ ভাবে হ্যাংওভার বলা হয়। তবে কয়েকটি বিষয়ে সতর্ক থাকলে অস্বস্তি কিছুটা কমানো যায়। মনে রাখতে হবে, হ্যাংওভার কাটানোর কোনও তাৎক্ষণিক বা জাদুকরি উপায় নেই। শরীরকে সুস্থ হতে সময় দিতে হয়।
জল পান করুন, তবে ধীরে ধীরে
মদ্যপানের ফলে শরীরে ডিহাইড্রেশন তৈরি হতে পারে, যা তৃষ্ণা, মাথাব্যথা ও দুর্বলতার অন্যতম কারণ। তাই অস্বস্তি হলে অল্প অল্প করে জল পান করুন। বমি বা ডায়ারিয়া হলে ওআরএস উপকারী হতে পারে। তবে একসঙ্গে অনেকটা জল খাওয়ার প্রয়োজন নেই। মনে রাখবেন, জল পান করলে শরীরের ডিহাইড্রেশন কমতে পারে, কিন্তু রক্তে থাকা অ্যালকোহল দ্রুত বেরিয়ে যায় না।
হালকা খাবার খান
খালি পেটে মদ্যপান করলে অ্যালকোহল দ্রুত শোষিত হতে পারে। পরদিন সকালে গা গুলিয়ে উঠলে অল্প করে সহজপাচ্য খাবার খান। টোস্ট, কলা, ভাত, স্যুপ কিংবা হালকা খিচুড়ি খেতে পারেন। খাবার শরীরে শক্তি জোগাতে সাহায্য করবে। তবে জোর করে বেশি খাবেন না। পেটের অস্বস্তি বাড়লে অল্প অল্প করে খাওয়াই ভালো।
পর্যাপ্ত বিশ্রাম নিন
রাত জাগা ও মদ্যপান— দুটিই ঘুমের স্বাভাবিক ছন্দে ব্যাঘাত ঘটাতে পারে। তাই অষ্টমীর সকালে শরীর খারাপ লাগলে সম্ভব হলে আরও কিছুটা বিশ্রাম নিন। মাথা ঘোরা, দুর্বলতা বা বমি বমি ভাব থাকলে ভিড়ের মধ্যে বেরোনোর আগে সুস্থ বোধ করছেন কি না, তা বুঝে নিন। শরীর খারাপ নিয়েও পুজো দেখতে বেরোনোর প্রয়োজন নেই।
কফি বা ঠান্ডা পানীয় কি হ্যাংওভার কাটায়?
কফি সাময়িক ভাবে ঘুমঘুম ভাব কমাতে পারে, কিন্তু হ্যাংওভার সারায় না। একই ভাবে ঠান্ডা জল দিয়ে স্নান, এনার্জি ড্রিঙ্ক বা আরও মদ্যপান করলেও শরীর দ্রুত সুস্থ হয় না। বরং আবার মদ্যপান করলে অস্বস্তি দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে।
ওষুধ খাওয়ার আগে সতর্ক থাকুন
মাথাব্যথা হলেই নিজের ইচ্ছেমতো ব্যথানাশক খাবেন না। অ্যালকোহলের সঙ্গে প্যারাসিটামল লিভারের ক্ষতির ঝুঁকি বাড়াতে পারে। অন্যদিকে, কিছু ব্যথানাশক পেটের সমস্যা ও রক্তক্ষরণের ঝুঁকি বাড়াতে পারে। উপসর্গ তীব্র হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।
FAQ
১. হ্যাংওভার কাটানোর সবচেয়ে কার্যকর উপায় কী?
হ্যাংওভার দ্রুত সারানোর কোনও জাদুকরি উপায় নেই। পর্যাপ্ত বিশ্রাম, ধীরে ধীরে জল পান এবং সহনীয় হলে হালকা খাবার খাওয়া অস্বস্তি কমাতে সাহায্য করতে পারে। শরীরকে স্বাভাবিক হতে সময় দিতে হয়।
২. জল পান করলে কি হ্যাংওভার দ্রুত কেটে যায়?
জল পান করলে মদ্যপানের কারণে হওয়া ডিহাইড্রেশন কমতে পারে। তবে জল রক্তে থাকা অ্যালকোহল দ্রুত দূর করে না এবং হ্যাংওভার সঙ্গে সঙ্গে সারায় না।
৩. হ্যাংওভার হলে সকালে কী খাওয়া উচিত?
গা গুলিয়ে উঠলে অল্প পরিমাণে টোস্ট, কলা, ভাত, স্যুপ বা হালকা খিচুড়ি খেতে পারেন। একসঙ্গে বেশি খাবার না খেয়ে অল্প অল্প করে খাওয়াই ভালো।
৪. কফি খেলে কি হ্যাংওভার সেরে যায়?
না। কফি সাময়িক ভাবে ঘুমঘুম ভাব কমাতে পারে, কিন্তু হ্যাংওভার সারায় না। এনার্জি ড্রিঙ্ক বা আরও মদ্যপানও দ্রুত সুস্থ হওয়ার নির্ভরযোগ্য উপায় নয়।
৫. হ্যাংওভারের মাথাব্যথায় কি প্যারাসিটামল খাওয়া যায়?
মদ্যপানের পর নিজের ইচ্ছেমতো প্যারাসিটামল বা অন্য ব্যথানাশক খাওয়া ঠিক নয়। অ্যালকোহলের সঙ্গে প্যারাসিটামল লিভারের ক্ষতির ঝুঁকি বাড়াতে পারে। তীব্র মাথাব্যথা বা অন্য গুরুতর উপসর্গ হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।
