ছবির ক্যাপশন: ...............
সুজন শেখ খানসামা দিনাজপুর প্রতিনিধি
দিনাজপুরের খানসামায় মৃগী রোগে আক্রান্ত জয়া রানী রায় (৪০) নামে এক হত দরিদ্র মহিলা মাথা ঘুরে রান্নার করা চুলার উপর পুড়ে দগ্ধ হওয়ার ঘটনা ঘটেছে।
জানা যায়, গত (১৫ জানুয়ারি) সকালে উপজেলার আংঙ্গারপাড়া ইউনিয়নের মাস্টার পাড়ায় সবিতা রানী মহন্তের বাসায় পিঠা খাওয়ার দাওয়াতে আত্নীয়-স্বজন আসে।
প্রতিবেশী মৃগী রোগে আক্রান্ত হরিপদ রায়ের স্ত্রীর জয়া রানী রায় সবিতার বাড়িতে যায়। আত্নীয় স্বজনদের আপায়ণে ব্যস্ততায় পরিবারের সদস্যরা থাকায় হঠাৎ রান্নাঘরে প্রবেশ করে মৃগী রোগে আক্রান্ত জয়া রানী রায়। হঠাৎ তার মৃগী রোগের কারণে সে রান্না করা মাংসের কড়াইয়ে মাথা ঘুরে পড়ে যায় এবং তার একটি হাত চুলায় ঢুকে যায়। এতে গোটা মুখই ঝলসে গেছে তাঁর। দগ্ধ হয়েছে হাত ও গলার সামনের অংশ।
যেহেতু তিনি মৃগী রোগে আক্রান্ত তাই কোনো চিৎকার বা কোনো আওয়াজ করেন নি।
পরবর্তীতে সবিতা রানীর মা রান্না ঘরে এলে জয়াকে পড়ে থাকতে দেখেন। এরপর এলাকাবাসীর সহযোগিতায় মুমূর্ষু অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য সবিতা খানসামা উপজেলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে। তবে অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় পরে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখান থেকে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে স্থানান্তর করা হয় এবং তিনি এখন সেখানে চিকিৎসাধীন আছেন ।
এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, জয়া রানী বেশ কয়েক বছর আগে থেকেই মৃগী রোগে আক্রান্ত। মানবিক দিক থেকে সবিতা রানি মহন্ত তার চিকিৎসার সব খরচ বহন করছেন।
জয়া রানী রায় বলেন, সে আগে থেকেই এই মৃগী রোগে আক্রান্ত। সেই দিন হঠাৎ তাদের বাড়িতে যায়। রান্না ঘরে কেউ না থাকায় ঘরে ঢুকলে চুলার উপরে মাংস রান্না করা কড়াইয়ের উপর মাথা ঘুরে পড়ে যায়। কেঊ তাকে রান্না করতে বলেও নি।
তবে এর সূত্র ধরে এলাকার কিছু পাতি-নেতা সবিতা রানি মহন্তের কাছ থেকে টাকা দাবি করেন।
এ বিষয়ে খানসামা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি নজমূল হক বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়েছিলাম। সবিতার বাড়িতে যেহেতু ঘটনাটি ঘটেছে,মানবিক দিক থেকে তিনি অনেক ভালো কাজ করছেন। জানতে পারি জয়া রানী আগে থেকেই মৃগী রোগে আক্রান্ত। তবে কেউ টাকা দাবি করলে না দিয়ে রোগির জন্য সামর্থ্য অনুযায়ী খরচ করতে বলেন তিনি।
