সরকারদলীয় সংসদ সদস্যদের সভা
এলাকায় জনগণের সঙ্গে সম্পৃক্ততা বাড়াতে এমপিদের নির্দেশনা প্রধানমন্ত্রীর
ফন্ট সাইজ:
100%
নিজের সংসদীয় এলাকা ছেড়ে অন্য 'এলাকায়' গিয়ে যাতে কোনো এমপি মাতব্বরী না করেন সেবিষয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন বিএনপির সাংসদ গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরী। বিষয়টি সিরিয়াসলি দেখার জন্যও প্রধানমন্ত্রীর প্রতি অনুরোধ জানিয়েছেন তিনি। ওদিকে নির্বাচনি এলাকা এবং জনগণের সঙ্গে সম্পৃক্ততা বাড়নোর জন্য এমপিদের নির্দেশনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী৷ পাশাপাশি বিএনপির সরকারের ৭ মাসের বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড জনগণের কাছে তুলে ধরতেও নির্দেশ দেন সরকারপ্রধান।
রোববার জাতীয় সংসদ ভবনে সরকারদলীয় সদস্যদের সভাকক্ষে এমপিদের সভায় এসব বিষয়ে আলোচনা হয়েছে বলে সূত্রে জানা গেছে। সন্ধ্যা ৬টা ২০ মিনিটে এই শুরু হয়। শেষ হয় রাত সাড়ে ৯টার দিকে। এতে সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ নেতা তারেক রহমান।
সভায় উপস্থিত কয়েকজন সংসদ সদস্যদের সঙ্গে কথা হয়েছে মানবজমিনের৷ তারা জানিয়েছেন, সভায় উন্নয়নমূলক কাজ কি কি হয়েছে এবং কোথায় কি সমস্যা রয়েছে-সেবিষয়ে এমপিরা আলোচনা করেছেন। একই সঙ্গে ১৫ একবার কিংবা মাসে ১ মাস সরকারদলীয় সংসদ সদস্যদের সভা করার জন্য পরামর্শ দেয়া হয়। তবে এবিষয়ে সভায় কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। এছাড়া সভায় চট্টগ্রাম-৬ (রাউজান) আসনের সংসদ সদস্য গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরী প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেন, নিজের সংসদীয় এলাকা ছেড়ে অন্য 'এলাকায়' গিয়ে যাতে কোনো এমপি মাতব্বরী না করেন। বিষয়টি সিরিয়াসলি দেখার জন্য প্রধানমন্ত্রীর প্রতি অনুরোধ জানান তিনি। এসময় প্রায় সবাই হাততালি দিয়ে তার এই বক্তব্যের একাত্মতা প্রকাশ করে বলে জানা গেছে।
সূত্রে জানা গেছে, সভায় প্রধানমন্ত্রী এমপিদের নিজ নির্বাচনি এলাকা ও জনগণের সঙ্গে সম্পৃক্ত থেকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার নির্দেশনা দিয়েছেন৷ যাতে জনগণ এমপিদের কাজে সন্তুষ্ট হয়৷ একই সঙ্গে স্থানীয় নির্বাচন নিয়েও সভায় আলোচনা হয়েছে। এক্ষেত্রে দলীয় মনোনীত প্রার্থীর পক্ষে কাজ করে তাকে বিজয়ী করে আনার বিষয়ে নির্দেশনা দেয়া হয়৷
এছাড়া সভায় দেশের বর্তমান আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, সারে অনিয়ম এবং শারদীয় দুর্গাপূজাসহ বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হয়েছে বলেও সূত্রটি জানায়।
নামপ্রকাশে অনিচ্ছুক একজন সাংসদ মানবজমিনকে বলেন, সভায় বলা হয় বিএনপির তৃণমূলের নেতা কর্মী হতাশ। কারণ তাদের সঙ্গে মন্ত্রী এবং এমপিদের যোগাযোগ নেই। এবিষয়ে তৃণমূলের নেতা কর্মীদের সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকতে এবং তাদের সঙ্গে নিয়ে কাজ করার নির্দেশ দেন প্রধানমন্ত্রী।
আরেকজন সংসদ সদস্য বলেন, সভায় সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকা, নিজেদের মধ্যে একতা বা ইউনিটি বজায় রাখা এবং সাংগঠনিক শক্তি বৃদ্ধি করার ওপর জোর দেয়া হয়েছে। সামনে স্থানীয় সরকার নির্বাচন রয়েছে, তাই এই নির্বাচনকে কেন্দ্র করে আরও বেশি রাজনৈতিক প্রচার-প্রচারণা চালাতে হবে।
জানা গেছে, সভায় অনেক এমপি অভিযোগ করেন, স্থানীয় প্রশাসন তাদেরকে ঠিকভাবে সহায়তা না করায় তারা কাজ করতে পারছেন না। এতে জনসম্পৃক্তমূলক কর্মকাণ্ড থেকে অনেকটা পিছিয়ে পড়ছেন। যার ফলে সরকারের অনেক উন্নয়নমূল কাজ সম্পর্কে জনগণ ঠিকমতো অবহিত হতে পারছেন না।
সভায় এমপিদের বক্তব্যের পর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নানান বিষয়ে দিক-নির্দেশনামূলক বক্তব্য রাখেন। তিনি এমপিদের উদ্দেশ্যে বলেন, আপনারা এমপি হয়েছেন, মন্ত্রী হয়েছেন। কিন্তু দল ও সংগঠনকে ভুলে যাবেন না। এই সংগঠনের মধ্য দিয়েই আজকে আপনাদের পরিচিতি হয়েছে। দলের নেতাকর্মীদের ত্যাগের বিনিময়েই আপনারা আজ এই পর্যন্ত আসতে পেরেছেন। তাই কোনভাবেই তাদেরকে ভুলবেন না। তাদেরকে পাশে রাখুন, সংগঠনকে শক্তিশালী করুন।
এমপি, মন্ত্রী এলাকায় যাওয়ার পরামর্শ দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আপনারা নিজ এলাকায় যান। জনগণের সঙ্গে মিশুন। তাদের সুখ-দুঃখ সম্পর্কে জানুন। তাদের কষ্ট শুনুন। সর্বোচ্চটুকু দিয়ে তা সমাধানের চেষ্টা করুন। জনগণ থেকে দূরে সরে আসলে নিজেদেরই ক্ষতি। আপনাদের রাজনীতি থাকবে না।
সভা শেষে সাংবাদিকদের জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম মনি বলেন, চাঁদাবাজ ও দখলদারদের বিএনপিতে কোনও জায়গা নেই। বিএনপির নাম ব্যবহার করে অন্যায় করে পার পাওয়ার সুযোগ কাউকে দেয়া হবে না। এসব বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান অত্যন্ত কঠোর অবস্থানে রয়েছেন।
তিনি বলেন, সংসদের গত অধিবেশন শেষ হয়েছে গত মাসের ১০ তারিখে। আগামী মাসে নতুন অধিবেশন শুরু হওয়ার আগে সাধারণত এ ধরনের বৈঠক হয় না। তবে সংসদ সদস্যদের সমস্যা ও মতামত শুনতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। প্রায় তিন ঘণ্টা ধরে প্রধানমন্ত্রী সংসদ সদস্যদের কথা শুনেছেন। বিভিন্ন সমস্যার সমাধানে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীরা মতামত দিয়েছেন।
চিফ হুইপ বলেন, স্থানীয় সরকার, আইনশৃঙ্খলা, বিচার বিভাগ, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও শিক্ষাসহ বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। সরকারের কার্যক্রম আরও জবাবদিহিমূলক করা এবং জনগণের প্রত্যাশা অনুযায়ী সেবা পৌঁছে দেওয়ার বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী দিকনির্দেশনা দিয়েছেন।
স্থানীয় সরকার নির্বাচন প্রসঙ্গে নুরুল ইসলাম মনি বলেন, নির্বাচন কবে হবে, সে বিষয়ে বৈঠকে নির্দিষ্ট কোনও সময়সীমা নিয়ে আলোচনা হয়নি। তবে নির্বাচন যেন সুষ্ঠু হয় এবং কোনও ধরনের হস্তক্ষেপ না ঘটে, সে বিষয়ে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। প্রকৃতপক্ষে যিনি নির্বাচিত হওয়ার যোগ্য, তিনি যেন নির্বাচিত হতে পারেন, সেটি নিশ্চিত করতে হবে।
তিনি আরও বলেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচনের সময়সূচি ও অন্যান্য কার্যক্রমের বিষয়ে নির্বাচন কমিশন সাধারণত স্থানীয় সরকার বিভাগের সঙ্গে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেয়। এ ক্ষেত্রেও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আলোচনা করে সুবিধা-অসুবিধা বিবেচনায় নিয়ে নির্বাচন আয়োজন করা উচিত।
চিফ হুইপ বলেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচনে দলীয় প্রতীক থাকছে না। বিএনপি চেষ্টা করবে, প্রতিটি ইউনিয়নে যেন একক প্রার্থী থাকে। তৃণমূল পর্যায়ে দলের সাংগঠনিক বিস্তৃতি বিবেচনায় নিয়ে ঐক্যবদ্ধভাবে ও উৎসবমুখর পরিবেশে নির্বাচন আয়োজনের বিষয়ে গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে। মানুষের কাছে গ্রহণযোগ্য ব্যক্তিরা যেন স্থানীয়
