ইলিশ আমাদের অত্যন্ত মূল্যবান প্রাকৃতিক সম্পদ। এটি কেবল আমাদের জাতীয় মাছই নয়,দেশের অর্থনীতি,সংস্কৃতি এবং বাঙালিয়ানার এক অনন্য প্রতীক। দেশের অর্থনীতিতে ইলিশের ভূমিকা অপরিসীম। মধ্যপ্রাচ্যের তৈল সমৃদ্ধ দেশগুলোর মত ইলিশকে আমাদের দেশের প্রাকৃতিক সম্পদ বলা চলে।
দেশের মোট মৎস্য উৎপাদনে ইলিশের অবদান অনেক বড়। এ মাছ বিদেশে রপ্তানি করে প্রতি বছর প্রচুর বৈদেশিক মুদ্রা অর্জিত হয়। উপকূলীয় অঞ্চলের লাখ লাখ জেলে এবং ব্যবসায়ী প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে ইলিশ আহরণ,পরিবহন ও বিপণন প্রক্রিয়ার সাথে জড়িত। এটি তাদের জীবিকার প্রধান উৎস। বাঙালির উৎসব-পার্বণে, বিশেষ করে পহেলা বৈশাখে পান্তা-ইলিশের আয়োজন আমাদের সংস্কৃতির অংশ হয়ে গেছে। এছাড়া সর্ষে ইলিশ, ইলিশ পাতুরি, বা ভাজা ইলিশ ছাড়া বাঙালির ভোজনরসিকতা যেন পূর্ণতা পায় না।
বিশ্বের মোট ৭০% ইলিশের উৎপাদিত হয় বাংলাদেশে। বাংলাদেশের ইলিশ অনন্য স্বাদ ও সুগন্ধের জন্য বিশ্বজুড়ে সমাদৃত এবং এটি বাংলাদেশের একটি ভৌগোলিক নির্দেশক পণ্য। এ মূল্যবান প্রাকৃতিক সম্পদকে রক্ষা করতে জাটকা ধরা বন্ধ রাখা এবং নির্দিষ্ট প্রজনন সময়ে ইলিশ ধরা নিষিদ্ধ করার মতো সরকারি পদক্ষেপগুলো মেনে চলা আমাদের সবার দায়িত্ব। ইলিশ আমাদের বঙ্গোপসাগর ও নদী অববাহিকার এক অনন্য আশীর্বাদ,যা বিশ্বের বুকে বাংলাদেশের নাম উজ্জ্বল করেছে।
ইলিশ মূলত:একটি সামুদ্রিক মাছ, কিন্তু প্রজনন ঋতুতে এরা সমুদ্রের নোনা পানি থেকে ডিম ছাড়ার জন্য উজানে নদীর মিষ্টি পানিতে চলে আসে। পদ্মা, মেঘনা ও যমুনা নদীর অববাহিকায় এসে এরা ডিম ছাড়ে। মিষ্টি পানিতে আসার পর ইলিশের শরীরে এক ধরণের হরমোন নিঃসৃত হয়, যা এর স্বাদ ও সুগন্ধ বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়। এ কারণেই নদীর ইলিশ সমুদ্রের ইলিশের চেয়ে অনেক বেশি সুস্বাদু হয়। তাই এর রক্ষণাবেক্ষণ বা সংরক্ষণ করা দেশের প্রতিটি নাগরিকের দায়িত্ব ও কর্তব্য ।
পৃথিবীর অন্যতম পুষ্টিকর ও সুস্বাদু মাছ হলো এ ইলিশ। ইলিশের জীবনবৈচিত্র্য খুবই তাৎপার্যপূর্ণ। ইলিশ শুধু ডিম ছাড়ার সময় হলেই মেঘনাসহ অন্যান্য আমাদের দেশের নদী-নদীর মিঠাপানিতে প্রবেশ করে। যে অবস্থানে ইলিশ বিচারণ করে তার নাম হলো অভয়াশ্রম।
আমাদের দেশে এখন ৬টি অভয়াশ্রম রয়েছে। চাঁদপুরের উত্তরে ষাট নল হতে চর আলেকজান্ডার পর্যন্ত ৮০ কি.মি এবং চাঁদপুর হতে পশ্চিম দিকে পদ্মার ২০ কি.মি এলাকা চাঁদপুরের অভয়াশ্রমের সীমানা বিস্তৃত। ইলিশ ডিম ছাড়ার সময় হলেই তারা প্রাকৃতিকভাবে সমুদ্রের লোনা পানি ছেড়ে মিঠাপানির নদ-নদীতে প্রবেশ করে। একটি স্ত্রী জাতীয় ইলিশ মাছ একবার ১৫ লাখ-৩০ লাখ পর্যন্ত ডিম ছাড়ার জন্য সমুদ্র পথ পাড়ি দিয়ে মিঠাপানিতে আসে। প্রকৃতিগতভাবে ভবিষ্য বংশধর টিকিয়ে রাখতে এমনটি করে থাকে বোধ হয় ইলিশ। মুক্তভাবে বিচরণ করে ডিম ছাড়ার পর পর এগুলো আবার লোনা পানিতে পেট খালি লম্বা লিক লিকে দেহ নিয়ে চলে যায়।
ডিম ছাড়ার পর ইলিশের রেণু মিঠাপানিতে ধীরে ধীরে বড় হতে থাকে। যাকে বলা হয় জাটকা বা তথাকথিত টেম্পুইলিশ। নির্বোধ জেলারা তা বড় হতে না হতে এক প্রকার রাষ্ঠ্রীয়ভাবে নিষেধ এমন কারেন্ট জাল দিয়ে সেগুলো আবার ধরতে থাকে।কারেন্ট জালের বৈশিষ্ট হলো সাদা, মসৃন ও চিকন।
ইলিশ যখন দ্রুত পানিতে খাবারের তাগিদে ছুটতে থাকে তখন তাদের চোখে জালের রং এর মত পানির রং হওয়ায় বুঝতে পারে না বলেই আটকে যায় কারেন্ট জালে । আটকানোর সাথে সাথেই মারা যায়। ওয়ার্ল্ড ফিস সংস্থার এক তথ্যে জানা গেছে, বিশ্বের প্রায় ৭০% ইলিশ বাংলাদেশে । এর একটির গড় ওজন বর্তমানে ৯৫০ গ্রাম । এর আগে গড় ওজন ছিল ৫১০ গ্রাম।
বর্তমান গবেষকদের মতে, এ বছর ৯৫০ গ্রাম হয়েছে। অথচ পার্শ্ববর্তী দেশগুলোতে ওজনের গড় ৫শ গ্রাম । দেশের বাজারে ইলিশের মূল্য সাধারণত এর আকার, প্রাপ্তিস্থান এবং মৌসুমের ওপর নির্ভর করে নির্ধারিত হয়। বাজারে মাছের আকার যত বড় হয়, প্রতি কেজিতে এর দাম তত জ্যামিতিক হারে বাড়ে।
২০২৬ সালের বর্তমান বাজার পরিস্থিতি অনুযায়ী ইলিশের আনুমানিক মূল্য তালিকা নিচে দেয়া হলো:আকার ও ওজন অনুযায়ী প্রতি কেজির দাম-ছোট আকারের ইলিশ (৪০০ -৬০০ গ্রাম): প্রতি কেজি প্রায় ১,০০০ থেকে ১,৪০০ টাকা। মাঝারি আকারের ইলিশ (৭০০-৯০০ গ্রাম), প্রতি কেজি প্রায় ১,৬০০ থেকে ২,২০০ টাকা। বড় আকারের ইলিশ (১ কেজি বা তার বেশি)। প্রতি কেজি প্রায় ২,২০০ থেকে ২,৮০০ টাকা বা তারও বেশি। ১.৫ কেজির বেশি ওজনের বিশাল সাইজের ইলিশের ক্ষেত্রে প্রতি কেজির দাম ৩ হাজার টাকা ছাড়িয়ে যেতে পারে। পুষ্ঠিগুণ সমৃদ্ধ ও সু-সাধূ বলেই পৃথিবীর সকল দেশে এর চাহিদাও রয়েছে।
অর্থনীতিবিদদের মতে, চাহিদা বাড়লে দামও বাড়ে। ইলিশ কেবল স্বাদেই সেরা নয়, এটি স্বাস্থ্যের জন্যও অত্যন্ত উপকারী। ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড:এতে প্রচুর পরিমাণে ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড রয়েছে,যা হৃদরোগের ঝুঁকি কমায় এবং কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে। ইলিশে রয়েছে পর্যাপ্ত পরিমাণে আয়োডিন, সেলেনিয়াম, জিঙ্ক এবং ভিটামিন ‘এ’ ও ‘ডি’।
সমুদ্রের ইলিশের তুলনায় নদী বা মোহনার ইলিশের দাম তুলনামূলক বেশি হয়ে থাকে, কারণ এগুলোর স্বাদ অনেক উন্নত। যখন ইলিশ ধরার ওপর সরকারি নিষেধাজ্ঞা বা প্রজননকালীন নিষেধাজ্ঞা চলে- তখন বাজারে সরবরাহ কম থাকায় দাম অনেক বেড়ে যায়। আবার ভরা মৌসুমে সরবরাহ বাড়লে দাম কিছুটা কমে আসে।
অথচ ইলিশের অর্থনৈতিক মূল্যায়ন করলে পৃথিবীর বিভিন্ন বিদেশ থেকে আমদানি করা বর্তমানে দেশে জ্বালানি তেলের নির্ধারিত মূল্য প্রতি লিটার ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ থেকে কার্যকর করা হয়েছে । যথা- অকটেন- ১৬৫ টাকা প্রতি লিটার, পেট্রোল- ১৬০ টাকা প্রতি লিটার এবং ডিজেল -১৩৫ টাকা প্রতি লিটার। তাই আমদানি করা প্রাকৃতিক সম্পদ তেলের কতগুণ বেশি-–তা ভেবে দেখা প্রয়োজন। লিটার আর কেজি- এ শব্দ দুটোর পরিমাণের পার্থক্য নেই কিন্ত অর্থনৈতিক মূল্য বিচার করুন।
ইলিশের এ প্রাকৃতিক উৎসকে টিকিয়ে রাখতে বাংলাদেশে প্রতি বছর কিছু পদক্ষেপ নেয়া হয়। আশ্বিন-কার্তিক মাসের প্রধান প্রজনন মৌসুমে (সাধারণত; ২২ দিন) সারাদেশে ইলিশ ধরা,পরিবহন ও বিক্রি সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ থাকে। প্রতি বছর নভেম্বর থেকে জুন পর্যন্ত ১০ মাস ১০ ইঞ্চির চেয়ে ছোট ইলিশ (জাটকা) ধরা নিষিদ্ধ থাকে, যাতে তারা বড় হওয়ার সুযোগ পায়।
চাঁদপুরে ২০টি নদীভাঙ্গনগ্রস্থ ইউনিয়ন ও ১১ টি বিচ্ছিন্ন চরাঞ্চলে কম হলেও ৩ লাখ লোক স্থায়ীভাবে বসবাস করছে। এ নারী-পুরুষের প্রধান উপজীবিকা হলো মৎস্য আহরণ,কৃষিকাজ করা ও শাক-সবজি উৎপাদন,হাসঁ-মুরগি ও গবাদি পশু প্রতিপালন করা। বছরের নানা ঋতু বৈচিত্র্যের সাথে তাল মিলিয়ে এরা জীবন-জীবিকা চালিয়ে থাকে।
মৎস্য বিভাগের দেয়া এক তথ্যে জানা গেছে-দেশের নদীতীরবর্তী ও নদীবিধৌত এলাকায় ২% অধিবাসী ইলিশ মাছ আহরণে,মজুত ,সরবরাহ ,বাজারজাতকরণ ,আড়ৎদারি ,বরফ ব্যবসা,বরফ মিল শ্রমিক ও মালিক সম্পৃক্ত।সুতরাং ২% লোক কিনা দেশের ৯৮% নাগরিকের জাতীয় সম্পদ এভাবে নষ্ট করবে- তা কেউ বোধ হয় মেনে নেবে না। কেবল জীবন বাঁচানোর দাবিতে রাতের অন্ধকারে ঐ মৌসুমি তথাকথিত জেলে আমাদের এ সম্পদকে ধ্বংস করবে তা দেয়া যেতে পারে না। এবার ইলিশের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ৬ লাখ মে.টন।
বর্তমানে সরকারিভাবে নিবন্ধিত জেলের সংখ্যা ১৮ লাখ ৩ হাজার ৫ শ ৬৫ জন। মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী এ তালিকা হালনাগাদ করা হয়েছে। নিবন্ধিত জেলেদের মধ্যে এখন পর্যন্ত ১৪ লাখ ২০ হাজারেরও বেশি জেলেকে মৎস্যজীবী পরিচয়পত্র (আইডি কার্ড) প্রদান করা হয়েছে। বাকিদের কার্ড প্রদানের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। চলতি ২০২৬ সালের মা ইলিশ সংরক্ষণ অভিযানে (৮ অক্টোবর -২৯ অক্টোবর) নিবন্ধিত প্রতি জেলে পরিবারের জন্য ২৫ কেজি করে চাল বরাদ্দ করা হয়েছে। ২২ দিনের এ নিষেধাজ্ঞা চলাকালীন জেলেদের খাদ্য সহায়তার অংশ হিসেবে সরকারের মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় ভিজিএফ (ঠএঋ) কর্মসূচির আওতায় এ চাল বিতরণ করছে।
-মা ইলিশ সংরক্ষণে সরকারি কিছুটা কৌশল পরিবর্তন আনার প্রয়োজন বলে মনে করেন। কারণ স্পিডবোট নিয়ে যখন কর্মকর্তারা নদীতে অভিযান পরিচালনা করতে বের হন-তখন চাঁদপুরের ডাকাতিয়া নদীর মোহনায় আসলে সম্ভবত সবাই জেনে যায় যে মৎস্য কর্মকর্তা ও প্রশাসনের লোকজন আসছে । আবার ফিরে আসার পরই তারা হয়তো আবার নেমে যায়। এ ধরনের বক্তব্য আমরা বিভিন্নভাবে নদী তীরবর্তী এলাকার মানুষের কাছ থেকে শুনতে পাচ্ছি। সরকারি ছুটির দিন এমনটি বেশি দেখা যায়। অপর দিকে সকল সরকারি-বেসরকারি কর্মকর্তাগণ এ সময় রাতের অন্ধকারে যেন ঐ মৌসুমি জেলেদের কাছ থেকে মাছ কিনে ফ্রিজিং না করে সে জন্যে চাঁদপুর জেলা ট্রাস্কফোর্সের ঘোষণাও চাই।
স্কুল,কলেজ,মাদ্রাসা,কারিগরি,মসজিদের ইমাম-মুয়াজ্জেম ও প্রাথমিক শিক্ষকগণ এ সময়ের জন্যে তাদের দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তন করতে পারেন অনায়াসেই। একটি দেশের নাগরিক হিসেবে রাষ্ট্র থেকে নাগরিক যেমন অধিকার ভোগ করে থাকে ঠিক তেমনি রাষ্ট্রের প্রতিও নাগরিকদের দায়িত্ব-কর্তব্য রয়েছে।
দেশের এ প্রাকৃতিক সম্পদ ইলিশের জন্যে তাই হওয়া উচিত। তাই এখানে জনপ্রতিনিধিদের ভূমিকা কী হতে পারে তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না । কোন এলাকায় কোন জেলে রাতের অন্ধকারে জাল-নৌকা নিয়ে বের হয় তা স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের অজানা থাকার নয় ।
খাদ্য সহায়তা পাওয়া বা তথাতথিত মৌসুমি ঔ জেলোরা জাল-নৌকা নিয়ে নদীতে বের হয় কিনা সেটা বের করা বা চিহ্নিত করা স্থানীয় নদীতীরবর্তী জনপ্রতিনিধিদের পক্ষে খুব কঠিন নয় বলে আমরা বিশ্বাস করি । তাই যেনতেনভাবে ইলিশের বিষয়টি বিবেচনা করলে তা আমাদেরই সবচেয়ে বেশি অর্থনৈতিক ক্ষতি হবে। কারণ এটা আমাদের জাতীয় সম্পদ। এ সম্পদ রক্ষা করা আমার, আপনার ও সকলের দায়িত্ব।
মা ইলিশ সংরক্ষণ অভিযান ২০২৬ উপলক্ষে চাঁদপুরের জেলা প্রশাসক আহমেদ জিয়াউর রহমান মা ইলিশ রক্ষায় কঠোর আইনি ব্যবস্থার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। তিনি স্পষ্ট করে বলেছেন,“ইলিশ সম্পদ রক্ষা করা আমাদের সবার দায়িত্ব। প্রজনন মৌসুমে সরকারি নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে কেউ যদি মা ইলিশ শিকার,পরিবহন,মজুত বা কেনাবেচা করে, তবে সংশ্লিষ্ট জেলে ও জড়িতদের কমপক্ষে ৬ মাসের কারাদণ্ড দেয়া হবে। যেসকল জেলে আইন অমান্য করে নিষিদ্ধ সময়ে নদীতে মাছ ধরতে নামবেন, তাদের সরকারি জেলে কার্ড স্থায়ীভাবে বাতিল করা হবে।’’
মা ইলিশের নিরাপদ প্রজনন নিশ্চিত করতে জেলা প্রশাসন,মৎস্য বিভাগ,নৌ-পুলিশ এবং কোস্টগার্ড একসঙ্গে সমন্বিতভাবে কাজ করবে। সুতরাং ইলিশ দেশের প্রাকৃতিক সম্পদ। এটা রক্ষার দায়িত্ব সকলের তথা আমার ও আপনার।
লেখক : আবদুল গনি, শিক্ষক ও গণমাধ্যমকর্মী ,চাঁদপুর । ১৯ অক্টোবর ২০২৬।
১৯ অক্টোবর ২০২৬
এ জি
