দুর্বল শেয়ার পার্কিয়ের আড়তদার কমার্স ব্যাংক সিকিউরিটিজ নেপথ্যে আরিফ
বিশেষ প্রতিনিধি, দেশ প্রতিক্ষণ, ঢাকা: কমার্স ব্যাংক সিকিউরিটিজ অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেডের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) মো. আরিফুল ইসলামের বিরুদ্ধে অভিযোগের শেষ নেই। তিনি অনিয়মকে নিয়ম বলে চালিয়ে যাচ্ছেন। কোন কিছুই তোয়াক্কা করছেন না। তার বিরুদ্ধে শেয়ার জালিয়াতি ও কোটি কোটি টাকার আর্থিক অনিয়ম এবং দুর্নীতির গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। এছাড়াও নিজের ব্যক্তিগত স্বার্থে প্রতিষ্ঠানের পর্ষদের সিদ্ধান্ত অমান্য করে ডিলার কোডে শেয়ার পার্কিংয়ের (গ্যাম্বলারদের সাথে আঁতাত করে আর্থিক সুবিধার মাধ্যমে উচ্চমূল্যে দুর্বল প্রতিষ্ঠানে শেয়ার ক্রয় করে) মাধ্যমে ৫ কোটি ৮২ লাখ টাকার ক্ষতিসাধনের তথ্য সামনে এসেছে।
প্রশ্ন উঠেছে, ডিলার ৭৯৭৯ অনার্জিত ক্ষতি প্রায় ৪ কোটি ৩৩ লাখ টাকা এবং স্ট্রাটেজিক ২৬৯৯০ এ লাভলো আইসক্রিম অনার্জিত ক্ষতি প্রায় ১ কোটি ৪৯ লাখ টাকা। অর্থাৎ নিজস্ব দুই পোর্টফোলিওতে সম্মলিত অনার্জিত ক্ষতি প্রায় ৫ কোটি ৮২ লাখ টাকা। মুলত এত বড় একক শেয়ারে বিনিয়োগের যুক্তি অনুমোদনের ধারাবাহিকতা এবং বেড়িয়ে আসার নীতি স্বাধীন ভাবে নিরীক্ষা করা প্রয়োজন।
এছাড়া গত ২০ আগস্ট লাভলো আইসক্রিমের ১০ লাখ শেয়ার ৭০ টাকা করে বিক্রি করে উচ্চ দামে দুর্বল বিডি পেইন্টেসের শেয়ার ক্রয় নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। মুলত উচ্চ দামে ১৭ লাখ ১১৫ টি শেয়ার ৪০ টাকা ২০ পয়সা ক্রয় করলেও আগের কার্যদিবসে দাম ছিল ৩৬ টাকা ৬০ পয়সা। এছাড়া কমার্স ব্যাংক সিকিউরিটিজ অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট বর্তমানে দুর্বল শেয়ার পার্কিয়ের আড়তদার হিসেবে বাজারে ভুমিকা রাখছে।
মুলত এক নজরে বিভিন্ন দুর্বল কোম্পানির শেয়ারের লোকসানের চিত্র তুলে ধরা হলো: এর মধ্যে বিডি ফাইন্যান্সের ১৪ লাখ ৯০ হাজার শেয়ার অনার্জিত ক্ষতি ১৪ লাখ ৩৬ হাজার টাকা, বিডি থাই ফুড ৫ লাখ ৮১ হাজার ৫০০ শেয়ারে অনার্জিত ক্ষতি ৫০ লাখ ৬৪ হাজার টাকা, বিডিকম অনলাইন ৪ লাখ চারশত ৩৫টি অনার্জিত ক্ষতি ২৭ লাখ ৯ হাজার টাকা, বারাকা পাওয়ার ৬ লাখ ১০ হাজার অনার্জিত ক্ষতি ১৪ লাখ ২৩ হাজার টাকা, এগ্রো অগ্রার্নিকা ১১ লাখ ১০ হাজার ৯৩৫টি অনার্জিত ক্ষতি ২০ লাখ ৪২ হাজার টাকা, সানলাইফ ইন্সুরেন্স ৪ লাখ ৯ হাজার অনার্জিত ক্ষতি ৩৩ লাখ ৫৩ হাজার টাকা।
ফলে এসব দুর্বল শেয়ার পার্কিয়ের কমার্স ব্যাংক সিকিউরিটিজ অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেডের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) মো. আরিফুল ইসলাম। গত ১০ মার্চ আরিফুলের বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) এবং বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড কমিশনে এ বিষয়ে লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে।
দুদক সূত্র জানায়, কমার্স ব্যাংক সিকিউরিটিজে সিইও পদে নিয়োগের ক্ষেত্রে মো. আরিফুল ইসলাম নিয়োগ প্রক্রিয়ায় জালিয়াতির আশ্রয় নিয়েছেন। তিনি আগের প্রতিষ্ঠান (বিনিময় সিকিউরিটিজ) এ কর্মরত থাকার বিষয়টি ঘোষণা করলেও, কোনো প্রকার ছাড়পত্র ছাড়াই বর্তমান প্রতিষ্ঠানে চুক্তিভিত্তিক সিইও হিসেবে নিয়োগ পান। দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই তিনি বিভিন্ন আর্থিক অনিয়মে সঙ্গে জড়িয়ে পড়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে দুদকে। এছাড়াও তাঁর অনৈতিক ও স্বেচারিতার প্রতিবাদ করলেই কর্মকর্তারা হয়রানির শিকার হচ্ছে অনুসন্ধানে বেড়িয়ে আসছে।
বিএসইসি সূত্রে জানা গেছে, সিইও আরিফুল ইসলাম ডিলার অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করে শেয়ার লেনদেনে অনিয়ম এবং মার্জিন অ্যাকাউন্টে ঝুঁকিপূর্ণ বিনিয়োগ করেছেন। বহুল আলোচিত লাভেলো শেয়ারে ব্যক্তিগত আর্থিক সুবিধার বিনিময়ে বিনিয়োগ করে প্রতিষ্ঠানের কোটি কোটি টাকার লোকসান করলেও নিজে ব্যক্তিগতভাবে লাভবান হয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। ইতিমধ্যেই আলোচিত লাভেলো শেয়ার নিয়ে বিএসইসি একাধিক তদন্ত ও জরিমানা করেছে। এছাড়া বোর্ডের সিদ্ধান্ত তোয়াক্কা না শেয়ার পার্কিংয়ের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানকে বড় ধরনের আর্থিক বিপর্যয়ের মুখে ঠেলে দিয়েছেন তিনি।
বিএসইসি সূত্র জানায়, অভিযোগ পাওয়া গেছে, মো. আরিফুল ইসলাম নিজে অথরাইজড ট্রেডার না হওয়া সত্ত্বেও সিকিউরিটিজ আইন অমান্য করে দপ্তরের দরজা বন্ধ করে গোপনে ট্রেড পরিচালনার করেন। এছাড়া মার্জিন আইনের তোয়াক্কা না করে নগদ সুবিধার বিনিময়ে নির্দিষ্ট পোর্টফোলিওধারীদের অনৈতিক সুবিধা দেওয়ার অভিযোগও উঠেছে তার বিরুদ্ধে। প্রতিষ্ঠানের অভ্যন্তরে কর্পোরেট গভর্ন্যান্সের চরম অবনতি ঘটেছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।
মানবসম্পদ বিভাগের মাধ্যমে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ভয়ভীতি প্রদর্শন, মতের অমিল হলেই বদলি বা বরখাস্তসহ অমানবিক আচরণের অভিযোগও উঠেছে সিইও’র বিরুদ্ধে। এমনকি নতুন বিনিয়োগকারীদের প্ররোচিত করে বিনিয়োগ থেকে বিরত রাখছেন, যা একটি ব্রোকারেজ হাউজের জন্য আত্মঘাতী বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
এ বিষয় কমার্স ব্যাংক সিকিউরিটিজ অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেডের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) মো. আরিফুল ইসলামের যোগাযোগ করলেও তিনি মুঠোফোন রিসিভ করেননি।


