আজকাল ওয়েবডেস্ক: মাসে মাত্র ১,০০০ টাকা করে মিউচুয়াল ফান্ডে বিনিয়োগ করেন? তা হলে ছোট্ট একটি পরিবর্তনেই দীর্ঘমেয়াদে আপনার বিনিয়োগের অঙ্ক অনেকটা বাড়তে পারে। প্রতি বছর মাসিক SIP-তে মাত্র ১০০ টাকা করে বাড়ালে ১০ বছর পরে তৈরি হতে পারে প্রায় ৩.১৫ লক্ষ টাকার ফান্ড। অন্যদিকে, মাসিক বিনিয়োগের পরিমাণ একই রাখলে সেই ফান্ডের অঙ্ক দাঁড়াতে পারে প্রায় ২.৩২ লক্ষ টাকা। অর্থাৎ, হিসাব অনুযায়ী দুই ক্ষেত্রে ফারাক প্রায় ৮২ হাজার টাকা।
বিনিয়োগের ক্ষেত্রে নিয়মিত টাকা জমা করার পাশাপাশি চক্রবৃদ্ধি হারে রিটার্ন বা কম্পাউন্ডিং দীর্ঘমেয়াদে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। সেই কারণেই আর্থিক বিশেষজ্ঞরা অনেক সময় আয় বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে SIP-র অঙ্কও বাড়ানোর পরামর্শ দেন। এই পদ্ধতিকে বলা হয় স্টেপ-আপ SIP।
প্রথম হিসাব: প্রতি মাসে ১,০০০ টাকা বিনিয়োগ
ধরা যাক, কোনও ব্যক্তি একটি মিউচুয়াল ফান্ডে প্রতি মাসে ১,০০০ টাকা করে ১০ বছর বিনিয়োগ করলেন। অর্থাৎ, ১২০ মাসে তাঁর মোট বিনিয়োগের পরিমাণ হবে ১ লক্ষ ২০ হাজার টাকা।
বার্ষিক ১২ শতাংশ সম্ভাব্য রিটার্ন ধরে হিসাব করলে, ১০ বছর শেষে সেই বিনিয়োগের মূল্য দাঁড়াতে পারে প্রায় ২ লক্ষ ৩২ হাজার ৩৩৯ টাকা। এর মধ্যে আনুমানিক ১ লক্ষ ১২ হাজার ৩৩৯ টাকা রিটার্ন থেকে আসতে পারে।
দ্বিতীয় হিসাব: প্রতি বছর SIP বাড়বে ১০০ টাকা
এবার ধরা যাক, বিনিয়োগকারী প্রথম বছর মাসে ১,০০০ টাকা দিয়ে SIP শুরু করলেন। দ্বিতীয় বছর থেকে প্রতি মাসের কিস্তি ১০০ টাকা করে বাড়ালেন। অর্থাৎ, দ্বিতীয় বছরে মাসিক বিনিয়োগ হবে ১,১০০ টাকা, তৃতীয় বছরে ১,২০০ টাকা এবং দশম বছরে ১,৯০০ টাকা।
একই ১২ শতাংশ সম্ভাব্য বার্ষিক রিটার্ন ধরে হিসাব করলে, ১০ বছর শেষে মোট ফান্ডের মূল্য দাঁড়াতে পারে প্রায় ৩ লক্ষ ১৪ হাজার ৫৩৬ টাকা। এই ক্ষেত্রে মোট বিনিয়োগ হবে ১ লক্ষ ৭৪ হাজার টাকা এবং আনুমানিক রিটার্ন ১ লক্ষ ৪০ হাজার ৫৩৬ টাকা।
দুই বিনিয়োগে ফারাক কত?
দুই হিসাবের তুলনা করলে দেখা যাচ্ছে, স্টেপ-আপ SIP-তে অতিরিক্ত বিনিয়োগ হচ্ছে ৫৪ হাজার টাকা। পাশাপাশি, আনুমানিক রিটার্নও বাড়ছে প্রায় ২৮,১৯৭ টাকা। সব মিলিয়ে দুই ফান্ডের মূল্যের পার্থক্য প্রায় ৮২,১৯৭ টাকা।
তবে মনে রাখতে হবে, মিউচুয়াল ফান্ডের রিটার্ন বাজারের ওঠানামার উপর নির্ভরশীল। ১২ শতাংশ রিটার্ন এখানে একটি অনুমান মাত্র, নিশ্চিত লাভ নয়। বিনিয়োগের আগে নিজের আর্থিক লক্ষ্য, ঝুঁকি নেওয়ার ক্ষমতা এবং সময়সীমা বিবেচনা করা জরুরি।
https://www.youtube.com/watch?v=jNGYSN4KXPc
