নেত্রকোনায় শারদীয় দুর্গাপূজাকে ঘিরে ব্যস্ত সময় পার করছেন প্রতিমাশিল্পী ও আয়োজকেরা। মণ্ডপে মণ্ডপে চলছে প্রতিমা নির্মাণের কাজ। রাত-দিন পরিশ্রম করে দেবী দুর্গার প্রতিমায় পূর্ণ অবয়ব দিচ্ছেন কারিগরেরা। তবে উপকরণের দাম বাড়ায় বেড়েছে নির্মাণ ব্যয়। ফলে দিন-রাত পরিশ্রম করেও কাঙ্ক্ষিত লাভ হচ্ছে না বলে জানিয়েছেন তারা।
অন্যদিকে, পূজারিরা বলছেন, এবার বেশ জাঁকজমকপূর্ণভাবে পূজার প্রস্তুতি চলছে। উৎসব নির্বিঘ্ন করতে কয়েক স্তরের নিরাপত্তাব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছে প্রশাসন।
জেলার বিভিন্ন মন্দিরে খড়, বাঁশ, মাটি, সুতলি, তার ও লোহার কাঠামো ব্যবহার করে তৈরি করা হচ্ছে দেবী দুর্গার প্রতিমা। মণ্ডপে মণ্ডপে এখন কর্মব্যস্ততা। কেউ তৈরি করছেন প্রতিমার কাঠামো, কেউ দিচ্ছেন মাটির প্রলেপ, আবার কেউ ব্যস্ত মণ্ডপের প্রবেশপথ ও প্যান্ডেল তৈরিতে। দিন-রাত চলছে একটানা কাজ।
পারিবারিক ও সর্বজনীন মিলিয়ে নেত্রকোনার ১০টি উপজেলায় ৫৪৬টি মন্দিরে শারদীয় দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হবে। বিপুল এই আয়োজন সামনে রেখে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রতিমা নির্মাণের কাজ শেষ করতে ব্যস্ত কারিগরেরা। তবে প্রতিমা তৈরির পাশাপাশি বেড়েছে তাদের খরচের হিসাবও। প্রয়োজনীয় উপকরণের দাম বেড়ে যাওয়ায় আগের তুলনায় নির্মাণ ব্যয় বেড়েছে। ফলে পরিশ্রমের তুলনায় প্রত্যাশিত লাভ হচ্ছে না বলে জানান প্রতিমাশিল্পীরা।
এদিকে, পূজাকে ঘিরে এরই মধ্যে তৈরি হয়েছে উৎসবের আমেজ। পূজারিদের প্রত্যাশা, উৎসবের দিনগুলোতে মণ্ডপে মণ্ডপে বেজে উঠবে ঢাক-ঢোল। কাঁসরের শব্দে মুখর হবে চারপাশ। ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের পাশাপাশি সম্প্রীতি ও আনন্দঘন পরিবেশে উদযাপিত হবে এবারের দুর্গোৎসব।
নেত্রকোনা জেলা পূজা উদ্যাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক লিটন পণ্ডিত বলেন, পারিবারিক ও সর্বজনীন মিলিয়ে জেলার ১০টি উপজেলায় ৫৪৬টি মন্দিরে শারদীয় দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হবে। নির্বিঘ্নে পূজা উদ্যাপনের বিষয়ে ইতোমধ্যে জেলা ও পুলিশ প্রশাসনের উদ্যোগে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
দুর্গোৎসব নির্বিঘ্ন করতে পূজামণ্ডপগুলোতে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন, স্বেচ্ছাসেবক দল গঠনসহ বিভিন্ন নিরাপত্তাব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন জেলা হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান কল্যাণ ফ্রন্টের সভাপতি সত্যেন্দ্র পাল ও সাধারণ সম্পাদক শ্যামল ভৌমিক।
নেত্রকোনার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার হাফিজুল ইসলাম বলেন, পূজাকে কেন্দ্র করে কয়েক স্তরের নিরাপত্তাব্যবস্থা থাকবে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে বাড়ানো হবে নজরদারি। যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি মোকাবিলায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী প্রস্তুত থাকবে।
