Published on
:
2 min read
এই সময়, বালুরঘাট: বাংলার ঘরে ঘরে যখন দুর্গোৎসবের আনন্দে মেতে ওঠেন মানুষ, তখন এই গ্রামের বাসিন্দারা অপেক্ষায় থাকেন কোজাগরী লক্ষ্মীপুজোর (Laxmi puja2026)। দক্ষিণ দিনাজপুরের বালুরঘাট থানার দুর্লভপুরে ধনদেবীর আরাধনাই দুর্গোৎসব। লক্ষ্মীর সঙ্গে একই কাঠামোয় এখানে পূজিত হন রাম, সীতা, লক্ষ্মণ, লব-কুশ এবং হনুমান। রামায়ণের চরিত্ররা জীবন্ত হয়ে ওঠেন প্রত্যন্ত গ্রামে।
দুর্লভপুরে দুর্গাপুজো হয় না। লক্ষ্মীপুজো এলেই বদলে যায় গ্রামের ছবি। আত্মীয়স্বজনের আনাগোনা শুরু হয় বাড়ি বাড়ি। চার দিন ধরে চলে লক্ষ্মীমঙ্গল গানের আসর, যাত্রাপালা, নাটক-সহ নানা সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। ভোগ, আরতি এবং লক্ষ্মীর ব্রতকথার মধ্য দিয়ে যেন দুর্গাপুজোর আনন্দের অনেকটাই পুষিয়ে নেন গ্রামবাসী।
গ্রামবাসীদের দাবি, এই লক্ষ্মীপুজো শতাধিক বছরের পুরোনো। প্রথমে পাশের পোড়ামাদল গ্রামে পুজোর সূচনা হয়েছিল। পরে ১৯৬৮ থেকে দুর্লভপুরে বড় আকারে পুজোর আয়োজন শুরু হয়। স্থানীয় দুর্জয় সঙ্ঘের উদ্যোগে সর্বজনীন হয়ে ওঠে আরাধনা। মূলত কৃষিজীবী মানুষের বসবাস এই গ্রামে। ধানের ভালো ফলন ও কৃষিকাজে সমৃদ্ধির কামনায় পূর্বপুরুষেরা লক্ষ্মীপুজোর সূচনা করেছিলেন বলে মনে করেন স্থানীয়রা।
এই পুজোর সবচেয়ে বড় আকর্ষণ প্রতিমা। একচালার কাঠামোয় মাঝখানে থাকেন দেবী লক্ষ্মী। দু’পাশে রাম ও লক্ষ্মণ, সামনের দিকে লব-কুশ। তাঁদের সঙ্গে রয়েছে ঘোড়ার মূর্তি। দেবীর পায়ের কাছে পেঁচা। পূজিত হন হনুমানও। কেন লক্ষ্মীর সঙ্গে রামায়ণের এই চরিত্রগুলির পুজো শুরু হয়েছিল, সেই ইতিহাস অজানা। গ্রামবাসীর অনুমান, লক্ষ্মীমঙ্গল গানে এই চরিত্রগুলির উল্লেখ থাকার কারণেই হয়তো এমন রীতির প্রচলন। পুজো উদ্যোক্তা নিরঞ্জন মণ্ডলের মতে, ‘সীতা মা লক্ষ্মীরই আর এক রূপ। তাই এখানে লক্ষ্মীর পাশাপাশি দেবী সীতারও পুজো হয়।’
বছরভরের প্রতীক্ষা শেষ হয়েছে। বিজয়া দশমীর পর থেকে দ্রুত সব আয়োজন করেছেন উদ্যোক্তারা। পূর্ণিমার চাঁদ উঠলে দুর্লভপুর জ্যোৎস্নায় ভেসে যাবে। আসলে ভেসে যাবে আনন্দে। স্থানীয় বাসিন্দা ছবি দাস বলেন, ‘আমরা বছরভর এই দিনটার জন্যই অপেক্ষা করে থাকি। দুর্গাপুজো আমাদের গ্রামে হয় না। লক্ষ্মীপুজোয় আমাদের প্রত্যেকের বাড়ির ছেলেমেয়েরা ফিরে আসে। এই চারটে দিন খুব আনন্দ করি।’
