The Sangbad · সাধারণ
রবীন্দ্রনাথের গ্রাফিতি বিকৃতি: শুনানি ঘিরে এজলাসে শার্ট ছেঁড়াছিঁড়ি ও উত্তেজনা
১৪/১০/২০২৬

বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের স্মৃতিবিজড়িত গ্রাফিতি মোছার চেষ্টার চাঞ্চল্যকর মামলায় রাষ্ট্র সংলাপ ফোরামের সভাপতি আল নূর মোহাম্মদ আয়াস ও মারজিয়া খন্দকার রিমির জামিন শুনানিকে কেন্দ্র করে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে নজিরবিহীন হট্টগোল ও মারামারির ঘটনা ঘটেছে।শুনানি চলাকালে আয়াসের পক্ষে কথা বলা এক আইনজীবীকে অতর্কিতে মারধর ও তার গায়ের শার্ট ছিঁড়ে ফেলার মতো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি তৈরি হয়। অনিয়ন্ত্রিত গোলযোগের মুখে বিচারক এজলাস ছেড়ে খাসকামরায় আশ্রয় নিতে বাধ্য হন।পরে পরিস্থিতি শান্ত হলে তিনি পুনরায় এজলাসে ফিরে আসামিদের জামিন আবেদন একযোগে নামঞ্জুর করে তাদের কারাগারে পাঠানোর কড়া নির্দেশ দেন।আদালত সূত্রে জানা যায়, রিমান্ড মেয়াদ শেষে শাহবাগ থানার মামলার দুই আসামি আয়াস ও রিমিকে আদালতে তোলা হলে ঘটনার সূত্রপাত ঘটে। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা শাহবাগ থানার এসআই মো. আবদুল গাফফার হিমেল তাদের কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন।আবেদনে তিনি উল্লেখ করেন, "জিজ্ঞাসাবাদে ঘটনার সঙ্গে জড়িত আরও কয়েকজনের বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে, যা অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে যাচাই করা হচ্ছে। মামলার সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে এবং পরবর্তী জিজ্ঞাসাবাদের প্রয়োজনে তাদের আপাতত হাজতে রাখা একান্ত জরুরি।"অপরদিকে আসামিপক্ষের আইনজীবী আল মহসিন তৌহিদ জামিন চেয়ে বক্তব্য শুরু করলে রাষ্ট্রপক্ষের ঢাকা মহানগর পাবলিক প্রসিকিউটর ওমর ফারুক ফারুকীর যুক্তির একপর্যায়ে উত্তপ্ত বাক্যবিনিময় ও হাতাহাতি শুরু হয়ে যায়।ঘটনার গোড়াপত্তন ঘটেছিল গত ১০ অক্টোবর, যখন সেগুনবাগিচায় শিল্পকলা একাডেমির সামনের দেওয়ালে আঁকা রবীন্দ্রনাথের প্রতিকৃতিতে জোরপূর্বক কালো রঙ লেপনের চেষ্টা চালানো হয়।পুলিশের রিমান্ড আবেদনে স্পষ্ট বলা হয়, "জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, আয়াস পাকিস্তানে মুহাম্মদ আলী জিন্নাহর কবর ও নামফলক নিয়ে বক্তব্য প্রদান করেন। অন্যদিকে রিমি তথাকথিত অপপ্রচারের অজুহাতে রবীন্দ্রনাথের ছবিতে কালি ছিটান।"অপরাধমূলক ষড়যন্ত্র, বিভিন্ন গোষ্ঠীর মধ্যে শত্রুতা সৃষ্টি এবং ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হানার মারাত্মক অভিযোগে শাহবাগ থানার এসআই জিয়াউল হক বাদী হয়ে এই মামলাটি দায়ের করেছিলেন। বর্তমানে পুরো ঘটনার নেপথ্যের চক্রান্তকারী ও অর্থায়নের উৎস বের করতে কঠোর পুলিশি তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।
মূল প্রতিবেদনে যান ↗