ছবির ক্যাপশন: .
আসিফ চৌধুরী, বিশেষ সংবাদদাতা :
বন ও পরিবেশ প্রতিমন্ত্রী ড. শেখ ফরিদুল ইসলাম এমপি বলেছেন, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বাংলাদেশের তাপমাত্রা ক্রমেই বাড়ছে। বিশেষ করে জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকিতে বাংলাদেশ সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থানে রয়েছে। তাই পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় ব্যাপকভাবে বৃক্ষরোপণ করতে হবে।
মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) সকালে ঢাকার কেরানীগঞ্জ মডেল উপজেলার নয়াবাজার ডিগ্রি কলেজে বৃক্ষরোপণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, “বৃক্ষরোপণে সাজাব দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ”— এই স্লোগানকে সামনে রেখে সারা বাংলাদেশকে সবুজে সাজানোর লক্ষ্যে সরকার কাজ করছে। ইতোমধ্যে কোথায় কতগুলো গাছ লাগানো হচ্ছে এবং সেগুলোর যথাযথ রক্ষণাবেক্ষণ ও পরিচর্যা হচ্ছে কি না, তা মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে তদারকি করা হচ্ছে।
তিনি বলেন, সম্প্রতি কক্সবাজার সফরে গিয়ে দেখেছেন সেখানে ব্যাপকভাবে বৃক্ষরোপণ করা হচ্ছে। একক জেলা হিসেবে কক্সবাজারে প্রায় ৪০ লাখ গাছ লাগানো হয়েছে। স্থানীয় মানুষও স্বতঃস্ফূর্তভাবে এতে অংশ নিচ্ছেন এবং গাছের পরিচর্যা ও রক্ষণাবেক্ষণের বিষয়ে সচেতন রয়েছেন। এটি পরিবেশ রক্ষার ক্ষেত্রে আশার জায়গা তৈরি করেছে।
ড. শেখ ফরিদুল ইসলাম বলেন, আগামী পাঁচ বছর পর দেশে ২৫ কোটি গাছ রেখে যেতে চান তারা। তবে গাছ লাগানোর লক্ষ্যমাত্রা ৩০ থেকে ৩২ কোটি হতে পারে। কারণ প্রাকৃতিক দুর্যোগ, পরিচর্যার অভাবসহ বিভিন্ন কারণে কিছু গাছ মারা যেতে পারে। তাই মারা যাওয়া গাছের পরিবর্তে নতুন গাছ লাগানোর পরিকল্পনাও রয়েছে।
তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী ২০২৫ সালের ১৩ জুন বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধনকালে প্রত্যেককে একটি করে গাছ লাগানোর আহ্বান জানিয়েছিলেন, যাতে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম বুকভরে নিশ্বাস নিতে পারে। জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে তাপমাত্রা বৃদ্ধি পাচ্ছে। বৃক্ষরোপণের মাধ্যমে তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ, বৃষ্টিপাত বৃদ্ধি এবং পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা সম্ভব।
প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, সরকারের অগ্রাধিকার প্রকল্পগুলোর মধ্যে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ অন্যতম। এ ছাড়া ‘ওয়ান চাইল্ড ওয়ান ট্রি’ কর্মসূচির মাধ্যমে প্রতিটি স্কুলশিক্ষার্থীকে একটি করে গাছ লাগানো ও তার পরিচর্যার আহ্বান জানানো হয়েছে। একটি শিশু যেমন বড় হবে, তার লাগানো গাছটিও তেমনি বড় হবে—এটি ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি আনন্দ ও তৃপ্তির বিষয়।
তিনি সবাইকে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, সারা বাংলাদেশকে সবুজের আচ্ছাদনে ঢেকে দিতে হবে। তাহলে শিশুরা সুস্থ ও সুন্দর পরিবেশে বেড়ে উঠতে পারবে। বৃক্ষ ছাড়া মানুষের জীবন হুমকির মুখে পড়বে এবং পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট হবে।
পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, রাস্তাঘাটে যেখানে-সেখানে টিস্যু ও ময়লা ফেলা যাবে না। সবাইকে ডাস্টবিন ব্যবহারের অভ্যাস করতে হবে। পাশাপাশি একবার ব্যবহারযোগ্য পাতলা পলিথিন বা সিঙ্গেল-ইউজ পলিথিন এড়িয়ে চলতে হবে।
তিনি বলেন, গ্রোসারি, ফলের দোকান, মুদিদোকান ও কাঁচাবাজারে একসময় পলিথিনের ব্যবহার এতটা ব্যাপক ছিল না। সহজলভ্য হওয়ার কারণে বর্তমানে এর ব্যবহার বেড়েছে। পলিথিনের ব্যবহার কমানো গেলে জলাবদ্ধতা ও প্লাস্টিক দূষণ অনেকাংশে কমানো সম্ভব হবে। তাই প্রত্যেককে নিজ নিজ আঙিনা পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন ও পলিথিনমুক্ত রাখার পাশাপাশি বেশি করে গাছ লাগাতে হবে।
অনুষ্ঠানে সাবেক মন্ত্রী, ঢাকা-২ আসনের সংসদ সদস্য ও ডাকসুর সাবেক ভিপি আমান উল্লাহ আমান এমপি বলেন, “এই সরকার জনগণের সরকার, জনগণের কল্যাণের সরকার। আজকে কোনো শিশু জন্মগ্রহণ করলে তার নামে একটি গাছ লাগানো হলে সেই গাছ বড় হয়ে তার বিয়ের বৌভাতের খরচ বহন করতে পারবে।" তিনি আরও বলেন, “আমরা মন্ত্রী-এমপি নই, আমরা জনগণের সেবক। আমান উল্লাহ আমান বলেছেন, জনগণের ভোটে নির্বাচিত সরকারই জনগণের কল্যাণে কাজ করে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জনগণের কাছে যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, সরকার গঠনের পর সেগুলো পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়ন শুরু হয়েছে। ইতোমধ্যে ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড ও স্বাস্থ্য কার্ড চালু করা হয়েছে। এছাড়া মসজিদের ইমাম, মুয়াজ্জিন, খাদেম, মন্দিরের পুরোহিত এবং অন্যান্য ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের সেবকদের জন্য ভাতা চালু করা হয়েছে। সরকারের বাকি প্রতিশ্রুতিগুলোও ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন করা হবে।
বৃক্ষরোপণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন কেরানীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. উমর ফারুক, নয়াবাজার ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ আব্দুল মালেক, কেরানীগঞ্জ মডেল উপজেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মো. শামীম হাসান, যুগ্ম সম্পাদক মনির হোসেন মনির প্রমুখ।
