উন্নয়ন প্রকল্প গ্রহণের ক্ষেত্রে জনস্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়ার পাশাপাশি প্রকল্পের সম্ভাব্যতা যথাযথভাবে যাচাই করার ওপর জোর দিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খান। তিনি বলেছেন, এমনভাবে উন্নয়ন পরিকল্পনা করতে হবে, যাতে সর্বাধিকসংখ্যক মানুষ এর সুফল পান।
মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) সচিবালয়ে জাপান আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থার (জাইকা) চিফ রিপ্রেজেনটেটিভ জুনকো তাকাহাশির সঙ্গে বৈঠকে তিনি এসব কথা বলেন। বৈঠকে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের অধীন জাইকার চলমান প্রকল্পগুলোর অগ্রগতি, বাস্তবায়নের গতি এবং ভবিষ্যৎ সহযোগিতা সম্প্রসারণ নিয়ে আলোচনা হয়।
মেট্রোরেল প্রকল্পের প্রসঙ্গ তুলে মন্ত্রী বলেন, এই সেবা টঙ্গী কিংবা জয়দেবপুর পর্যন্ত সম্প্রসারণ করা গেলে আরও বেশি মানুষ উপকৃত হতেন। উন্নয়ন প্রকল্প হাতে নেওয়ার আগে সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি হাওর অঞ্চলের প্রকল্পগুলো পরিকল্পনার ক্ষেত্রেও আরও সতর্ক হওয়ার আহ্বান জানান।
বাংলাদেশের অন্যতম বৃহৎ উন্নয়ন সহযোগী হিসেবে জাপানের অবদানের প্রশংসা করে আবদুল মঈন খান জাইকার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। একই সঙ্গে স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোকে আরও শক্তিশালী করতে নতুন প্রকল্প গ্রহণ এবং সহযোগিতা বাড়ানোর আহ্বান জানান তিনি।
বৈঠকে জাইকার পক্ষ থেকে জানানো হয়, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে কমিউনিটি সেবা, পানি সরবরাহ, পয়ঃনিষ্কাশন, আঞ্চলিক উন্নয়ন, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও হাওর উন্নয়নসহ বিভিন্ন খাতে প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। এসব ক্ষেত্রে ভবিষ্যতে সহযোগিতা আরও বাড়ানোর আশ্বাস দেন সংস্থাটির চিফ রিপ্রেজেনটেটিভ।
স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) মাধ্যমে বাস্তবায়নাধীন ‘আরবান ডেভেলপমেন্ট অ্যান্ড সিটি গভর্ন্যান্স প্রজেক্ট’ এবং ‘সাউদার্ন চট্টগ্রাম রিজিওনাল ডেভেলপমেন্ট প্রজেক্ট’-এর অগ্রগতিও বৈঠকে তুলে ধরা হয়। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রকল্প দুটি দ্রুত বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দেন মন্ত্রী।
এ ছাড়া দেশের সব উপজেলায় বাস্তবায়নের প্রস্তাবিত ‘উপজেলা গভর্ন্যান্স অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট প্রজেক্টের দ্বিতীয় পর্যায়’-এর কার্যক্রমেও সর্বোচ্চ সহযোগিতার আশ্বাস দেওয়া হয়।
স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোর সক্ষমতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দিয়ে আবদুল মঈন খান বলেন, দেশে গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করতে হলে তৃণমূল পর্যায়ে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করতে হবে। এ জন্য স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোর সক্ষমতা বাড়ানোর বিকল্প নেই।
স্থানীয় পর্যায়ে জাইকার নেওয়া ও সম্পন্ন বিভিন্ন প্রকল্পের জন্য সংস্থাটিকে ধন্যবাদ জানান মন্ত্রী। পাশাপাশি এ ধরনের উদ্যোগ আরও সম্প্রসারণের আহ্বান জানান তিনি।
উন্নয়ন সহযোগী সংস্থাগুলোর কার্যক্রমের মধ্যে সমন্বয় জোরদার করতে দাতা সংস্থার প্রতিনিধি ও মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধিদের নিয়ে একটি কমিটি গঠনের নির্দেশও দেন আবদুল মঈন খান। উন্নয়ন প্রকল্পের পরিকল্পনা ও সংশ্লিষ্ট কার্যক্রমের মধ্যে সমন্বয় সাধনে কমিটিটি কাজ করবে।
বৈঠকে জাইকার সিনিয়র রিপ্রেজেনটেটিভ মরিকাওয়া ইয়োকো, স্থানীয় সরকারবিষয়ক উপদেষ্টা আকিরা মুনাকাতা, পরিকল্পনা, পরিবীক্ষণ, মূল্যায়ন ও পরিদর্শন অনুবিভাগের মহাপরিচালক শিবির বিচিত্র বড়ুয়াসহ মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
