কালবেলা · দেশ
দুর্গাপূজার ছুটিতে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় বন্ধসহ যাত্রী নিরাপত্তা নিশ্চিতের দাবি
১৭/১০/২০২৬

শারদীয় দুর্গাপূজার ছুটিতে যাত্রীদের নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন যাতায়াত নিশ্চিত করতে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় বন্ধ, গণপরিবহনে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা এবং সড়ক দুর্ঘটনা প্রতিরোধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছে যাত্রী অধিকার সংরক্ষণ পরিষদ। সেই সঙ্গে গত সেপ্টেম্বর মাসে সড়ক দুর্ঘটনায় ৪২৩ জন নিহত ও ৬৭৪ জন আহত হওয়ার তথ্য তুলে ধরে সড়ক নিরাপত্তা জোরদারে সরকারের জরুরি হস্তক্ষেপ চেয়েছে সংগঠনটি।
শনিবার (১৭ অক্টোবর) ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সাগর-রুনি মিলনায়তনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব দাবি ও প্রস্তাব তুলে ধরেন পরিষদের সাংগঠনিক সম্পাদক যুবায়ের সিকদার।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি জানান, সেপ্টেম্বর মাসে সারা দেশে ৪৪২টি সড়ক দুর্ঘটনায় ৪২৩ জন নিহত এবং ৬৭৪ জন আহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে ৭৩ জন নারী ও ৬১ জন শিশু। সে হিসাবে মাসটিতে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রতিদিন গড়ে প্রায় ১৪ জনের মৃত্যু হয়েছে।
তিনি আরও জানান, গত মাসে মোটরসাইকেলকেন্দ্রিক ১৫৬টি দুর্ঘটনায় ১৩৯ জন নিহত হয়েছেন। এ ছাড়া সড়ক দুর্ঘটনায় ১০৬ জন পথচারী এবং ৫৩ জন চালক ও সহকারী প্রাণ হারিয়েছেন।
সংগঠনটির তথ্য অনুযায়ী, সেপ্টেম্বরে দুর্ঘটনায় জড়িত ৬৯১টি যানবাহনের মধ্যে ১৬২টি মোটরসাইকেল, ১২৯টি থ্রি-হুইলার এবং ১১৩টি বাস ছিল। দুর্ঘটনার কারণ বিশ্লেষণে দেখা গেছে, চালকের নিয়ন্ত্রণ হারানোর কারণে ১৬৮টি দুর্ঘটনা ঘটেছে। পথচারীকে ধাক্কা বা চাপা দেওয়ার ঘটনা ছিল ১০৯টি। এ ছাড়া মুখোমুখি বা একাধিক যানবাহনের সংঘর্ষে ৯৮টি এবং পেছন থেকে ধাক্কায় ৬১টি দুর্ঘটনা ঘটে।
বিভাগভিত্তিক পরিসংখ্যানে সবচেয়ে বেশি দুর্ঘটনা ঘটেছে ঢাকা বিভাগে। এ বিভাগে ১৩২টি দুর্ঘটনায় ১৩৪ জন নিহত হয়েছেন। জেলা হিসেবে গাজীপুরে সর্বোচ্চ ৩৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। অন্যদিকে রাজধানী ঢাকায় ৫২টি সড়ক দুর্ঘটনায় ২১ জন নিহত এবং ৪৭ জন আহত হয়েছেন।
সংবাদ সম্মেলনে দুর্গাপূজার ছুটিতে ঘরমুখী ও ভ্রমণকারী যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গণপরিবহনে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় বন্ধ, যানবাহন চলাচলে শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং সড়ক দুর্ঘটনা প্রতিরোধে কার্যকর নজরদারি বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। যাত্রীদের দুর্ভোগ কমাতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানায় যাত্রী অধিকার সংরক্ষণ পরিষদ।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, একই সময়ে ১১টি নৌ-দুর্ঘটনায় ১৬ জন নিহত, সাতজন আহত ও চারজন নিখোঁজ হয়েছেন। অন্যদিকে, ২৩টি ট্রেন দুর্ঘটনায় ১৯ জন নিহত ও ছয়জন আহত হয়েছেন।
যাত্রী অধিকার সংরক্ষণ পরিষদ জানায়, ত্রুটিপূর্ণ ও ফিটনেসবিহীন যানবাহন, বেপরোয়া গতি, চালকদের প্রশিক্ষণ ও কর্মঘণ্টার ঘাটতি, ক্লান্ত অবস্থায় গাড়ি চালানো, মহাসড়কে অপর্যাপ্ত সার্ভিস লেন, তরুণদের বেপরোয়া মোটরসাইকেল চালানো এবং ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা ও তদারকির দুর্বলতা সড়ক দুর্ঘটনার অন্যতম কারণ।
সড়ক নিরাপত্তায় সরকারের কাছে দেওয়া সুপারিশের মধ্যে রয়েছে, মহাসড়কে সিসিটিভি ক্যামেরা ও স্পিড গান ব্যবহার করে যানবাহনের গতি নজরদারি, ই-প্রসিকিউশন চালু, চালকের লাইসেন্স ও যানবাহনের ফিটনেস পরীক্ষাপদ্ধতি স্বয়ংক্রিয় করা এবং ট্রাফিক আইন লঙ্ঘনকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া।
মূল প্রতিবেদনে যান ↗