ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনে দাঁড়িপাল্লার প্রচারণায় বাধা ও অস্ত্রধারী সন্ত্রাসীদের তৎপরতার অভিযোগ তুলে প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে বক্তব্য দিয়েছেন জামায়াতের প্রার্থী দেলাওয়ার হোসেন; একই সঙ্গে ২৯ অক্টোবরের নির্বাচনে দাঁড়িপাল্লায় ভোট দিয়ে মাদক, সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজমুক্ত ঠাকুরগাঁও গড়ার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনে ১১ দলীয় ঐক্যের সমর্থিত জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী দেলাওয়ার হোসেন বলেছেন, নিশ্চিত পরাজয় বুঝতে পেরে অস্ত্রধারী সন্ত্রাসীদের লেলিয়ে দিয়ে দাঁড়িপাল্লার প্রচারণা বন্ধের চেষ্টা চালানো হচ্ছে। দাঁড়িপাল্লার সমর্থনে ঠাকুরগাঁওয়ের পাড়া-মহল্লায় গণজোয়ার সৃষ্টি হওয়ায় সন্ত্রাসীদের গডফাদারদের মাথা নষ্ট হয়ে গেছে। এ কারণেই প্রচারণায় বাধা সৃষ্টি করা হচ্ছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
তিনি বলেন, দাঁড়িপাল্লার প্রচারণায় যত বেশি বাধা আসবে, জনগণ তত বেশি দাঁড়িপাল্লার সমর্থনে নির্বাচনের মাঠে নেমে পড়বে। জনগণ নির্বাচনী মাঠে নামতে শুরু করলে মাদক, সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজদের গডফাদারদের পরাজয় ঠেকানো যাবে না।
বুধবার (১৪ অক্টোবর) সকালে ভুল্লী উপজেলার শুখানপুকুরী ইউনিয়নের সেনপাড়ায় অনুষ্ঠিত নির্বাচনী উঠান বৈঠকে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
দেলাওয়ার হোসেন বলেন, এবারের নির্বাচন মাদক, সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে। আগামী ২৯ অক্টোবর দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে ভোট দিয়ে ঠাকুরগাঁওকে শান্তির নীড় হিসেবে গড়ে তুলতে তিনি স্থানীয়দের প্রতি আহ্বান জানান। তিনি বলেন, দাঁড়িপাল্লা প্রতীক নির্বাচিত হলে সমাজে মাদক, সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজি থাকবে না।
কারও মিষ্টি কথায় কিংবা মিথ্যা প্রলোভন ও প্ররোচনায় প্রতারিত না হতে ঠাকুরগাঁওবাসীকে সতর্ক করে তিনি বলেন, যখন মাদক কারবারিরা বলবে সমাজে মাদক থাকবে না, আর সন্ত্রাস-চাঁদাবাজদের গডফাদাররা বলবে সন্ত্রাস থাকবে না, তখন বুঝতে হবে সর্ষের ভেতরেই ভূত আছে। তারা নির্বাচনের বৈতরণি পার হওয়ার জন্য জনগণকে মিথ্যা আশ্বাস দিয়ে প্রতারণা করে।
তিনি আরও বলেন, যে দলের প্রধান জনগণকে গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে সরকার গঠনের পর গণভোটের রায় মেনে নেননি এবং যে দলের শীর্ষ নেতারা ওই প্রতিশ্রুতিকে নির্বাচনের বৈতরণি পার হওয়ার কৌশল হিসেবে উল্লেখ করেন, সেই দলের প্রতীকে আর ভোট দেওয়া যায় না। আবারও সেই দলের প্রতীকে ভোট দিলে জনগণ প্রতারিত হবে, জুলুম ও শোষণের শিকার হবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
দেলাওয়ার হোসেন বলেন, দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে ভোট দিলে জনগণের মালিকানা জনগণের কাছে ফিরে আসবে এবং সবার সমান অধিকার নিশ্চিত হবে। মাদক, সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজদের কবর রচনায় একবার সুযোগ চেয়ে তিনি আগামী ২৯ অক্টোবর দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির (জাগপা) মুখপাত্র ইঞ্জিনিয়ার রাশেদ প্রধান বলেন, যারা জনগণের ভোটে বিশ্বাসী নয় এবং ইঞ্জিনিয়ারিং করে ঠাকুরগাঁওবাসীর সংসদ সদস্য হতে চায়, তারাই প্রতিপক্ষের নির্বাচনী প্রচারণায় বাধা সৃষ্টি করে।
তিনি বলেন, একজন প্রার্থী মসজিদে নামাজ আদায় করে বাইরে আসার পর অন্য প্রার্থীর সমর্থনে অস্ত্রধারী সন্ত্রাসীরা আক্রমণের চেষ্টা করলে এবং প্রচারণায় বাধা দিলে বুঝতে বাকি থাকে না, ওই প্রার্থীর অনুসারী কারা। কোনো সমাজে সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজদের গডফাদারদের হাতে নেতৃত্ব চলে গেলে সেই সমাজের মানুষ জুলুম ও শোষণের শিকার হয়। এ অবস্থা থেকে মুক্তি পেতে আগামী ২৯ অক্টোবর দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে ভোট দিয়ে নিরাপদ ও বাসযোগ্য ঠাকুরগাঁও গড়তে তিনি স্থানীয় জনগণের প্রতি আহ্বান জানান।
শুখানপুকুরী ইউনিয়ন জামায়াতের আমির মাওলানা আব্দুস সামাদের সভাপতিত্বে এবং সেক্রেটারি আবুল কাশেমের পরিচালনায় অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন ঠাকুরগাঁও জেলা এনসিপির আহ্বায়ক খলিলুর রহমান। এ সময় স্থানীয় ১১ দলীয় ঐক্যের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
