বাবার কাছ থেকে টাকা এনে দিতে চাপ ও মারধরের অভিযোগ রেশমার, আদালতে মামলা চলমান বলে জানিয়েছেন অভিযুক্ত
পটুয়াখালী প্রতিনিধি:
- আপডেট সময় : ০৪:১৩:৩৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬ ৩ বার পড়া হয়েছে
আজকের জার্নাল অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি
পটুয়াখালীতে পাঁচ লাখ টাকা যৌতুক দাবি ও শারীরিক নির্যাতনের অভিযোগে স্বামী রাকিব সিকদারের বিরুদ্ধে সংবাদ সম্মেলন করেছেন স্ত্রী মোসা. রেশমা আক্তার। রেশমা আক্তার পটুয়াখালীর দুমকি উপজেলার শ্রীরামপুর এলাকার বাসিন্দা। তাঁর বাবা মো. শহিদ হাওলাদার। অভিযুক্ত রাকিব সিকদার জেলার কমলাপুর ইউনিয়নের বাসিন্দা ইদ্রিস সিকদারের ছেলে।
বুধবার (১৪ অক্টোবর) আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব অভিযোগ তুলে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও ন্যায়বিচারের জন্য প্রশাসন এবং সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
সংবাদ সম্মেলনে রেশমা জানান, রাকিবের সঙ্গে দুই বছরের প্রেমের সম্পর্কের পর ২০২২ সালের ৭ আগস্ট তিন লাখ টাকা দেনমোহরে তাঁদের বিয়ে হয়। বিয়ের পর তাঁদের দাম্পত্য জীবন স্বাভাবিকভাবেই চলছিল।
রেশমার অভিযোগ, ২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলনের সময় রাকিব চাকরির জন্য ঢাকায় অবস্থানকালে গুলিবিদ্ধ হন। পরে পরিবারের সদস্যরা তাঁর চিকিৎসার ব্যবস্থা করেন। সুস্থ হওয়ার পর জুলাই আন্দোলনে আহত ব্যক্তি হিসেবে সরকারি ভাতা পাওয়ার পর রাকিবের আচরণে পরিবর্তন আসে।
তিনি অভিযোগ করেন, এরপর থেকে বিভিন্ন সময় তাঁকে মারধর করা হতো এবং ব্যক্তিগত কাজের জন্য বাবার কাছ থেকে পাঁচ লাখ টাকা এনে দিতে চাপ দেওয়া হতো। টাকা দিতে না পারায় তাঁকে শারীরিক নির্যাতনের শিকার হতে হয়েছে। একপর্যায়ে রাকিব তাঁর পরিবারের সদস্যদের ফোন করেও টাকা দাবি করেন।
রেশমার দাবি, বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়ভাবে একাধিকবার সালিশ বৈঠক হয়। সেখানে রাকিব তাঁকে সংসারে রাখতে হলে পাঁচ লাখ টাকা দিতে হবে বলে জানান। সালিশে তিনি নিজেকে ‘জুলাই যোদ্ধা’ পরিচয় দিয়ে আইন-আদালত নিয়ে ক্ষমতার কথা বলেছেন বলেও অভিযোগ করেন রেশমা। তাঁর দাবি, টাকা না দিলে তাঁকে আর ঘরে ফিরিয়ে নেওয়া হবে না বলে জানানো হয়।
স্বামীর নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে একপর্যায়ে বাবার বাড়িতে চলে যান রেশমা। পরে তিনি আদালতে সিআর মামলা (নং ১১৪৩/২০২৫) দায়ের করেন। তবে মামলা করার পরও রাকিব আদালতে হাজির হননি বলে অভিযোগ তাঁর। পাশাপাশি মামলার সাক্ষীদের ভয়ভীতি দেখানোর অভিযোগও করেন তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে রেশমা বলেন, “আমি অসহায় অবস্থায় বাবার বাড়িতে দিন কাটাচ্ছি। জুলাই যোদ্ধা পরিচয় ব্যবহার করে আমার ওপর নির্যাতন চালানো হচ্ছে বলে আমি অভিযোগ করছি। আমি প্রশাসন ও সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং ন্যায়বিচার চাই।”
অভিযোগের বিষয়ে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে রাকিব সিকদার বলেন, “এটা নিয়ে আদালতে মামলা চলছে, তাই কোনো কথা বলতে পারব না।”
রেশমা আক্তার অভিযোগগুলোর সুষ্ঠু তদন্ত, দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ এবং নিজের দাম্পত্য জীবনের অধিকার ফিরে পেতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সহযোগিতা কামনা করেছেন।

