নিরাপত্তা পরিস্থিতির অবনতির আশঙ্কায় পাকিস্তানের খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশের ডেরা ইসমাইল খান (ডিআই খান) জেলায় ৩০ দিনের জন্য ১৪৪ ধারা জারি করেছে জেলা প্রশাসন। এ সময় জনসমাবেশ, মিছিল, শোভাযাত্রা, সমাবেশ এবং মোটরসাইকেলে দুজনের চলাচল নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
বুধবার (১৪ অক্টাবর) প্রকাশিত জেলা প্রশাসনের এক আদেশে বলা হয়েছে, ১৩ অক্টোবর থেকে আগামী ১১ নভেম্বর পর্যন্ত এ নিষেধাজ্ঞা কার্যকর থাকবে। জেলা প্রশাসক হিকমতুল্লাহ এ আদেশ জারি করেন।
দি এক্সপ্রেস ট্রিবিউনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নিষেধাজ্ঞার আওতায় প্রকাশ্যে অস্ত্র প্রদর্শন, বহন ও সঙ্গে রাখা নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এ ছাড়া জনসাধারণের চলাচল ও যানবাহন চলাচলে বাধা সৃষ্টি করতে পারে— এমন তাবু, অস্থায়ী স্থাপনা বা অন্য কোনো প্রতিবন্ধকতা তৈরি করাও নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
১৩ অক্টোবর জেলা পুলিশ কর্মকর্তা নিরাপত্তা পরিস্থিতির কথা উল্লেখ করে এ পদক্ষেপ নেওয়ার অনুরোধ জানান। তার আশঙ্কা, জনসমাবেশ, মিছিল ও শোভাযাত্রার কারণে সাধারণ মানুষের চলাচল ব্যাহত হতে পারে। একই সঙ্গে যান চলাচল, জরুরি সেবা ও জনশৃঙ্খলা বিঘ্নিত হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে।
জেলা প্রশাসক বলেন, মানুষের জীবন, জননিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় তাৎক্ষণিক প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন বলে তিনি মনে করেন। আদেশ অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে পাকিস্তান দণ্ডবিধির ১৮৮ ধারায় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে ডিআই খানে একের পর এক প্রাণঘাতী হামলার ঘটনা ঘটেছে। গত ২৬ সেপ্টেম্বর দারাজিন্দার আমান মেলা এলাকার একটি যৌথ চেকপোস্টে আত্মঘাতী বোমা হামলায় অন্তত ১২ জন নিহত ও ৩৫ জন আহত হন। আহত ব্যক্তিদের হাসপাতালে নেওয়ার সময় উদ্ধারকারী সংস্থা রেসকিউ ১১২২-এর একটি অ্যাম্বুলেন্সে গুলির ঘটনায় সংস্থাটির আরও দুই কর্মী নিহত হন। হামলার দায় স্বীকার করে তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তান (টিটিপি)।
এরপর ৭ অক্টোবর জেলাটিতে পৃথক গুলির ঘটনায় ফেডারেল বোর্ড অব রেভিনিউয়ের (এফবিআর) দুই কর্মকর্তাসহ পাঁচজন নিহত হন।
ক্রমবর্ধমান নিরাপত্তা উদ্বেগের মধ্যে গত ১১ অক্টোবর খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশের ডিআই খানসহ ১২টি জেলায় জরুরি অবস্থা জারি করা হয়। একই সঙ্গে প্রদেশটিতে গভর্নরের শাসন জারি করা হয়। সংবিধানের ২৩২ অনুচ্ছেদের আওতায় এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।