জমি নিয়ে বিরোধে রংপুরে দুর্গাপ্রতিমা বিসর্জন আটকে আছে
জমি নিয়ে বিরোধের জেরে রংপুর নগরীর ঠিকাদারপাড়া মহল্লায় দুর্গাপূজার প্রতিমা বিসর্জন নিয়ে জটিলতা তৈরি হয়েছে। বিজয়া দশমীর দিন পার হলেও বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা পর্যন্ত প্রতিমা বিসর্জন দেওয়া হয়নি। এ নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা, ধাক্কাধাক্কি ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এলাকায় পুলিশ, বিজিবি ও সেনাসদস্যরা উপস্থিত হন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নগরীর ঠিকাদারপাড়া মহল্লায় মোটর মেকানিক দশরথ চন্দ্র তাঁর পরিবারের সদস্যদের নিয়ে প্রায় ৫০ বছর ধরে বসবাস করছেন। আগে সেখানে তাঁদের পরিবারিকভাবে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হতো। তবে গত তিন বছর ধরে স্থানীয় একটি পক্ষ সেখানে সর্বজনীন দুর্গাপূজার আয়োজন করে আসছে।
এবার পূজার আগে জমির মালিক দশরথ চন্দ্র ও তাঁর পরিবার নিজেদের জমিতে পূজা আয়োজন নিয়ে আপত্তি জানালে বিরোধের সৃষ্টি হয়। পরিস্থিতি সামাল দিতে রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনারের কার্যালয়ে জেলা পূজা উদযাপন কমিটি ও স্থানীয় নেতাদের নিয়ে বৈঠক হয়।
বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়, এবার ওই স্থানে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হবে। পূজা শেষে প্রতিমা বিসর্জন দিয়ে জমিতে সীমানাপ্রাচীর নির্মাণের মাধ্যমে তা মালিককে বুঝিয়ে দেওয়া হবে। জমির মালিক দশরথ চন্দ্র ও তাঁর পরিবার এ সিদ্ধান্ত মেনে নিয়েছিলেন বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।
তবে অভিযোগ উঠেছে, বুধবার বিকেলে পূজা উদযাপন কমিটির পক্ষ থেকে দুটি প্রতিমা বিসর্জন দিয়ে বাকি দুটি সেখানে রেখে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বিকেল পাঁচটা থেকে প্রতিমা বিসর্জনের জন্য ট্রাক প্রস্তুত রাখা হলেও কমিটির সভাপতি প্রাণকৃষ্ণ গোস্বামী ও সাধারণ সম্পাদক কমল গোস্বামী বাকি প্রতিমা সরানোর বিরোধিতা করেন। এ নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে কয়েক দফা ধাক্কাধাক্কি ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটে।
খবর পেয়ে রাতে ঘটনাস্থলে যান রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের যুগ্ম কমিশনার তোফায়েল আহাম্মেদ। সেখানে বিজিবি ও সেনাসদস্যরাও উপস্থিত হন। তাঁরা কয়েক দফা মধ্যস্থতার চেষ্টা করলেও পূজা কমিটির নেতারা প্রতিমা সরাতে রাজি হননি বলে জানা গেছে। এতে মধ্যরাত পর্যন্ত সড়ক অবরোধ ও উত্তেজনাকর পরিস্থিতি চলতে থাকে।
পূজা কমিটির সাধারণ সম্পাদক কমল গোস্বামী বলেন, তাঁরা দীর্ঘদিন ধরে ওই স্থানে পূজা করে আসছেন এবং ভবিষ্যতেও পূজা করতে চান। জমিটির মালিক তাঁরা না হলেও এ নিয়ে আদালতে মামলা চলছে বলে তিনি দাবি করেন।
রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের যুগ্ম কমিশনার তোফায়েল আহাম্মেদ বলেন, পুলিশ কমিশনারের হস্তক্ষেপে শান্তিপূর্ণভাবে পূজা আয়োজনের পরিবেশ তৈরি করা হয়েছিল। কিন্তু সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলো বারবার অবস্থান পরিবর্তন করছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষা ও বিশৃঙ্খলা এড়াতে এলাকায় প্রয়োজনীয় পুলিশ ও বিজিবি মোতায়েন রাখা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা পর্যন্ত প্রতিমা বিসর্জন সম্পন্ন হওয়ার খবর পাওয়া যায়নি। জমির মালিকানা ও পূজার স্থান নিয়ে বিরোধের সমাধান না হওয়ায় পরিস্থিতি নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে।
