Published on
:
2 min read
দিব্যেন্দু সিনহা, জলপাইগুড়ি
চা বাগান বন্ধ প্রায় ন'বছর। নিয়মিত রোজগার নেই কারও। অনিশ্চিত দু'বেলার খাবারও। এমন অভাবের সংসারে তিনি আসছেন।
জলপাইগুড়ির রায়পুর চা বাগান ২০০২-এ বন্ধ হয়ে যায়। কয়েক বছর পরে বাগানে একের পর এক শ্রমিকের মৃত্যুর ঘটনা গোটা রাজ্যকে নাড়িয়ে দিয়েছিল। ২০১৪-য় নতুন মালিকের হাত ধরে বাগান খুললেও ২০১৭-১৮-তে মালিকপক্ষ বিনা নোটিসে বাগান ছেড়ে চলে যায় বলে অভিযোগ। ২০১৮-র সেপ্টেম্বর থেকে ফের পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায় বাগান।
এমনই এক 'নেই রাজ্য' এই চা বাগান। টি এস্টেটের বন্ধ কারখানার সামনে দাঁড়ালে শ্রমিকদের বুক খানখান হয়ে যায়। এক সময়ের চঞ্চল কর্মস্থল এখন স্তব্ধ হয়ে গিয়েছে। তবে উৎসব থেকে ব্রাত্য হয়ে যায়নি। এখানে প্রতি বারের শারদীয়ায় দেবী দুর্গা আসেন। এ বারও এসে পড়েছেন বোধনের সকালে। তিন-চার বছরের ছবি এমনটাই।
রায়পুর চা বাগানের বহু শ্রমিকের সঙ্গে অবশ্য 'ঘরের মেয়ে'র দেখা হয় না। সংসার চালাতে রুজির টানে পরিযায়ী শ্রমিক হয়েছেন বহু চা শ্রমিক। তাঁদের উপার্জনে এখানে পরিবারগুলো কোনও মতে বেঁচে আছে। বেঁচে আছে তাঁদের আনন্দে মেতে ওঠার ইচ্ছেটাও। দুর্গাপুজোর আনন্দ থেকে নিজেদের বঞ্চিত করতে নারাজ শ্রমিকরা। তাই নিজেদের সামান্য উপার্জনের টাকা জমিয়ে এ বারও পুজোর আয়োজন করছেন শিবকুমার চিকবরাইক, প্রকাশ মুন্ডা, নুপুর মুন্ডা-সহ শ্রমিকেরা।
শিবকুমারেরর কথায়, 'আশপাশের চা বাগানগুলিতে বোনাস হয়েছে। শ্রমিকেরা উৎসবের কেনাকাটায় ব্যস্ত। কিন্তু আমাদের বাগান বন্ধ, তাই বোনাস পাওয়ার প্রশ্নই নেই। তবুও পুজোর আনন্দ থেকে আমরা দূরে থাকতে চাই না। মায়ের কাছে একটাই প্রার্থনা, দ্রুত খুলে যাক বাগান।' কিন্তু কবে খুলতে পারে, সে ব্যাপারে কোনও আশার আলো দেখতে পাচ্ছেন না শ্রমিকরা। তাঁদের অভিযোগ, বাগান খোলার দাবিতে বারবার সরব হলেও বিগত সরকারের শ্রম দপ্তর উদ্যোগ নেয়নি।
এখন বাগানের প্রায় ৬৫০ জন শ্রমিক চরম দুরবস্থার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। বাগান বন্ধ থাকলেও নিজেদের উদ্যোগে বাগান যতটা সম্ভব রক্ষণাবেক্ষণ করে চা পাতা বিক্রির চেষ্টা করছেন তাঁরা। গত তিন-চার বছর ধরে নিজেদের উদ্যোগেই দুর্গাপুজোর আয়োজন করছেন শ্রমিকেরা। পুজোর অন্যতম উদ্যোক্তা নূপুর মুন্ডা বলেন, 'আমরা কোনও রকমে পুজো করছি। ছোট আয়োজন। বাগান খুলে গেলে খুব ভালো হয়। তখন বড় পুজো করব।'
এই অভাবের সংসারে এ বারও আসছেন দুর্গতিনাশিনী। চা বাগান শ্রমিকরা জানেন না, আদৌ তাঁদের দুর্গতি কবে ঘুচবে। দারুণ জাঁকজমকের মধ্যে ঢাকের বোলে চেপে কারখানার সামনের মণ্ডপে ষষ্ঠীর সকালে জাগরণ হবে দেবীর। দুর্গতিনাশিনী হয়ে উঠবেন সার্থকনামা!
