রাজধানীর ক্যান্টনমেন্ট এলাকায় দক্ষিণ মানিকদীতে অবস্থিত নিউ গিনি প্রোপার্টিজ লিমিটেডের প্রজেক্টে হামলা, গোলাগুলি, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনায় করা মামলায় প্রধান আসামি শাহরিয়ার মাহমুদ জামিন পেয়েছেন। গতকাল সোমবার (১২ অক্টোবর) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. হাসিব উল্লাহ পিয়াস এ আদেশ দেন।
আজ মঙ্গলবার ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) অপরাধ, তথ্য ও প্রসিকিউশন বিভাগ সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।
গত ২৬ সেপ্টেম্বর মধ্যরাতে নিউ গিনি প্রোপার্টিজের ওই প্রজেক্টে হামলা চালিয়ে ব্যাপক ভাঙচুর করা হয়। এ ঘটনায় প্রজেক্ট পরিচালক সাইফুল ইসলাম ভূঁইয়া বাদী হয়ে ২৭ সেপ্টেম্বর ক্যান্টনমেন্ট থানায় মামলা করেন।
এজাহার থেকে জানা গেছে, পূর্ব শত্রুতার জেরে আসামিরা বেআইনিভাবে আগ্নেয়াস্ত্র, শটগান, রিভলভার, চাপাতি, রামদা, লাঠিসোঁটাসহ প্রজেক্টে প্রবেশ করে ৫০ রাউন্ড ফাঁকা গুলি করে আতঙ্ক সৃষ্টি করে। এ সময় প্রজেক্টের সাইড ইঞ্জিনিয়ার মো. পারভেজ এবং নিরাপত্তা রক্ষীদের মারধর করে মারাত্মক জখম করা হয়।
এজাহারের অভিযোগ করা হয়, হামলাকারীরা মেইন গেট, গ্লাস ও ফার্নিচার ভাঙচুর করার পাশাপাশি নগদ টাকা, রড, বাইক ও অন্যান্য সামগ্রী চুরি করে নিয়ে যায় আসামিরা। এর মধ্যে প্রজেক্টের মেইন গেট, থাইগ্লাস ও কেঁচি গেট ভাঙচুর করে আনুমানিক ১৫ লাখ টাকার এবং অফিসের ভেতরে কম্পিউটার, মনিটর, ফ্রিজ, টিভি ও আলমারি ভাঙচুর করে আরও ১২ লাখ টাকার ক্ষতিসাধন করেন আসামিরা।
এ ছাড়া প্রজেক্টের অফিস রুমের লকার ভেঙে নির্মাণ সামগ্রী কেনার জন্য রাখা নগদ ২৫ লাখ টাকা, বিভিন্ন সাইজের ২০০ ফুট তার, যার মূল্য ৫৫ লাখ টাকা এবং ২৩ টন রড ও ফ্ল্যাট মালিকের একটি ৪ লাখ টাকার স্কুটার চুরির কথা বলা হয়েছে। এ হামলায় প্রতিষ্ঠানের আনুমানিক ১ কোটি ৪২ লাখ ৮০ হাজার টাকার আর্থিক ক্ষতি হয়েছে এবং হামলাকারীরা ১ কোটি ৫০ লাখ ৪৪ হাজার টাকা মূল্যের মালামাল লুট করে নিয়ে গেছে বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।
অভিযোগে আরও বলা হয়, প্রজেক্টে ৫ হাজার স্কয়ার ফুটের ফ্লোরে সালমান মুক্তাদিরের ‘ব্রাউন ফিস স্টুডিও’-তে অনধিকার প্রবেশ করে দুটি টিভি, এসি ও মূল্যবান ফার্নিচার ভাঙচুর করে ৯৫ লাখ টাকার আর্থিক ক্ষতিসাধন করা হয়। এর মধ্যে বিপুল পরিমাণ দামি শুটিং ও টেকনিক্যাল ইকুইপমেন্ট রয়েছে।
মামলার আসামিরা হলেন—শাহরিয়ার মাহমুদ (৬০), মো. আবুল কাশেম (৫৩), মো. বাবুল হোসেন (৪৯), মেজর জেনারেল (অব.) গোলাম মহিউদ্দিন চৌধুরী (৬৭), মোহাম্মদ সাহিনুজ্জামান (৪৭), মো. মতিউর রহমান (৪৮), মজিবুর রহমান (৪৭), নুরুল ইসলাম (৫১), মিজানুর রহমান (৫৯), এমকে আজাদ (৫৪), মো. মামুন (৩২), মো. আসলাম (২৪) ও মুন্না (২৯)। এই ১৩ জনসহ অজ্ঞাতনামা আরও ১৫০ থেকে ২০০ জনকে মামলায় আসামি করা হয়েছে।
