কালবেলা · জীবনধারা
বিরল প্রজাতির পাখি দেখতে ইউরোপের সেরা গন্তব্য কোথায়?
১৯/১০/২০২৬

প্রকৃতির সঙ্গে সময় কাটানো ও বিরল প্রজাতির পাখি দেখার আকর্ষণে বিশ্বজুড়ে জনপ্রিয় হয়ে উঠছে বার্ডওয়াচিং বা পাখি দেখা। একসময় প্রকৃতিপ্রেমীদের শখ হিসেবে পরিচিত এই কার্যক্রম এখন পর্যটনের নতুন প্রবণতা হয়ে উঠেছে।
ইউরো নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মের মধ্যে পাখি দেখা নিয়ে আগ্রহ বাড়ছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পাখি দেখার ভিডিও ভাইরাল হওয়ায় এ আগ্রহ আরও ছড়িয়ে পড়ছে।
ভ্রমণ অভিজ্ঞতা বুকিংয়ের আন্তর্জাতিক প্ল্যাটফর্ম গেটইউরগাইডের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ২৭ আগস্ট পর্যন্ত বিশ্বজুড়ে বার্ডওয়াচিং অভিজ্ঞতা বুকিংয়ের সংখ্যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ৬৫ শতাংশ বেড়েছে।
প্রতিষ্ঠানটির বৈশ্বিক প্রবণতা ও ভ্রমণ অভিজ্ঞতা বিশেষজ্ঞ অ্যান ওয়ালিন বলেন, বার্ডওয়াচিং এখন আর কেবল একটি উদীয়মান প্রবণতা নয়। প্রকৃতির কাছাকাছি যাওয়া এবং দৈনন্দিন ব্যস্ততা থেকে দূরে থাকতে মানুষ এ ধরনের ভ্রমণে আগ্রহী হচ্ছেন।
ভ্রমণ প্রতিষ্ঠান ভোয়াজ্যুর দু মন্দের এক প্রবণতা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিশ্ব এখন ‘বার্ডওয়াচিং যুগে’ প্রবেশ করছে এবং ২০২৭ সাল হতে পারে পাখি দেখার ভ্রমণের বছর।
প্রতিষ্ঠানটির তথ্যমতে, ২০২৬ সালের জুলাই থেকে অক্টোবর পর্যন্ত বার্ডওয়াচিং ভ্রমণের বুকিং বছরের প্রথম ছয় মাসের তুলনায় ৫৭ শতাংশ বেশি হয়েছে।
প্রতিষ্ঠানটির ব্র্যান্ডবিষয়ক প্রধান টম বারবার বলেন, দ্রুতগতির জীবন ও পর্দানির্ভরতার বাইরে প্রকৃতির সঙ্গে যুক্ত হওয়ার সহজ উপায় হচ্ছে দূরবীন হাতে বাইরে বেরিয়ে পাখি দেখা।
ইউরোপে বার্ডওয়াচিংয়ের জন্য উল্লেখযোগ্য গন্তব্যগুলোর মধ্যে রয়েছে রোমানিয়ার দানিউব বদ্বীপ এবং গ্রিসের উত্তর-পূর্বাঞ্চল। দানিউব বদ্বীপের বিস্তীর্ণ জলাভূমি ও নদীপথে ৩০০-এর বেশি প্রজাতির পাখি দেখা যায়।
অন্যদিকে, গ্রিসের উত্তর-পূর্বাঞ্চল পরিযায়ী পাখির গুরুত্বপূর্ণ পথের মধ্যে অবস্থিত। সেখানকার জলাভূমি ও বনাঞ্চল পাখি দেখার জন্য উপযোগী।
পর্যটকদের জন্য পর্তুগালও আকর্ষণীয় গন্তব্য। দেশটির দীর্ঘ আটলান্টিক উপকূল এবং আজোরেস ও মাদেইরা দ্বীপপুঞ্জ সামুদ্রিক পাখি দেখার জন্য পরিচিত। পাফিন নামের বিশেষ প্রজাতির সামুদ্রিক পাখি দেখতে আইসল্যান্ডের ওয়েস্টম্যান দ্বীপপুঞ্জও জনপ্রিয়।
অলক্লিয়ার ট্রাভেলের বিশ্বের সেরা ২০টি বার্ডওয়াচিং গন্তব্যের তালিকায় ইউরোপের দুটি স্থান রয়েছে। এর মধ্যে সুইডেনের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ফালস্টারবো উপদ্বীপ ১৯তম এবং ইংল্যান্ডের টিচওয়েল মার্শ ২০তম স্থানে রয়েছে। তবে ইউরোপের গন্তব্যগুলোর মধ্যে ফালস্টারবো উপদ্বীপ প্রথম অবস্থানে রয়েছে।
বিশ্বের তালিকায় শীর্ষস্থান দখল করেছে দক্ষিণ আমেরিকার পেরুর মানু ন্যাশনাল পার্ক। একই দেশের তাম্বোপাতা ন্যাশনাল রিজার্ভ রয়েছে দ্বিতীয় স্থানে। তৃতীয় স্থানে রয়েছে কেনিয়ার সাভো ইস্ট ন্যাশনাল পার্ক। ভারতের কেওলাদেও ন্যাশনাল পার্ক তালিকায় অষ্টম স্থানে রয়েছে।
বার্ডওয়াচিং গন্তব্য নির্ধারণে পাখির প্রজাতির সংখ্যা, আবহাওয়া, বিমানবন্দরের দূরত্ব এবং দৈনিক ভ্রমণ ব্যয়ের মতো বিষয় বিবেচনায় নিয়েছে অলক্লিয়ার ট্রাভেল।
প্রকৃতির সঙ্গে নিবিড়ভাবে পরিচিত হওয়ার পাশাপাশি পাখির বৈচিত্র্য দেখার সুযোগ থাকায় বার্ডওয়াচিং ভবিষ্যতে পর্যটনের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
সূত্র: ইউরো নিউজ
মূল প্রতিবেদনে যান ↗