কিশোরগঞ্জের ভৈরবে নূরুল হক (৪৫) ও মাসুদ রানা (৪০) নামে দুই ব্যবসায়ী ভাইকে প্রকাশ্যে দিবালোকে দেশীয় অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে মারাত্মকভাবে আহত করে ১৬ লাখ টাকা ছিনিয়ে নেওয়া ঘটনার অভিযুক্তদের গ্রেফতারের দাবিতে মানবন্ধন ও প্রতিবাদ সভা করেছে এলাকাবাসী।
ওই মানববন্ধনে একাত্মতা ঘোষণা করে অংশ নিয়েছেন স্থানীয় বিভিন্ন সামাজিক সাংস্কৃতিক ও ব্যবসায়ী সংগঠনের নেতারা।
আজ রবিবার বেলা ১১টার দিকে শহরের চন্ডিবের মধ্যপাড়া এলাকায় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সড়কে এই মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।
মানববন্ধনে উপস্থিত থেকে এ সময় বক্তারা বলেন, এমন একটি মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার এক সপ্তাহ অতিবাহিত হলেও অপরাধীদের গ্রেফতার করতে ব্যর্থ হয়েছে পুলিশ। যা ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার বা তাদের স্বজনদের নয়, এই শহরের সকল মানুষদের বিস্মিত করেছে।
দিনে দুপুরে একটি জনবহুল এলাকায় সন্ত্রীরা আক্রমণ করে দুই ভাইকে রক্তাক্ত গুরুতর আহত করে সাথে থাকা ১৬ লাখ টাকা নিয়ে যাওয়ার ঘটনা অত্যন্ত ন্যাক্কারজনক ও আতংকজনক ঘটনা হলে পুলিশ বাহিনীর তৎপরতা খুবই দু:খজনক। তারা অবিলম্বো অপরাধীদের গ্রেফতার করে আইনের আওতায় এনে শাস্তির মুখোমুখি করতে পুলিশ প্রশাসনের কাছে আবেদন জানান।
এ সময় বক্তারা হুশিয়ারি দিয়ে বলেন, এই জঘন্য অপরাধীদের গ্রেফতারে পুলিশ যদি তৎপর না হয়, তবে পরবর্তীতে আরও কঠোর কর্মসূচী দিতে বাধ্য হবেন তারা। তখন এর দায় পুলিশ বাহিনীকেই নিতে হবে।
এই সময় বক্তব্য রাখেন পরিবারের সদস্য মো: রবিন মোল্লা, সাংবাদিক সুমন মোল্লা, মো. আলাল উদ্দিন, তুহিনুর রহমান, শিক্ষক ও নাট্যকার মানিক চৌধুরী, চেম্বার পরিচালক আরাফাত ভূঁইয়া, সমাজকর্মী ইকরাম বক্স প্রমুখ।
প্রসঙ্গত: গত ১৮ অক্টোবর রবিবার দুপুর দুইটার দিকে শহরের চন্ডিবের মধ্যপাড়া হাসপাতাল রোডের খাজা স্টিল ইন্ডাষ্ট্রির মালিক দুই ভাই নুরুল হক ও মাসুদ রানা কারখানা থেকে ১৬ লাখ টাকা নিয়ে ভৈরব বাজারে ব্যাংকে জমা দেওয়ার উদ্দেশ্যে যাত্রা করলে, কারখানার সামনে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হামলা চালায় একই এলাকার মোহাম্মদ আলী ও তার ছেলেরা। এ সময় দুই ভাইকে কুপিয়ে গুরুতর আহত করে সাথে থাকা ১৬ লাখ টাকা লুট করে পালিয়ে যায়।
পরে স্থানীয়রা দুই ভাইকে গুরুতর অবস্থায় উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে নুরুল হককে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় স্থানান্তর করেন।
এ ঘটনায় আহত মাসুদ রানা বাদী হয়ে পাঁচজনকে অভিযুক্ত গত ২১ অক্টোবর ভৈরব থানায় একটি মামলা দায়ের করেন।
