নোয়াখালীতে সদর উপজেলায় মো. কবির (৪০) নামের এক যুবককে চোর সন্দেহে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় গতকাল মঙ্গলবার রাতে নিহতের ২৫ জনকে আসামি করে মামলা দায়ের করেন নিহতের মা কমলা বেগম। মামলার পর চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
এর আগে গত সোমবার নোয়াখালী শহরের সোনাপুর পেট্রলপাম্প সংলগ্ন এলাকায় এই ঘটনা ঘটে। নিহত মো. কবির নোয়ান্নাই ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের প্রয়াত মো. হানিফের ছেলে। এ ঘটনায় গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন–মো. হোসেন (৩৪), মো. ফারুক উদ্দিন শুভ (২৪), আলাউদ্দিন মুন্সি (২৮) ও মো. তারেক (২৩)।
পুলিশ ও স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, সোমবার নোয়াখালী শহরের সোনাপুর পেট্রলপাম্প-সংলগ্ন হাসিব ওয়ার্কশপ থেকে টাকাভর্তি একটি ব্যাগ চুরি হয়। ব্যাগে ১ লাখ ৮০ হাজার টাকা ছিল বলে দাবি করেন ওয়ার্কশপের মালিক মো. হোসেন। তিনি সিসিটিভি ফুটেজ নিজের ফেসবুকে প্রকাশ করে অভিযুক্ত ব্যক্তিকে কেউ চিনে থাকলে তাকে খবর দিতে অনুরোধ করেন।
মঙ্গলবার বিকেলে নোয়ান্নই ইউনিয়নের ইসলামগঞ্জ বাজার এলাকার এক ব্যক্তি হোসেনকে ফোন করে টাকা চুরির ঘটনায় জড়িত সন্দেহে কবিরকে আটকের কথা জানান। খবর পেয়ে হোসেন তার লোকজন নিয়ে সেখানে যান। এ সময় কয়েকজন কবিরকে মারধর করেন। এতে তিনি গুরুতর আহত হন।
কবিরের মায়ের অভিযোগ, ইসলামগঞ্জ বাজারে ছেলেকে বেঁধে রেখে নির্যাতন চালানোর খবর পেয়ে তিনি ঘটনাস্থলে ছুটে গেলে তাকেও শারীরিকভাবে লাঞ্চিত করা হয়। অনেক আকুতি জানিয়েও ছেলেকে হামলাকারীদের হাত থেকে রক্ষা করতে পারনেনি তিনি।
এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ৮ মিনিট ১৭ সেকেন্ডের একটি ভিডিওতে দেখা যায়, কবিরকে আহত অবস্থায় একটি খুঁটির সঙ্গে বেঁধে রাখা হয়েছে। এ সময় তাঁকে টাকা চুরির বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করতেও দেখা যায়।
ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের সবাইকে আইনের আওতায় এন দৃষ্টান্তমূল শান্তির দাবি জানিয়েছেন নিহতের স্বজন ও এলাকাবাসী।
বিষয়টি নিশ্চিত করে সুধারাম মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আলাউদ্দিন বলেন, ‘নিহত যুবক একজন প্রতিবন্ধী ছিলেন। তিনি এলাকায় ঘুরে বেড়াতেন। তাঁকে চোর সন্দেহে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে বলে আমরা প্রাথমিকভাবে জানতে পেরেছি। চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বাকি আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।’
