গঙ্গা চুক্তির ধারাবাহিকতা বজায় থাকবে, নাকি চুক্তি নবায়ন করা হবে, সে বিষয়ে এখনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। তবে এ-সংক্রান্ত কার্যক্রম চলমান রয়েছে বলে জানিয়েছে পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটি। তবে ২০২৭ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে পদ্মা ব্যারাজ প্রকল্পের উদ্বোধন করা সম্ভব হবে বলে আশা প্রকাশ করেছে তারা। গতকাল বুধবার জাতীয় সংসদে অনুষ্ঠিত পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটির বৈঠক শেষে এসব তথ্য জানানো হয়েছে। বৈঠকে গঙ্গার পানিবণ্টন চুক্তি, তিস্তা ব্যারাজ প্রকল্প ও পদ্মা ব্যারাজ প্রকল্প নিয়ে আলোচনা হয়।
বৈঠকে বলা হয়, ভারতের সঙ্গে এখন বাংলাদেশের সম্পর্ক খুব একটা উষ্ণ নয়। তারপরও গঙ্গার পানিবণ্টন চুক্তি নিয়ে কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। তিস্তা পরিকল্পনা নিয়ে নেদারল্যান্ডস ও চীন সহায়তা দিতে চাইছে। পদ্মা ব্যারাজ প্রকল্প দুই ফেজে হবে। প্রথম ফেজের মেয়াদ সাত বছর। এটি বাস্তবায়ন হলে রাজশাহী অঞ্চলের পানিসংকটের সমাধান হবে। দ্বিতীয় ফেজের সময়সীমা এখনও চূড়ান্ত হয়নি। দ্বিতীয় ফেজের পদ্মা ব্যারাজ প্রকল্প বাস্তবায়ন হলে খুলনা অঞ্চলের সমস্যার সমাধান হবে।
বৈঠকে গঙ্গা চুক্তির সঙ্গে বাংলাদেশের জাতীয় স্বার্থ জড়িত থাকার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। চুক্তির
ধারাবাহিকতা ও নবায়নের বিষয়ে এখনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না হলেও এ-সংক্রান্ত কার্যক্রম চলমান রয়েছে। এ ছাড়া পদ্মা ব্যারাজ প্রকল্পের অংশ হিসেবে ২৫ অক্টোবর পাবনার সুজানগরে কমিটির পরিদর্শন কার্যক্রম নিয়ে আলোচনা হয়। ২০২৭ সালের ফেব্রুয়ারিতে প্রকল্পটির উদ্বোধন করা সম্ভব হবে বলে মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
বৈঠকের শুরুতে প্রথম বৈঠকের কার্যবিবরণী সংশোধনীসাপেক্ষে নিশ্চিত করা হয়। পরে প্রথম বৈঠকে গৃহীত জামালপুর জেলার ব্রহ্মপুত্র ও জিঞ্জিরাম নদীর ভাঙন প্রতিরোধ এবং জেলার মধ্য দিয়ে প্রবাহিত যমুনা নদীর বাঁ দিকের তীর, পুরনো ব্রহ্মপুত্র নদ ও আলাই নদীর তীর প্রতিরক্ষা কাজের প্রকল্প দুটির বাস্তবায়ন অগ্রগতি নিয়ে আলোচনা হয়। এ ছাড়া রাজশাহী ও নাটোর জেলার বারনই নদী পুনঃখনন, দূষণমুক্ত ও দখলমুক্তকরণ প্রকল্পের অগ্রগতি পর্যালোচনা করা হয়। কক্সবাজার জেলার উখিয়া ও টেকনাফ উপজেলায় বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্তের নিরাপত্তা উন্নত করতে নাফ নদী বরাবর পোল্ডারগুলো (৬৭/এ, ৬৭, ৬৭/বি ও ৬৮) পুনর্বাসন প্রকল্পের দ্বিতীয় সংশোধিত কার্যক্রমের প্রতিবেদন উপস্থাপন করা হয়। একই সঙ্গে গঙ্গা-কপোতাক্ষ সেচ প্রকল্পের জরুরি রক্ষণাবেক্ষণ ও পুনর্বাসন কার্যক্রমের প্রতিবেদনও উপস্থাপন করা হয়। বৈঠকে এসব প্রকল্পের বাস্তবায়ন অগ্রগতি বিস্তারিতভাবে পর্যালোচনা করা হয়।
কমিটির সভাপতি মোহাম্মদ শফিকুল হক মিলনের সভাপতিত্বে বৈঠকে আরও অংশ নেন কমিটির সদস্য ও পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদউদ্দিন চৌধুরী এ্যানি, প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ, এ ই সুলতান মাহমুদ বাবু, মাজহারুল ইসলাম, ফরিদুল কবীর তালুকদার, ইজ্জত উল্লাহ, অলি উল্লাহ এবং মশিউর রহমান খান।
এদিকে জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণির ১৬টি শূন্যপদে দ্রুত নিয়োগের জন্য সরকারি কর্মকমিশনের (পিএসসি) চেয়ারম্যানের কাছে চিঠি পাঠানোর সুপারিশ করেছে এ-সংক্রান্ত কমিটি। একই সঙ্গে তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির শূন্যপদে নিয়োগের জন্য আগামী নভেম্বরের প্রথম সপ্তাহের মধ্যে দৈনিক পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের সিদ্ধান্ত হয়েছে। গতকাল বুধবার জাতীয় সংসদ ভবনে সংসদ সচিবালয়ের জনবল সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে গঠিত কমিটির প্রথম সভায় এসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এ দিন ২০২৫ সালের ১৬ সেপ্টেম্বর অন্তর্বর্তী সরকারের গঠিত এ-সংক্রান্ত কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণা করা হয়। সভায় সংসদ সচিবালয়ের শূন্যপদ পূরণ, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কর্মদক্ষতা মূল্যায়ন এবং কর্মদক্ষতা বাড়াতে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। সভায় সংসদ সচিবালয়ের সরাসরি নিয়োগযোগ্য শূন্যপদের মধ্যে প্রথম শ্রেণির ১৫টি ও দ্বিতীয় শ্রেণির একটি পদে দ্রুত নিয়োগ সম্পন্ন করতে পিএসসির চেয়ারম্যানের কাছে চিঠি পাঠানোর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করা হয়। এ ছাড়া আদালতের রায়ের পরিপ্রেক্ষিতে ৮৬ জনের নিয়োগ-সংক্রান্ত বিষয়েও আলোচনা হয়। আদালতের রায়ের পরিপ্রেক্ষিতে সংশ্লিষ্ট পদগুলো সংরক্ষিত রেখে নিয়োগ কার্যক্রম সম্পন্ন করার সুপারিশ করে কমিটি। বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির শূন্যপদে সরাসরি নিয়োগের জন্য ২০২৬ সালের নভেম্বরের প্রথম সপ্তাহের মধ্যে দৈনিক পত্রিকায় নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হবে সভায় সিদ্ধান্ত হয়েছে।
কমিটির সভাপতি ও ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামালের সভাপতিত্বে বৈঠকে আরও অংশগ্রহণ করেন কমিটির সদস্য হুইপ এম রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু, কাজী রফিকুল ইসলাম, সেলিম রেজা, মাহবুবুল আলম ও শাম্মী আক্তার। কমিটির সভাপতির বিশেষ আমন্ত্রণে হুইপ এ বি এম আশরাফ উদ্দিন (নিজান) সভায় অংশ নেন। এ সময় সংসদ সচিবালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
