সরকারের জনকল্যাণমুখী উন্নয়ন পরিকল্পনা ও রূপকল্প সফলভাবে বাস্তবায়নে প্রশাসন ও রাজনৈতিক নেতৃত্বকে ভেদাভেদ ভুলে সততা, নিষ্ঠা ও আন্তরিকতার সঙ্গে একযোগে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী মো. শরীফুল আলম।
তিনি বলেন, সরকারের উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের সুফল জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে মাঠ প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। জনপ্রতিনিধি, সরকারি কর্মকর্তা ও স্থানীয় পর্যায়ের সংশ্লিষ্ট সবাই সমন্বিতভাবে কাজ করলে কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন আরও দ্রুত বাস্তবায়ন করা সম্ভব।
মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচর উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে গ্রামীণ সড়কের নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ কাজে নিয়োজিত এলসিএস (LCS) শ্রমিকদের মাঝে চেক বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
২০২৫-২৬ অর্থবছরে কিশোরগঞ্জ জেলার পরিচালন বাজেটের আওতায় গ্রামীণ সড়কের নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ (Off Pavement) প্রকল্পে নিয়োজিত শ্রমিকদের মাঝে এসব চেক বিতরণ করা হয়।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাফফাত আরা সাঈদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন এলজিইডি কিশোরগঞ্জের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. রফিকুল ইসলাম।
প্রতিমন্ত্রী শরীফুল আলম বলেন, সরকারের উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড ও নীতি বাস্তবায়নের মূল চালিকাশক্তি হলো মাঠ প্রশাসন। সরকারের অর্জন ও সফলতা জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে হলে প্রশাসনের প্রতিটি স্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীকে সর্বোচ্চ সততা, নিষ্ঠা ও আন্তরিকতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করতে হবে।
তিনি বলেন, একটি ভঙ্গুর অর্থনৈতিক অবস্থা থেকে বর্তমান সরকার দেশ পরিচালনার দায়িত্ব নিয়ে জনকল্যাণে বিভিন্ন যুগান্তকারী পদক্ষেপ ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। এসব পরিকল্পনা মাঠপর্যায়ে বাস্তবায়নে রাজনৈতিক নেতৃত্ব, স্থানীয় প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে।
জনপ্রতিনিধি ও সরকারি কর্মকর্তারা যার যার অবস্থান থেকে জনবান্ধব মনোভাব নিয়ে দায়িত্ব পালন করলে কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন ত্বরান্বিত হবে, বলেন তিনি।
এর আগে সকাল থেকে কুলিয়ারচরের বিভিন্ন এলাকায় দিনব্যাপী কর্মসূচিতে অংশ নেন প্রতিমন্ত্রী। সকাল ১০টায় ফরিদপুর বাংলাবাজার উচ্চ বিদ্যালয়ের একাডেমিক ভবনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন তিনি। এরপর বেলা ১১টায় ছয়সূতীতে জনতা আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ের একাডেমিক ভবনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন তিনি।
এরপর কুলিয়ারচর কালী নদীতে দেশীয় প্রজাতির মাছের পোনা অবমুক্ত করার কর্মসূচিতে অংশ নেন প্রতিমন্ত্রী। পরে উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে এলসিএস শ্রমিকদের মাঝে চেক বিতরণ অনুষ্ঠানে যোগ দেন।
অনুষ্ঠানে কুলিয়ারচর উপজেলার বিভিন্ন এলাকার চেকপ্রাপ্ত এলসিএস শ্রমিক, স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা ও গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। পরে শ্রমিকদের হাতে আনুষ্ঠানিকভাবে চেকের অর্থ তুলে দেওয়া হয়।
প্রতিমন্ত্রীর সফরসূচি অনুযায়ী, বিকেল ৪টায় সালুয়া এমাদ উদ্দিন উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে অনুষ্ঠিত ডুমরাকান্দা ফ্রিজ কাপ ফুটবল টুর্নামেন্টের ফাইনাল খেলায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে। এরপর সন্ধ্যা সাড়ে ৬টা থেকে ৯টা পর্যন্ত কুলিয়ারচর উপজেলার বিভিন্ন পূজামণ্ডপ পরিদর্শন করে শারদীয় দুর্গাপূজার শুভেচ্ছা বিনিময়ের কর্মসূচিও রয়েছে তাঁর।
