পিরোজপুর প্রতিনিধি: ধর্ম যার যার, উৎসব সবার এই চেতনাকে ধারণ করে বাংলাদেশে সব ধর্মের মানুষের সমান অধিকার ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকার অঙ্গীকারবদ্ধ। হিন্দু সম্প্রদায়ের সর্ববৃহৎ ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা নির্বিঘ্নে, আনন্দমুখর পরিবেশে ও ধর্মীয় মর্যাদায় উদযাপনের লক্ষ্যে সব ধরনের সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছেন গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী এবং পিরোজপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য আহমেদ সোহেল মনজুর সুমন।
২০ অক্টোবর পিরোজপুরের ভান্ডারিয়া, কাউখালী ও নেছারাবাদ উপজেলার বিভিন্ন দুর্গাপূজা মণ্ডপ পরিদর্শনকালে তিনি এসব কথা বলেন।
এ সময় তিনি পূজামণ্ডপগুলোর জন্য বিশেষ আর্থিক অনুদান প্রদান করেন এবং প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষের মধ্যে বস্ত্র বিতরণ করেন।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, “বাংলাদেশ আমাদের সবার দেশ। এখানে হিন্দু, মুসলমান, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান—সব ধর্মের মানুষের সমান নাগরিক অধিকার রয়েছে। প্রত্যেকে স্বাধীনভাবে নিজ নিজ ধর্ম পালন করবেন, ধর্মীয় উৎসব উদযাপন করবেন—এটাই আমাদের প্রত্যাশা। কারও ধর্মীয় স্বাধীনতা, নিরাপত্তা কিংবা অধিকার ক্ষুণ্ন হোক, তা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া হবে না।”
তিনি আরও বলেন, “অতীতের যেকোনো সময়ের তুলনায় আরও বেশি আনন্দ, উৎসাহ ও উৎসবমুখর পরিবেশে হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষ দুর্গাপূজা উদযাপন করছেন—এটি আমাদের সবার জন্য আনন্দের বিষয়। একটি অসাম্প্রদায়িক, শান্তিপূর্ণ ও সম্প্রীতিপূর্ণ বাংলাদেশ গড়তে সব ধর্মের মানুষের পারস্পরিক শ্রদ্ধা, ভালোবাসা ও সহাবস্থান নিশ্চিত করা জরুরি।”
দুর্গাপূজার নিরাপত্তার বিষয়ে কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, “পূজার শেষ পর্যন্ত আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে সতর্ক ও সক্রিয় থাকতে হবে। কোথাও কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা, উসকানি, হামলা কিংবা ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাতের ঘটনা ঘটলে তা গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অপরাধী যে-ই হোক, তাকে আইনের আওতায় আনা হবে।”
বিএনপির পক্ষ থেকে সহযোগিতার আশ্বাস দিয়ে তিনি বলেন, “প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী দুর্গাপূজার নিরাপত্তা ও সুষ্ঠু পরিবেশ বজায় রাখতে আমরা সর্বাত্মক সহযোগিতা করব। পূজামণ্ডপের নিরাপত্তা, প্রয়োজনীয় সহায়তা এবং ধর্মীয় অনুষ্ঠান নির্বিঘ্নে সম্পন্ন করার জন্য সংশ্লিষ্ট সবার সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করা হবে। কোনো ধর্মীয় সম্প্রদায় যেন নিজেদের অধিকার ও নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বিগ্ন না থাকে, সেটি নিশ্চিত করা আমাদের দায়িত্ব।”
প্রতিমন্ত্রী বলেন, “আমরা এমন একটি বাংলাদেশ চাই, যেখানে ধর্মের পরিচয়ে কেউ বৈষম্যের শিকার হবেন না; কেউ সংখ্যালঘু কিংবা সংখ্যাগরিষ্ঠ পরিচয়ের কারণে বঞ্চিত হবেন না। রাষ্ট্রের কাছে প্রত্যেক নাগরিকের মর্যাদা সমান। ধর্মীয় পরিচয় নয়, একজন মানুষ হিসেবে প্রত্যেকের অধিকার ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্টের যেকোনো অপচেষ্টা ঐক্যবদ্ধভাবে প্রতিহত করতে হবে।”
তিনি আরও বলেন, “দুর্গাপূজা শুধু একটি ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতা নয়, এটি আমাদের সামাজিক সম্প্রীতি, মানবিকতা ও পারস্পরিক সৌহার্দ্য প্রকাশেরও একটি উপলক্ষ। একে অপরের ধর্মীয় অনুভূতির প্রতি সম্মান দেখিয়ে সবাই মিলে উৎসব উদযাপন করলে আমাদের জাতীয় ঐক্য আরও সুদৃঢ় হবে। আমরা চাই, বাংলাদেশের প্রতিটি ধর্মের মানুষ নিরাপদে বাঁচবেন, সম্মানের সঙ্গে চলবেন এবং স্বাধীনভাবে নিজ নিজ ধর্ম পালন করবেন।”
ভান্ডারিয়া, কাউখালী ও নেছারাবাদ উপজেলার পূজামণ্ডপ পরিদর্শন, আর্থিক অনুদান প্রদান এবং বস্ত্র বিতরণের মধ্য দিয়ে প্রতিমন্ত্রী ধর্মীয় সম্প্রীতি, সামাজিক সংহতি ও সব সম্প্রদায়ের মানুষের পাশে থাকার বার্তা দেন।
সংশ্লিষ্টদের মতে, ধর্মীয় স্বাধীনতা, নাগরিক অধিকার, নিরাপত্তা ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নিশ্চিত করার আহ্বান দুর্গাপূজাকে কেন্দ্র করে সব সম্প্রদায়ের মানুষের মধ্যে পারস্পরিক আস্থা ও সৌহার্দ্য জোরদারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
