

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি রহস্যময় পোস্ট করেছেন।
আজ সোমবার (১২ অক্টোবর) সন্ধ্যায় নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডিতে এই পোস্ট দেন তিনি। ফেসবুক পোস্টে জামায়াত আমির লেখেন, ‘চোরের মন পুলিশ-পুলিশ। সাধু সাবধান।’
এই পোস্টের পেছনে ঠিক কী কারণ রয়েছে কিংবা কার বা কাদের উদ্দেশে এ বার্তা দিয়েছেন, সে বিষয়ে বিস্তারিত কিছু উল্লেখ করেননি জামায়াত আমির। ফলে রাজনৈতিক অঙ্গনসহ নেটিজেনদের মাঝে তৈরি হয়েছে নানা রহস্য, কৌতূহল ও জল্পনা-কল্পনা।
আগামীতে দুটো দল দেখি, এক জামায়াত, ২ আওয়ামী লীগ: রুমিন ফারহানা
ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা বলেছেন, বাংলাদেশের মানুষের মনোজাগতিক যে পরিবর্তন এসেছে তাতে আগামীতে দুটি দল দেখছি— একটা জামায়াত, আরেকটা আওয়ামী লীগ। এটার বাখ্যা ও যৌক্তিকতাও তুলে ধরেন তিনি। সম্প্রতি একটি বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলের টকশোতে অংশ নিয়ে রুমিন ফারহানা এমন বাখ্যা ও যৌক্তিকতা তুলে ধরেন স্বতন্ত্র এই সংসদ সদস্য। রুমিন ফারহানা বলেন, আপনি যদি আমাকে লং রানে দেখতে বলেন, আমি জানি বিএনপির ভাইরা দুঃখ ও কষ্ট পাবেন। কিন্তু বাংলাদেশের মানুষের মনোজাগতিক যে পরিবর্তন এসেছে। তাতে আমি আগামীতে দুটি দল দেখি—একটা জামায়াত, আরেকটা আওয়ামী লীগ। আমি যে কথাটা বলছি আমি রিকোয়েস্ট করবো আমার দর্শককে যে কথাটা আপনারা ভাববেন। তিনি বলেন, কথাটা আপনারা এমনভাবে নেবেন না যে, বিএনপি মানে খুব ইজি কোশ্চেন। ও বিএনপি মনোনয়ন দেয় নাই। রুমিন বিএনপিকে পছন্দ করে না। এজন্য বিএনপি রুমিন বলছে। না, আমি বাংলাদেশের মাটিতে রাজনীতি করি এবং করব। রাজনীতিবিদ হওয়াটাই আমার লক্ষ্য, এমপি ও মন্ত্রী না। সুতরাং আমি এটা নিয়ে এটা এটা আমার ২৪ ঘণ্টার চর্চা। তাই সেই জায়গা থেকে আপনি যদি ফিউচার ফোর্সি করতে বলেন, এগেইন আমি বলব ফিউচার একমাত্র আল্লাহর হাতে। কিন্তু তারপর আপনি যদি আমাকে ফোর্সি করতে বলেন যে আমি কি দেখি আমার ক্যালকুলেশন ইকুয়েশন কি বলে? তিনি আরও বলেন, একদিকে যাবে লেফট ফোর্সটা। সেন্টার লেফট টু লেফট। আওয়ামী লীগ এবং বাম দল। তারা একটা শক্তি হিসেবে দাঁড়াবে। আরেকদিকে থাকবে জামায়াত এবং অন্যান্য যে রাইট উইং পার্টিগুলো তারা। হেফাজত কিন্তু আরেকটা বড় শক্তি তৈরি করছে। আপনি নিশ্চয়ই লক্ষ্য করেছেন। সেখানে সাতটা দল আছে এবং তারা বলছে যে তারা এখন একটা একক ফোর্স হিসেবে বাংলাদেশের মাটিতে তারা তাদের উত্থান চায়। সুতরাং অদুর ভবিষ্যতে যদি এই হেফাজতের সাথে ইসলামিক ঐক্যের ভিত্তিতে জামায়াতের কোনোরকম কোনো নেগোসিয়েশন হয় যেটা আজকে হয়তো অসম্ভব বলে মনে হচ্ছে। ‘‘যেটা একেবারে অসম্ভব মনে হচ্ছে। কারণ ওরা বলছে এদের ইসলাম ঠিক না এরা বলছে ওদের ইসলাম ঠিক না। হ্যাঁ তারপরেও যদি রাজনৈতিক ঐক্য হয় আপনি বলেন তাহলে বিএনপির পায়ের নিচের ভিতটা কোথায় যাবে। কারণ এরা তো আওয়ামী লীগের ভোট না। আওয়ামী লীগের যেটা ভোট ওটা আলাদা। ওটা আওয়ামী লীগের ভোট ব্যাংক না। এরা কিন্তু বিএনপির ভোট ব্যাংক। তাহলে এই হেফাজতের সাতটা, কাওমি মাদ্রাসা, প্লাস যদি জামায়াতে ইসলাম রাজনৈতিক ঐক্যে যায়, ধর্মীয় ঐক্য না। ধর্মের ঐক্যে তাদের আকাশ পাতাল পাথক্য। রাজনৈতিক ঐক্যে যায় ভবিষ্যতে থাকিয়ে দেখেন বিএনপি স্লিম হয়ে যাবে। বিএনপির একটা গুড চাঙ্ক অফ ভোট রাইট ফোর্সের কাছে চলে যাবে। আমরা জামায়াত বা হেফাজত না বলি রাইট ফোর্সের কাছে চলে যাবে। তাই আগামী দিনের রাজনীতি এইভাবে দুই ভাগে বিভক্ত।’’ জামায়াত ক্ষমতায় আসতে পারবে কিনা, এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, জামায়াতের জন্য কঠিন হবে। তবে পারবে না এটা আমি মনে করি না। ঠিক যেই কারণে আপনি বিজেপিরটা বললেন জামায়াতের ব্যাপারে আমার একই কথা একই হিসাব মাথায় আসে। ওরা খুবই অর্গানাইজড। দলীয় শৃঙ্খলা চমৎকার। আমি যতদূর বাইরে থেকে জানি। আমি তো আর ভেতরে জানি না। ওনাদের দলের ভেতরে যেই ভোটাভোটি হয় সেটার ভিত্তিতেই পদ নির্ধারিত হয়। এমপি ইলেকশন কে করবে না করবে সেটা নির্ধারিত হয় এবং নমিনেশনের সময় টাকা পয়সার লেনদেনের অভিযোগ শোনা যায় না। ‘‘রাদার ভোটে নাম এসছে এলাকায় জরিপ কার নাম বলছে তার উপর এই সিদ্ধান্তগুলো হয় এবং খুব গুরুত্বপূর্ণ। জামায়াতের একেবারে একেবারে রুটে যে কাজ করে রুট লেভেলে যে আছে তারও যেমন মাসের ইনকামের একটা ছোট্ট অংশ জামায়াতকে দিতে হয় একেবারে টপে আমিরের যিনি আছেন আমিরে জামায়াত উনিও কিন্তু তার আয়ের একটা ক্ষুদ্র অংশ দলে ডোনেট করেন। সেই সঙ্গে তো তাদের ইন্টারন্যাশনাল বেক আপ আছেই। এর ফলে যেটা হয় একজন কর্মী যদি জেলে যান বা তার পরিবার যদি দুর্দশায় পড়ে বা দলীয় কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হন তখন কিন্তু দল হিসেবে জামায়াত তার পাশে গিয়ে শক্তভাবে দাঁড়ায়।’’ রুমিন ফারহানা বলেন, এই সকল কিছু কিন্তু তৃণমূলে দলটির একটি শক্ত ভিত্তি ধীরে ধীরে তৈরি করছে। দুই হচ্ছে একটা দরিদ্র পরিবারের মেধাবী ছেলে জামায়াত পিক করে। তাকে বিদেশে পড়াশোনা করায়। আমি নাম বলতে পারি কিন্তু আমি বলবো না। কারণ আমাদেরই পরিচিত লোকজন আমি কাউকে টেলিভিশনে আমি হেনস্তা করতে আসিনি। আমি বরং এই ডিসিশনটাকে সম্মান করি। ছেলেটা হয়তো মেধাবী সে পড়তে পারতো না বিদেশে। সে ব্যারিস্টার হইতে পারতো না। কিন্তু জামায়াত তাকে ব্যারিস্টার করে নিয়ে আসে। এই যে ছেলেটার একটা ইন্টিগ্রিটি একটা কৃতজ্ঞতা তৈরি হয় দলটার প্রতি। তখন ছেলেটা কি করে? ছেলেটা জামায়াতের নেতাকর্মীদের মামলা ফ্রি করে বা কম ফিতে করে। ‘‘জামায়াতের একটা ছেলে যখন বিবিএ-এমবিএ কমপ্লিট করে জামায়াতের একটা ব্যাংকে তার জব হয়। এমবিবিএস কমপ্লিট করে জামায়াতের একটা হাসপাতালে তার জব হয়। এটা একটা ইকোসিস্টেমট। অরগানাইজ ম্যানার সেটা কাজ হয়। সে কারণেই আমি খুব অবাক হব না যদি না আওয়ামীলীগ-বিএনপি তাদের যার যার অবস্থান সংশোধন করে।’’

জামায়াত আয়াসের পক্ষে, এনসিপিরও মন কাঁদছে: রাশেদ খান
বাংলাদেশ না চাওয়া জামায়াতে ইসলামী প্রতিবাদ করছে যে, কবি গুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় চায় নি! এনসিপিরও মন কাঁদছে, কিন্তু আয়াসের পাশে দাঁড়াতে পারছেনা। তবে জামায়াত সরাসরি আয়াসের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। আসলে কে এই আয়াস, তাকে চালায় কে? ময়মনসিংহের উজ্জ্বল ওরফে আয়াসকে ঘিরে নতুন বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। তাঁর পেছনে জামায়াতে ইসলামীর আমিরের উপদেষ্টা ব্যারিস্টার শাহরিয়ার কবির রয়েছেন বলে দাবি করেছেন এক ব্যক্তি। একই সঙ্গে আয়াসের বিরুদ্ধে প্রতারণার অভিযোগ এবং তাঁর হোয়াটসঅ্যাপের তথ্য মুছে ফেলার নির্দেশ দেওয়ার বিষয়টিও সামনে এনেছেন তিনি। সোমবার (১২ অক্টোবর) রাতে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে এসব দাবি করেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খান। পোস্টে তিনি দাবি করেন, ময়মনসিংহের উজ্জ্বল ঢাকায় এসে নিজের নাম, চুলের ধরন ও চেহারায় কিছুটা পরিবর্তন এনে ‘জুলাই যোদ্ধা’ আয়াস হিসেবে পরিচিতি পেয়েছেন। তাঁর বিরুদ্ধে আগে প্রতারণার মামলা ছিল এবং সে মামলায় তিনি কারাভোগও করেছেন বলে পোস্টে উল্লেখ করা হয়। মামলাটি এখনো বিচারাধীন বলেও দাবি করেন তিনি। ফেসবুক পোস্টে আরও বলা হয়, সোমবার প্রিজন ভ্যান থেকে আয়াস তাঁর হোয়াটসঅ্যাপে লগইন করে সব তথ্য মুছে ফেলার কথা বলেছেন। তাঁর হোয়াটসঅ্যাপে কী তথ্য রয়েছে, তা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন পোস্টদাতা। ওই ব্যক্তি দাবি করেন, কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের গ্রাফিতিতে কালিমা লেপনের জন্য চুন কেনার অর্থ দিয়েছিলেন জামায়াতের আমিরের উপদেষ্টা ব্যারিস্টার শাহরিয়ার কবির। এ ছাড়া জুলাইয়ের নামে গড়ে ওঠা বিভিন্ন বিতর্কিত সংগঠন ও কর্মকাণ্ডকে অর্থ ও পরামর্শ দিয়ে পৃষ্ঠপোষকতা করার অভিযোগও তাঁর বিরুদ্ধে তোলেন পোস্টদাতা। পোস্টে আরও বলা হয়, ব্যারিস্টার শাহরিয়ার কবিরকে রক্ষা করতেই আয়াস তাঁর হোয়াটসঅ্যাপের তথ্য মুছে ফেলার কথা বলেছেন বলে পোস্টদাতার ধারণা। একই পোস্টে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে ঘিরে জামায়াতে ইসলামীর অবস্থান এবং এ বিষয়ে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) ভূমিকা নিয়েও মন্তব্য করা হয়। তবে ফেসবুক পোস্টে উত্থাপিত অভিযোগগুলোর বিষয়ে স্বাধীনভাবে যাচাই করা তথ্য পাওয়া যায়নি। ব্যারিস্টার শাহরিয়ার কবিরের বক্তব্য কিংবা অভিযুক্ত আয়াসের বক্তব্যও এ প্রতিবেদনে পাওয়া যায়নি। অভিযোগগুলোর সত্যতা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট পক্ষের বক্তব্য ও মামলার নথি যাচাই করা প্রয়োজন।

‘হে কাবার মালিক! মক্কা-মদিনাকে হেফাজত করো’
মধ্যপ্রাচ্যের মুসলিম অধ্যুষিত রাষ্ট্র সৌদি আরবের পবিত্র ভূমিতে হামলা এবং সেখানে থাকা নিরপরাধ ওমরাহযাত্রীদের নিরাপত্তা বিঘ্নিত হওয়ার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন জনপ্রিয় ইসলামি বক্তা মাওলানা মিজানুর রহমান আজহারী। তিনি বলেন, ‘হে কাবার মালিক! মক্কা-মদিনাকে হেফাজত করো।’ রোববার (১১ অক্টোবর) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজ থেকে দেওয়া এক বার্তায় তিনি এ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন। পাঠকদের জন্য মিজানুর রহমান আজহারীর ফেসবুক পোস্টটি হুবহু তুলে ধরা হলো- মক্কা ও মদিনা স্রেফ ভৌগলিক কোনো স্থান নয়— এই দুই নগরী সমগ্র মুসলিম উম্মাহর হৃদয়ের স্পন্দন। পবিত্র এই ভূমিতে হামলা এবং নিরপরাধ উমরাহযাত্রীদের নিরাপত্তা বিঘ্নিত হওয়ার ঘটনা গভীর উদ্বেগজনক ও বেদনাদায়ক। নিশ্চয়, আল্লাহর কাছে যে ভূমি বিশেষ মর্যাদাপ্রাপ্ত, তার পবিত্রতা ও সম্মান ক্ষুণ্ন করার পরিণতি ভয়াবহ। হে কাবার মালিক! মক্কা-মদিনাকে সব ধরনের অনিষ্ট থেকে হেফাজত করো।

শপথের পর এক টাকাও দুর্নীতি করিনি: আমির হামজা
শপথ নেওয়ার পর গত সাড়ে ছয় মাসে সরকারি কোনো অর্থ আত্মসাৎ বা দুর্নীতি করেননি বলে দাবি করেছেন কুষ্টিয়া-৩ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য আমির হামজা। একই সময়ে দায়িত্ব পালন করা অন্য সংসদ সদস্যদেরও দুর্নীতিমুক্ত থাকার নিশ্চয়তা দেওয়ার চ্যালেঞ্জ জানিয়েছেন তিনি। সম্প্রতি এক বক্তব্যে আমির হামজা বলেন, ১৭ ফেব্রুয়ারি শপথ নেওয়ার পর থেকে আমি নিজের বিবেক ও সজ্ঞানে বলছি, এই সাড়ে ছয় মাসে এক টাকারও সরকারি দুর্নীতি আমার দ্বারা হয়নি। আমার পাশে যারা বসে আছেন, তারাও একই নিশ্চয়তা দেবেন। তিনি বলেন, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর ৬৮ জন সংসদ সদস্যের পক্ষ থেকেও একই ধরনের বক্তব্য আসবে। বাকি ২১২ জন সংসদ সদস্য দুর্নীতি করেননি—এমন নিশ্চয়তা দিতে পারলে তারা রাজনীতি ছেড়ে দেবেন বলেও মন্তব্য করেন তিনি। দেশের চিনি উৎপাদন ও আমদানিনির্ভরতা নিয়েও কথা বলেন এই সংসদ সদস্য। তার দাবি, দেশে বছরে প্রায় ২০ লাখ মেট্রিক টন চিনির চাহিদা রয়েছে। অথচ রাষ্ট্রায়ত্ত চিনিকলগুলোতে উৎপাদন কম হওয়ায় বিপুল পরিমাণ চিনি বিদেশ থেকে আমদানি করতে হয়। তিনি বলেন, দেশের বন্ধ চিনিকলগুলো চালু করা গেলে স্থানীয় উৎপাদন বাড়ানো সম্ভব। এতে বিদেশের ওপর নির্ভরতা কমার পাশাপাশি বাজারে সিন্ডিকেটের প্রভাবও নিয়ন্ত্রণে রাখা যাবে। আমির হামজা বলেন, আমরা চাই, নিজেদের সম্পদ কাজে লাগিয়ে চিনির উৎপাদন বাড়াতে। আমাদের মিলের অধীনে প্রায় ৭২০ বিঘা জমি পড়ে আছে। এত সম্পদ থাকার পরও বিদেশ থেকে চিনি আমদানি করতে হবে কেন? সরকারের সমালোচনা করে আমির হামজা বলেন, দেশে সার, বীজ, জ্বালানি ও বিদ্যুৎ নিয়ে মানুষের উদ্বেগ থাকলেও এসব সমস্যা সমাধানে সরকারের যথেষ্ট মনোযোগ দেখা যাচ্ছে না। বরং দলীয়করণের মাধ্যমে ক্ষমতায় টিকে থাকার চেষ্টা চলছে।

টিকে থাকতে আওয়ামী লীগ-ছাত্রলীগের অনেকে জামায়াতে যোগ দিচ্ছে: রাশেদ খান
রাজনৈতিক পরিচয় পরিবর্তন, অতীতের ছাত্ররাজনীতিতে সম্পৃক্ততা এবং চাকরির যাচাই-বাছাই নিয়ে সামাজিক ও রাজনৈতিক অঙ্গনে নানা আলোচনা চলছে। আওয়ামী লীগ ও নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের কিছু নেতাকর্মী নিজেদের পরিচয় আড়াল করে জামায়াতে ইসলামী বা ইসলামী ছাত্রশিবিরের সঙ্গে সম্পৃক্ততা দাবি করছেন-এমন অভিযোগও উঠেছে। তবে এসব অভিযোগের পক্ষে স্বাধীনভাবে যাচাই করা কোনো তথ্য এখানে পাওয়া যায়নি। রোববার (১১ অক্টোবর) সামাজিক মাধ্যমে এক পোস্টে এমন দাবি করেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খান এমন মন্তব্য করেন। একটি বক্তব্যে দাবি করা হয়েছে, ২০২৪ সালের জুলাইয়ের গণ-অভ্যুত্থানের আগে ছাত্ররাজনীতিতে সক্রিয় থাকা কিছু ব্যক্তি পরবর্তী সময়ে নিজেদের রাজনৈতিক পরিচয় পরিবর্তনের চেষ্টা করছেন। এ প্রসঙ্গে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) বর্তমান সহসভাপতি (ভিপি) সাদিক কায়েমের অতীত ছাত্ররাজনীতিতে ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলা হয়েছে। বক্তব্যটিতে বলা হয়, আবরার ফাহাদ হত্যার প্রতিবাদে যখন মিছিল করা হয়েছিল, তখন সাদিক কায়েম ছাত্রলীগের হয়ে প্রতিবাদকারীদের বিরুদ্ধে মিছিলে অংশ নিয়েছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে। একই বক্তব্যে দাবি করা হয়, আবরার ফাহাদকে শিবিরের তকমা দিয়ে হত্যা করা হলেও ওই কর্মসূচিতে একজন শিবির নেতার অংশগ্রহণ ছিল না। এ ছাড়া ২০২৪ সালের কোটা সংস্কার আন্দোলন ও শেখ হাসিনাবিরোধী আন্দোলনের প্রসঙ্গ তুলে ধরে বলা হয়, ওই আন্দোলনগুলো না হলে কিছু ব্যক্তি ছাত্রলীগের বড় পদে যাওয়ার চেষ্টা চালিয়ে যেতেন। বক্তব্যটিতে চাকরিপ্রার্থীদের পুলিশি যাচাই-বাছাই বা ভেরিফিকেশন নিয়েও প্রশ্ন তোলা হয়েছে। এতে দাবি করা হয়, কিছু ব্যক্তির বিরুদ্ধে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের সঙ্গে সম্পৃক্ততার তথ্য সামনে আসছে, যাঁরা নিজেদের শিবিরের লোক বলে পরিচয় দিচ্ছেন। ফলে প্রকৃত রাজনৈতিক পরিচয় নির্ধারণে প্রশাসনকে জটিলতার মুখে পড়তে হচ্ছে বলে বক্তব্যটিতে উল্লেখ করা হয়। এতে আরও অভিযোগ করা হয়, নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের কোনো নেতাকে গ্রেপ্তারের উদ্যোগ নেওয়া হলে তাঁর পক্ষে বিভিন্ন মহল থেকে তদবির করা হচ্ছে। তাঁদের কেউ কেউ অতীতে কৌশলগত কারণে ছাত্রলীগে যুক্ত হয়েছিলেন, প্রকৃতপক্ষে তারা শিবিরের সঙ্গে সম্পৃক্ত- এমন যুক্তিও তুলে ধরা হচ্ছে বলে দাবি করা হয়েছে। বক্তব্যের শেষাংশে বলা হয়, রাজনৈতিক পরিস্থিতির সঙ্গে খাপ খাইয়ে টিকে থাকার জন্য আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের কিছু নেতাকর্মী এখন জামায়াতে ইসলামীতে যোগ দিচ্ছেন-এমন কথাও শোনা যাচ্ছে। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য এবং রাজনৈতিক পরিচয় পরিবর্তনের দাবির পক্ষে নির্ভরযোগ্য প্রমাণ স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। তাই অভিযোগগুলোকে প্রতিষ্ঠিত সত্য হিসেবে বিবেচনা করার সুযোগ নেই।


