আজ মহানবমী। শারদীয় দুর্গোৎসবের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিন। দেবী দুর্গার আরাধনা, পূজা-অর্চনা, অঞ্জলি প্রদান এবং নানা ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতার মধ্য দিয়ে দিনটি উদযাপন করছেন সনাতন ধর্মাবলম্বীরা।
ঢাকের বাদ্য, শঙ্খধ্বনি, উলুধ্বনি আর ভক্তদের পদচারণায় মুখরিত হয়ে উঠেছে দুর্গামণ্ডপগুলো। উৎসবের আমেজে আনন্দে মেতেছেন শিশু-কিশোর, তরুণ-তরুণীসহ সব বয়সী মানুষ। মহানবমী দুর্গাপূজার একটি বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ দিন।
ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, এ দিন দেবী দুর্গার শক্তি, সাহস ও অশুভ শক্তির বিরুদ্ধে বিজয়ের মহিমা স্মরণ করা হয়। দেবীর কাছে ভক্তরা প্রার্থনা করেন পৃথিবী থেকে অশুভ শক্তির বিনাশ হোক, দূর হোক হিংসা-বিদ্বেষ, প্রতিষ্ঠিত হোক শান্তি, ন্যায় ও মানবিকতা।
নবমী উপলক্ষে সকাল থেকেই বিভিন্ন পূজামণ্ডপে শুরু হয় পূজা-অর্চনা। পুরোহিতের মন্ত্রোচ্চারণ, ভক্তদের অঞ্জলি প্রদান এবং ধর্মীয় সংগীতের মধ্য দিয়ে মণ্ডপগুলোতে সৃষ্টি হয় এক পবিত্র আবহ। অনেক স্থানে আয়োজন করা হয়েছে প্রসাদ বিতরণ, ধর্মীয় আলোচনা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের। প্রতিমার অপরূপ সাজসজ্জা, আলোকসজ্জা ও নান্দনিক মণ্ডপ দেখতে দর্শনার্থীদের ভিড়ও বাড়ছে।
দুর্গোৎসব কেবল ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; এটি বাঙালির ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ও সম্প্রীতিরও এক অনন্য প্রকাশ।
এ উৎসব উপলক্ষে আত্মীয়স্বজন ও বন্ধুবান্ধবের মিলন ঘটে। বিভিন্ন ধর্ম ও সম্প্রদায়ের মানুষের অংশগ্রহণে উৎসবের আনন্দ হয়ে ওঠে সর্বজনীন। পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সহমর্মিতা ও সৌহার্দ্যের বন্ধন আরও দৃঢ় হয়।
