নতুন ব্যাগ বা প্রিয় জ্যাকেটের জিপার টানতে গিয়ে প্রায়ই আমাদের চোখে পড়ে ‘ওয়াইকেকে (YKK) ’ লেখা তিনটি অক্ষর। আপাতদৃষ্টিতে একে সাধারণ কোনো নকশা মনে হলেও, এর পেছনে রয়েছে জাপানের একটি প্রায় শতবর্ষী প্রতিষ্ঠানের সুদীর্ঘ ইতিহাস এবং বিশ্বসেরা প্রযুক্তির এক অভাবনীয় গল্প।
‘ওয়াইকেকে কী এবং এর পূর্ণরূপ
'ওয়াইকেকে (YKK) ' কোনো সাধারণ শব্দ নয়, বরং এটি একটি জাপানি কোম্পানির নামের সংক্ষিপ্ত রূপ—Yoshida Kogyo Kabushikikaisha । ১৯৩৪ সালে জাপানে এই প্রতিষ্ঠানের যাত্রা শুরু হয়। শুরু থেকেই জিপার উৎপাদনে বিশ্বমানের গুণগত মান বজায় রাখাই ছিল তাদের মূল লক্ষ্য।
নিখুঁত মান ও নিজস্ব প্রযুক্তির নিয়ন্ত্রণ
অন্যান্য সাধারণ প্রতিষ্ঠানের মতো ‘ওয়াইকেকে’ কেবল বাইরে থেকে কলকব্জা কিনে জিপার তৈরি করত না। তারা জিপার তৈরির জন্য প্রয়োজনীয় ধাতু, প্লাস্টিক এবং এমনকি উৎপাদনের যন্ত্রও নিজেদের কারখানাতেই তৈরি করত। ১৯৩৯ সালে প্রথম একটি উন্নতমানের ধাতব ‘স্লাইডার’ উদ্ভাবন করে তারা। পরবর্তীতে ১৯৪৬ সালে ওয়াইকেকে নামটি ট্রেডমার্ক হিসেবে নিবন্ধিত হয় এবং ১৯৫৯ সালে ভারতেও কারখানা সম্প্রসারণের মাধ্যমে এটি বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে পড়ে।
পণ্য নয়, জিপারের আসল কারিগর
পোশাক বা ব্যাগের গায়ে ওয়াইকেকে লেখা থাকার অর্থ এই নয় যে পুরো ব্যাগ বা পোশাকটি তারা তৈরি করেছে। এটি মূলত নির্দেশ করে যে পণ্যটির জিপার বা ‘ফাস্টেনিং কম্পোনেন্ট’টি ওয়াইকেকে-এর তৈরি। একটি জিপারের মূল তিনটি অংশ—এলিমেন্টস (দাঁতের মতো অংশ), স্লাইডার (যেটি ধরে টানা হয়) এবং টেপ (পাশের কাপড়ের অংশ)—প্রতিটির স্থায়িত্ব ও কার্যক্ষমতা নিশ্চিতে নিজস্ব প্রযুক্তির প্রয়োগ করে কোম্পানিটি।
প্রায় ৭০ দেশে রাজত্ব
বর্তমানে বিশ্বের প্রায় ৭০টি দেশে সফলতার সঙ্গে ব্যবসা পরিচালনা করছে ওয়াইকেকে। নিখুঁত মান নিয়ন্ত্রণ ও নির্ভরযোগ্যতার কারণে সারা বিশ্বের খ্যাতনামা ব্র্যান্ডগুলো তাদের পণ্যে এই জাপানি জিপার ব্যবহার করে। তাই এরপর যখন ব্যাগে বা জ্যাকেটে ‘ওয়াইকেকে’ লেখা দেখবেন, বুঝবেন এটি কেবল তিনটি অক্ষর নয়, বরং জাপানি প্রযুক্তির শতবর্ষের এক আস্থার প্রতীক।
সংশ্লিষ্ট সংবাদ: জীবনধারা
১১ অক্টোবর ২০২৬
১১ অক্টোবর ২০২৬
০৭ অক্টোবর ২০২৬
