মাগুরা সদর উপজেলার বড়খড়ি-ছয়চার সড়ক নির্মাণকাজে চরম অনিয়ম ও নিম্নমানের উপকরণ ব্যবহারের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। নির্মাণ চলাকালেই সড়কের পিচ ও পাথরের আস্তরণ উঠে গিয়ে নিচের কাঁচা স্তর দৃশ্যমান হওয়ার দৃশ্য ফুটে উঠেছে। এ ঘটনায় নির্মাণকাজের মান ও প্রকল্প তদারকি নিয়ে চরম ক্ষোভ ও প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মাগুরা সদর উপজেলার বড়খড়ি-ছয়চার সড়কে প্রায় ১ হাজার ৩০০ মিটার দীর্ঘ অংশে পুনর্নির্মাণ ও সংস্কারকাজ চলছে। কাজের দায়িত্বপ্রাপ্ত মিস্ত্রি অন্তর হোসেনের ভাষ্য মতে, বাকেরুল নামের এক ব্যক্তি মূল ঠিকাদার হলেও নান্নু নামের অন্য এক ব্যক্তির কাছ থেকে সাব-কন্ট্রাক্টে (উপ-চুক্তিতে) তারা সড়কটির কাজ বাস্তবায়ন করছেন।
মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) বিকেলে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, নবনির্মিত সড়কের একাধিক অংশে পিচ ও পাথরের আস্তরণ ভেঙে আলগা হয়ে গেছে এবং নিচের স্তর উন্মুক্ত অবস্থায় পড়ে রয়েছে।
নিয়ম অনুযায়ী বিটুমিন প্রয়োগ, প্রয়োজনীয় রোলার কম্প্যাকশন এবং সঠিকমাত্রায় সামগ্রী ব্যবহার না করায় কাজ শেষ হতে না হতেই সড়কটি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বলে জানান প্রত্যক্ষদর্শীরা। এদিকে, অনিয়মের তথ্য ও চিত্র সংগ্রহ করতে গেলে পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে সংবাদকর্মীদের ওপর দুর্বৃত্তরা হামলার চেষ্টা চালায় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এতে স্থানীয় সচেতন মহল ও সাংবাদিকদের মধ্যে চরম নিরাপত্তার উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
নির্মাণকাজের বিষয়ে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) সংশ্লিষ্ট উপসহকারী প্রকৌশলী (এসও) মো. আব্দুস সাত্তার ১ হাজার ৩০০ মিটার সড়ক নির্মাণের কথা স্বীকার করলেও প্রকল্পের মোট চুক্তিমূল্য ও বিশদ বিবরণ দিতে পারেননি। প্রকল্পের প্রাক্কলিত ব্যয়, কার্যাদেশের শর্ত এবং নির্দিষ্ট মেয়াদ সম্পর্কে তথ্য গোপনের কারণে অনিয়মের মাত্রা আরও ঘনীভূত হচ্ছে।
অভিযোগের বিষয়ে এলজিইডি মাগুরার নির্বাহী প্রকৌশলী আ.ন.ম. ওয়াহিদুজ্জামান জানান, বড়খড়ি-ছয়চার সড়কের কাজে অনিয়মের লিখিত ও মৌখিক অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিষয়টি তদন্ত করে অনিয়মে জড়িতদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ও আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
জনগণের রাজস্বের অর্থে নির্মিত এই গুরুত্বপূর্ণ সড়কের স্থায়িত্ব নিশ্চিত করতে নিরপেক্ষ তদন্ত, মানসম্মত বিটুমিন প্রয়োগে পুনঃসংস্কার এবং সাংবাদিকদের নিরাপদ পেশাগত পরিবেশ নিশ্চিত করার জোর দাবি জানিয়েছেন এলাকবাসী।
জেএইচআর
