কালবেলা · রাজনীতি
পদত্যাগের নির্দেশের গুঞ্জনের মধ্যেই প্রতিমন্ত্রী ইশরাকের বার্তা
১৮/১০/২০২৬

অস্ত্র হাতে মাদকবিরোধী অভিযানে অংশ নিয়ে দেশজুড়ে আলোচনা-সমালোচনার মধ্যে পদত্যাগের নির্দেশ পাওয়ার গুঞ্জন উঠেছে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেনকে ঘিরে।
এমন গুঞ্জনের মধ্যেই পদত্যাগের খবরে ‘কান না দেওয়ার’ অনুরোধ জানিয়েছেন তিনি।
রোববার (১৮ অক্টোবর) রাতে কালবেলাকে প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন বলেন, ‘আমি দয়া করে সবাইকে অনুরোধ জানাচ্ছি যে, এই বিষয়টিকে আপনারা অবশ্যই গুজব হিসেবে ধরবেন। এর কোনো সত্যতা এখনো নেই। এরকম যদি কোনো সিদ্ধান্ত দল থেকে আমরা নিই, তাহলে সেটি কোনো উড়ো খবরের মাধ্যমে আসবে না।’
তিনি আরও বলেন, ‘অবশ্যই আমরা অফিশিয়ালি কোনো প্রেস কনফারেন্স,যেখানে আপনারা উপস্থিত থাকবেন, সেরকম অনুষ্ঠান করে করা হবে। তো যে বা যারা এই তথ্য দিয়েছে, তারা উড়ো খবরকে আপনাদের কাছে খবর হিসেবে প্রচার করছে। সবাইকে অনুরোধ জানাব, এই বিষয়ে আপনারা সতর্ক থাকবেন।’
এর আগে, অস্ত্র হাতে মাদকবিরোধী অভিযানে অংশ নেওয়ার ঘটনায় সমালোচনার মুখে পড়েন ইশরাক হোসেন। এর মধ্যেই রোববার বিকেলে সচিবালয়ে মন্ত্রিসভার বৈঠক শেষে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তাকে ডেকে পাঠান।
এসময় তাকে পদত্যাগের নির্দেশ দেন বলে সরকার-সংশ্লিষ্ট উচ্চপর্যায়ের একাধিক সূত্রের বরাতে জানা গেছে। তবে এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত এ বিষয়ে সরকারের দায়িত্বশীল কারও আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
উল্লেখ্য, শনিবার (১৭ অক্টোবর) বিকেলে রাজধানীর গেন্ডারিয়া রেলস্টেশন-সংলগ্ন দয়াগঞ্জ গুমটিঘর রেলগেট এলাকায় মাদকবিরোধী অভিযানে অংশ নেন প্রতিমন্ত্রী।
তার ফেসবুক পেজে প্রকাশিত ভিডিওতে দেখা যায়, গাড়ি থেকে নেমে আগ্নেয়াস্ত্র উঁচিয়ে কয়েকজনকে ধরতে বলছেন তিনি। এ সময় তার সঙ্গে থাকা দেহরক্ষীরাও কয়েকজনকে ধরতে এগিয়ে যান। ভিডিওতে একজনকে গুলি করার হুমকি দিতে শোনা যায়। এ ছাড়া একজন দেহরক্ষীকে এক তরুণকে লাথি মারতেও দেখা যায়।
ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর প্রশ্ন উঠেছে, মন্ত্রী বা প্রতিমন্ত্রীরা ব্যক্তিগত অস্ত্র হাতে নিয়ে কাউকে আটক করতে কিংবা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর মতো অভিযান পরিচালনা করতে পারেন কি না।
এদিকে এ ঘটনায় তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) ওয়ারী বিভাগের উপকমিশনারকে। রোববার ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার (ডিবি) শফিকুল ইসলাম এ তথ্য জানিয়েছেন। তিনি বলেন, তদন্তে আইনের ব্যত্যয় পাওয়া গেলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মূল প্রতিবেদনে যান ↗